প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) নিয়ে বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করছে একেকটা রাজনৈতিক দল। আর এই অবস্থায় ফের খবরের শিরোনামে উঠে এল আইপ্যাক মামলা (IPAC ED Case)। আর এই মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কাণ্ডকারখানাকে ভালো চোখে দেখল না সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। অন্যদিকে বুধবার শুনানি শুরু হতেই জবাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চাইল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। যার বিরোধিতা করেন কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের
বুধবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়া বেঞ্চে ফের সময় চেয়ে আবেদন জানান রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাতে সলিসেটর জেনারেল তুষার মেহেতার বক্তব্য, “সময় নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ।” ইতিমধ্যেই রাজ্যকে যে আদালত চার সপ্তাহ সময় দিয়ে দিয়েছে, তা স্মরণ করান বিচারপতি। পাশাপাশি এদিন শীর্ষ আদালত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গে জানায়, “ED-র তদন্তে কোনও মুখ্যমন্ত্রীর ঢুকে পড়াটা অনভিপ্রেত। যদি আর্টিকেল ৩২ বা আর্টিকেল ২২৬ অনুযায়ী মামলা করা না যায়, তাহলে কী করা যাবে? ভবিষ্যতে যদি অন্য কোনও মুখ্যমন্ত্রীও এ ভাবে অন্য কোনও দফতরে প্রবেশ করেন, তখন তার বিচার কী ভাবে হবে?”
প্রশ্নের মুখে ED-র মৌলিক অধিকার
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলায় সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নথি চুরির অভিযোগ এনেছিল ED। এর আগে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা পেশ করেছিল ED। হলফনামায় ইডি-র তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়, “নথি নেওয়ার আগে কোনও তদন্তকারী আধিকারিকের অনুমতি নেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে নথিগুলি নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা তৃণমূলের নাকি কয়লাপাচারের সে সম্পর্কে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এছাড়াও ED এও দাবি করেছিল যে ইডি র আধিকারিকদের কাজে বাধা দিয়ে এবং তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৩১ মার্চের পর শুধু আধার দিয়ে বানানো যাবে না প্যান কার্ড! কী কী লাগবে জানুন
মামলা করার প্রসঙ্গে আজ, শুনানির সময় রাজ্যের তরফে বলা হয়, “আমরা বলছি, কেন্দ্রীয় সরকার এক্ষেত্রে মামলা করতে পারে। কিন্তু কোন দপ্তর নয় বা CID বা ইডির মত সংস্থা নয়। যদি তারা করেন, তাহলে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৫ ধারা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করে এ ধরনের সংস্থার ক্ষমতা এক্তিয়ার সব নতুন করে ঠিক করতে হবে।” এছাড়াও এদিন শুনানি শুরু হতেই ED-র জবাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী।, আর তাতে সায় দিল আদালত।












