‘কাকে ভোট দিচ্ছ অ্যাপের মাধ্যমে দেখব,’ ভোটারদের হুমকি দিয়ে গ্রেফতার প্রাক্তন কাউন্সিলর

Published:

West Bengal Election 2026

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। তবে তার আগে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে শ্রীঘরে পৌঁছলেন শাসক দলেরই এক নেতা। বিধাননগরের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর নির্মল দত্তকে গ্রেফতার (Nirmal Dutta Arrest) করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। একটি জনসভা থেকে তিনি ভোটারদেরকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, কে কাকে ভোট দিচ্ছেন তা নাকি তিনি একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে জেনে নেবেন। আর এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা লঙ্ঘন আর ভোটারদের গোপনীয়তা অধিকার হস্তক্ষেপের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কী বলেছিলেন নির্মল দত্ত?

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার একটি ভিডিওতে নির্মল দত্তকে বলতে শোনা যায়, আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ড লিঙ্ক করা রয়েছে। কাকে ভোট দিচ্ছেন সমস্ত তথ্য জানতে পারব। এটুকু খেয়াল রাখবেন। আমাদের কাছে অ্যাপ রয়েছে। অ্যাপে দেখে নেব কার কী অবস্থান। পরে বলতে আসবেন না কিন্তু যে কেন ভুল হয়েছে। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা হয়নি ইন্ডিয়া হুডের তরফ থেকে। দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর সমর্থনে এক সভায় বক্তব্য ভাইরাল হতেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। পুলিশের বক্তব্য, ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার আর ভোটদানের গোপনীয়তা রক্ষার আইন লঙ্ঘন করেছেন তিনি। বুধবার তাঁকে থানায় তলব করার পর গ্রেফতার করা হয়েছে। আর আগামী ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নির্মল দত্তের রেশ কাটতে না কাটতেই মগরাহাট পশ্চিমের ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি ইমরান হাসান মোল্লার একটি বিতর্কিত বক্তব্য সামনে আসে। ভোটারদের সরাসরি তিনি হুমকি দেন যে, এই বুথে ৭০০ টা ভোট রয়েছে। ৭০০ টাই জোড়াফুলে দিতে হবে। অন্য জায়গায় ভোট পড়লে ভোটের ভোটের পর আর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়া হবে না। তৃণমূলের খাবে আর বেইমানি করবে তা তো হতে দেওয়া যাবে না। এমনকি তিনি আরও দাবি করেন, যারা বেইমানি করবে তাদের বউ-বাচ্চা নিয়েই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে। ২০২১ সালে ক্ষমা করলেও ২০২৬-এ কাউকে ক্ষমা করা হবে না।

আরও পড়ুন: ঢুকবে না গরম হাওয়া, বাড়বে নিরাপত্তাও, এবার লোকাল ট্রেনেও অটোমেটিক দরজা

তবে ভোটের মুখে একের পর এক শাসক দলের নেতাদের এরকম হুমকি দেওয়ার ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনীতি। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোট আদায় করার চেষ্টা করছে তৃণমূল সরকার। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন দাবি করছে, ভোটদানের গোপনীয়তা একটি মৌলিক অধিকার। আর প্রযুক্তি ব্যবহার করে কে কাকে ভোট দিচ্ছে তা জানার কোনও উপায় নেই।