“চাকরি জোটাতে পারেনি” বেকারদের আরশোলার সাথে তুলনা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির

Published:

Supreme Court chief justice Surya Kant made controversial statement

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বেকার হওয়া কি পাপ? সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির (Surya Kant) বক্তব্যের পর এই কথাটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে কম বয়সীদের মুখে মুখে। শুক্রবার, দেশের শীর্ষ আদালতে এক মামলার শুনানি চলাকালীন চাকরি জোটাতে না পারা কম বয়সী বেকার যুবক-যুবতীদের আরশোলার সাথে তুলনা করলেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত! তাঁর কথায়, চাকরি না করে বেকার হয়ে থাকা যুবক যুবতীরা আরশোলার মতো। এরা মিডিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়া হয়ে ওঠে, গোটা ব্যবস্থাকে আক্রমণ করে। দেশের প্রধান বিচারপতির এমন বক্তব্যে বেড়েছে বিতর্ক।

কেন আরশোলার প্রসঙ্গ টানলেন প্রধান বিচারপতি?

জানা যায়, দিল্লি হাইকোর্ট সিনিয়র আইনজীবী বা অ্যাডভোকেটদের পদমর্যাদা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের একজন শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। শুক্রবার সেই মামলার শুনানি চলাকালীন ওই আইনজীবীকে ভৎসনা করতে গিয়ে পরজীবী বা পোকামাকড়দের প্রসঙ্গ টানে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতির জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ।

এদিন সুপ্রিমকোর্টের ওই বেঞ্চ মামলাকারী আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলে, ইতিমধ্যেই সমাজে অনেক পরজীবী রয়েছে, আপনিও কি তাদের মধ্যে নাম লেখাতে চান? এরপরই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ওই আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, গোটা বিশ্বের সবাই সিনিয়র অ্যাডভোকেট হয়ে ওঠার যোগ্যতা অর্জন করলেও আপনার ভাগ্য খুলবে না। দিল্লি হাইকোর্ট যদি আপনাকে এই পদমর্যাদা দিয়েও দেয় সুপ্রিম কোর্ট আপনার কাজকর্মের হাল থেকে তা খারিজ করে দেবে।

শুক্রবার, সোশ্যাল মিডিয়ায় আইনজীবীর ব্যবহৃত ভাষার নিন্দা করতে গিয়েই আরশোলার প্রসঙ্গ টানেন দেশের প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, “আরশোলার মতো কিছু অল্প বয়সী রয়েছে যাঁরা চাকরি বাকরি জোটাতে না পারেন না।” অর্থাৎ পেশাদার জগতে নিজেদের জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হন তাঁরা। বিচারপতির আরও সংযোজন, এই ধরনের অল্প বয়সীরা মিডিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়া হয়ে ওঠে গোটা ব্যবস্থাকে দোষারোপ বা আক্রমণ করে।

 

অবশ্যই পড়ুন: ইতিহাস-ভূগোলের অংশ হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নিক! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি ভারতীয় সেনাপ্রধানের

গতকাল, দিল্লি হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবীদের পদমর্যাদা দাবি করে বারবার সুপ্রিম কোর্টে হত্যে দেওয়া আইনজীবীকে একেবারে ভৎসনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনার কি এই মামলা ছাড়া আর কোনও মামলা নেই?”এদিন ক্ষুব্দ হয়ে বিচারপতি এও বললেন, “বিচার বিভাগকে নিশানা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব গতিবিধি চলছে, শীর্ষ আদালত সেগুলোর উপর কড়া নজর রাখছে।” সবশেষে শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বললেন, তিনি এমন একটা মামলার অপেক্ষা করছেন যেখানে দিল্লির বহু অ্যাডভোকেটের এলএলবি ডিগ্রির সত্যতা যাচাই করার জন্য সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন।