সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই গতি পাচ্ছে কেন্দ্রের প্রকল্পগুলি। এতদিন আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু ছিল না বাংলায়। কিন্তু সরকার গঠন করার পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন। এবার রাজ্যের কৃষকদের জন্য বড়সড় ঘোষণা করা হল কেন্দ্রীয় সরকারের (Government of India) তরফ থেকে। সূত্রের খবর, বাংলাজুড়ে কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র (Digital Identity of Farmer) বাধ্যতামূলক করা হবে।
কৃষকদের জন্য বড় খবর
আসলে এতদিন মোদী সরকার কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র গোটা দেশজুড়ে চালু করলেও তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার তাতে অংশগ্রহণ করেনি। ফলত, দেশের কৃষকরা বঞ্চিত হয়েছিলেন। তবে এবার রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই তৎপর হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। বাংলাকে নিয়েই বড়সড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। গতকাল ভুবনেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ঝাড়খন্ড, বিহার আর ছত্তিশগড় নিয়ে একটি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। আর সেই আসরে শিবরাজ সিং স্পষ্ট বলেন যে বিহার, ওড়িশায় কৃষকদের জন্য ইতিমধ্যে পরিচয়পত্র তৈরি করা শুরু হয়েছে। বাংলাতেও এবার হবে।
জানা গিয়েছে, এই ডিজিটাল পরিচয়পত্র তৈরি হলে রাজ্যের কৃষকরা প্রচুর উপকৃত হবে। কারণ, ফসলের খতিয়ান থেকে শুরু করে বীমা, ঋণের সমস্ত তথ্য, ভর্তুকির ব্যবস্থা, জমি সংক্রান্ত তথ্য এই ডিজিটাল আইডি বা পরিচয়পত্রের সঙ্গেই নথিভুক্ত হবে। যার কারণে সরকারের পক্ষে সেই কৃষকের উপর নীতি তৈরি করা সহজ হবে। এমনকি বাংলার মোট ৭২ লক্ষ কৃষকের জন্যই এই ডিজিটাল কার্ড তৈরি হবে বলে খবর। না বললেই নয়, ২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এই পরিচয়পত্র বানানোর জন্য মোট ২৮১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল।
আরও পড়ুন: সবাই পাবেনা কন্যাশ্রীর টাকা? প্রকল্পে রাশ টানার দাবি সরকারের কাছে
উল্লেখ্য, ওই সম্মেলনে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত খাদ্যমন্ত্রী তথা বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া। তাঁর কথায়, “আমি সেখানে অনুরোধ করেছি যে এতদিন কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাংলায় বাস্তবায়ন হয়নি। আর কৃষকদের জন্য যে বরাদ্দ পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের প্রাপ্য ছিল, তা আগের সরকার হতে দেয়নি। সেই টাকা যেন ধাপে ধাপে তাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল। ২০১৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপি। তখন থেকেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার আর কৃষি সম্মেলনে প্রতিনিধি পাঠাননি। আমি গিয়ে আজ কৃষকদের ন্যায্য দাবি বুঝে এসেছি। খুব শীঘ্রই রাজ্যের কৃষকদের জন্য এই ডিজিটাল পরিচয়পত্র তৈরি হবে।”










