মার্কিন-ইসরায়েলি হানায় মৃত্যু আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির! ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

Published:

Ali Khamenei
Follow

সহেলি মিত্র, কলকাতা: এ যেন একটাই যুগের অবসান ঘটল ইরানে। জানা গিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনীর মৃত্যু (Ali Khamenei Death) হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এদিকে স্বাভাবিকভাবেই দেশের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে একদিকে যখন সর্বত্র শোকের ছায়া বিরাজ করছে, তেমনই তৈরী হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী ২০২৬ সালের ১ মার্চ মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর, ইরান সরকার ৪০ দিনের জাতীয় শোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। অপরদিকে ৪৭ বছরের শাসনব্যবস্থার পতনের সাথে সাথে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী, আইআরজিসি (ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পস) এখনো আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

মৃত্যু ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খামেনীর

আইআরজিসি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত একজন নতুন উত্তরসূরি নির্বাচন করতে চায় যাতে শাসনব্যবস্থার উপর তাদের দখল বজায় রাখা যায়। এই ঘটনা কেবল ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে না বরং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতেও উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি শনিবার সকালে তেহরানে খামেনির বাসভবন এবং অফিস (কম্পাউন্ড) লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইরান প্রথমে এই দাবি অস্বীকার করলেও পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাগুলি নিশ্চিত করেছে যে ৮৬ বছর বয়সী খামেনী “শহীদ” হয়েছেন।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ধ্বংসস্তূপ থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং নেতৃত্বকে নির্মূল করার লক্ষ্যে একটি বড় যৌথ অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অপরদিকে নেতানিয়াহুও একটি বিবৃতি জারি করে বলেছেন যে খামেনী মারা গেছেন। প্রশ্ন উঠছে, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবে?

ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে?

আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যু ইরানের জন্য এক বিরাট আঘাত, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এর দশকের পুরনো ব্যবস্থার ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তার মৃত্যুর পরপরই, দেশটির সামরিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ব্যাপক বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে কমান্ডের শৃঙ্খল ভেঙে যাওয়ার ফলে আদেশ বাস্তবায়নে অসুবিধা হচ্ছে। বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল ভেঙে পড়া সামরিক কাঠামো এবং জনরোষ নিয়ন্ত্রণে সক্ষম এমন একজন নেতা খুঁজে বের করা।

আরও পড়ুনঃ দোলের আগে অনেকটাই দাম বাড়ল LPG সিলিন্ডারের, জানুন নতুন রেট

সূত্রের খবর, IRGC সাংবিধানিক সংস্থা, বিশেষজ্ঞ পরিষদ ছাড়াই নতুন নেতা নিয়োগের জন্য চাপ দিচ্ছে। তারা চায় রবিবারের মধ্যে নতুন নেতার নাম চূড়ান্ত করা হোক। সামরিক বাহিনী আশঙ্কা করছে যে নিয়োগ বিলম্বিত করলে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে।