নেই গ্যাস কেনার সামর্থ্য, ৮১% মানুষ রান্না করেন কাঠ-কয়লায়! ফ্লপ উজ্জ্বলা যোজনা?

Published:

Pradhan Mantri Ujjwala Yojana
Follow

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশের সাধারণ মানুষের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছে। ঠিক তেমনই যাতে সাধারণ মানুষ রান্নার গ্যাস সহজেই কিনতে পারে, তার জন্য অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প হল উজ্জ্বলা যোজনা (Pradhan Mantri Ujjwala Yojana)। তবে এবার এই প্রকল্প নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। এশিয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক বা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক সম্প্রতি একটি রিপোর্ট (ADB Report) প্রকাশ্যে এনেছে। সেই অনুযায়ী জানা গিয়েছে, সরকারের দাবি সত্ত্বেও দেশের বিপুল সংখ্যক নিম্ন আয়ের পরিবার এখনও পর্যন্ত রান্নার প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাঠ বা কয়লার উপরে নির্ভরশীল।

কী বলছে রিপোর্ট?

আসলে উজ্জ্বলা যোজনার কার্যকরিতা খতিয়ে দেখার জন্য আটটি রাজ্যের প্রায় সাড়ে ৮ হাজার পরিবারের উপর সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৮৩ শতাংশ গ্রামীণ এবং বাকিরা শহর এলাকার বাসিন্দা। রিপোর্ট মোতাবেক, সমীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত পরিবারগুলির অর্ধেকের বেশি উজ্জ্বলা যোজনা সংযোগ নেই। এমনকি যাদের মধ্যে সংযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যেও মাত্র ৮৭৬ জন রান্নার প্রধান জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করেন। আর ৩৩৬৪ জন সিলিন্ডার কিনলেও নিয়মিত কাঠ দিয়েই রান্নাবান্না করেন। পাশাপাশি প্রকল্পের বাইরে থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে মাত্র ৭৫৭ জন গ্যাস ব্যবহার করেন, আর ৩৪৭৬ জন খরচের কারণে সিলিন্ডার বুক করার কথা ভাবতেই পারেন না। সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৮১ শতাংশ পরিবার এখনও রান্নার প্রধান জ্বালানি হিসেবে পুরোপুরি ভাবে গ্যাস ব্যবহার করতে পারছেন না।

আরও পড়ুনঃ ভূমিহীন ক্ষেতমজুর প্রকল্পে আপনার আবেদন বাতিল হয়ে গেল? চেক করে নিন এক ক্লিকেই

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, সিলিন্ডারের দামের প্রায় ৩০% ভর্তুকি দেওয়া হলেও তা অনেক পরিবারের কাছে এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট ব্যয়বহুল। কারণ, একটি সিলিন্ডার কিনতে গেলেই প্রায় ৯০০ টাকা খোয়াতে হয় পকেট থেকে। আর বছরে বারোটা সিলিন্ডার কেনার সামর্থ্য অধিকাংশ পরিবারের নেই। অনেকেই বছরে একটি বা দুটি সিলিন্ডার বুক করে, এবং নিয়মিত রান্নার জন্য কাঠ বা কয়লায় ব্যবহার করেন। এডিবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, করোনা পরবর্তী সময়ে আর্থিক চাপে অনেক পরিবার আবারও সেই ঐতিহ্যবাহী জ্বালানির দিকে ফিরে গিয়েছে।

আয় এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রভাব

প্রসঙ্গত, যারা বছরে অন্তত ছয়টি করে সিলিন্ডার বুক ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে ৩৬ শতাংশর শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক কিংবা তার বেশি। আর কম সিলিন্ডার ব্যবহারকারীদের মধ্যে সেই হার মাত্র ২৭ শতাংশ। পাশাপাশি দুই শ্রেণীর গড় মাসিক আয়ের পার্থক্য প্রায় ৩৫০০ টাকা। অর্থাৎ, আয় এবং শিক্ষার স্তর বাড়লে গ্যাস ব্যবহারের হার বাড়ছে। আর সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৫৬ শতাংশ পরিবার বাড়িতে সিলিন্ডার ডেলিভারি পান আর বাকিদের গুদাম বা নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকেই সিলিন্ডার নিয়ে আসতে হয়। এতে আবার অতিরিক্ত পরিবহন খরচ হয়। গড় হিসেবে সিলিন্ডার আনতে যে সময় লাগে, তার অর্থমূল্য ঘন্টায় প্রায় ৬০ টাকা। অর্থাৎ, সেই সময় অন্য কাজে যুক্ত থাকলে আয় করা সম্ভব সাধারণ মানুষের।

আরও পড়ুন: গুলি খেয়েও ছাড়েনি লড়াই, কাশ্মীরে সন্ত্রাসীদের ডেরা খুঁজে দিয়ে জখম টাইসন

বিশেষ করে উজ্জ্বলা যোজনা প্রকল্পটি মহিলাকেন্দ্রিক হলেও বাস্তবে জ্বালানি ব্যবহারের সিদ্ধান্তে মহিলাদের ভূমিকা খুবই সীমিত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সমীক্ষা বলছে যে, উজ্জ্বলা যোজনা সুবিধাভোগী পরিবারের মাত্র ৭ শতাংশ ক্ষেত্রেই মহিলারা খরচের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আর সাধারণ সিলিন্ডার ব্যবহারকারী পরিবারের সেই হার মাত্র ৮%। অর্থাৎ অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরুষরাই নির্ধারণ করে থাকেন যে বাড়িতে কোন জ্বালানি ব্যবহার করা হবে।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now