সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সম্প্রতি হরিশ রানাকে (Harish Rana) ইচ্ছামৃত্যু বা প্যাসিভ ইউথেনেসিয়ার (Passive Euthanasia) রায় দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। আর এটি ভারতের মধ্যে প্রথম ইচ্ছামৃত্যুর রায়। তবে মুম্বাইয়ের ৩৫ বছর বয়সী আনন্দ দীক্ষিতকেও (Anand Dixit) এবার একইভাবে মুক্তি দিতে চাইছে তাঁর পরিবার। জানা যাচ্ছে, জীবন আর মৃত্যুর মাঝেই কোনওক্রমে নিজের ছেলের প্রাণটুকু নিয়ে লড়াই করছে মহারাষ্ট্রের এই পরিবার। গত আড়াই বছর ধরেই সে ভেজিটেটিভ স্টেটে। ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর থেকেই তিনি কোমায় রয়েছেন। তাহলে কি সুপ্রিম কোর্ট আবারও তাঁকে ইচ্ছামৃত্যুর রায় দেবে?
কী ঘটেছিল ঠিক তাঁর সঙ্গে?
জানা যাচ্ছে, ২০২৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন আনন্দ। সেদিন তিনি নতুন স্কুটার কিনেছিলেন। তবে সেই স্বপ্ন মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অচেতন হয়ে যান আনন্দ, এবং তখন থেকেই তিনি কোমায় রয়েছেন। আর এখন টিউবের মাধ্যমে তাঁকে খাবার খাওয়ানো হয় আর মেশিনের মাধ্যমেই চলে শ্বাসপ্রশ্বাস। বিগত ১৮ মাস ধরে তাঁর নীরবতা এখনো পর্যন্ত ভাঙেনি। এমনকি চোখের পলক পর্যন্ত পড়ে না। শুধুমাত্র শরীরের ভেতরে প্রাণটুকুই আছে।
তবে সবথেকে বড় ব্যাপার, এই লড়াইয়ের পিছনে তাঁর পরিবারের অবদান অনস্বীকার্য। কারণ, চিকিৎসার খরচই ১৮ মাসে ৪ কোটির গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। জমি বিক্রি থেকে শুরু করে জমানো সঞ্চয়, সবকিছুই ছেলের প্রাণ বাঁচাতে শেষ হয়েছে। এমনকি তার মাঝেই লাগে বিরাট ধাক্কা। কারণ, আনন্দ যখন হাসপাতালে ভর্তি, তখন মিউনিসিপাল কর্পোরেশন তাঁদের একমাত্র বাড়িটিকেই ভেঙে দেয়। জানা যাচ্ছে, আইন এবং নির্মাণ জটিলতার কারণেই প্রশাসন তাঁদের উপর এই জুলুম খাটায়। যার ফলে তাঁর পরিবার এখন ভাড়া বাড়িতে রয়েছে এবং কোনওক্রমে দুবেলা দুমুঠো খাওয়া জোটে। ছেলের চিকিৎসার পেছনেই সিংহভাগ টাকা খরচ হয়।
আরও পড়ুন: ফাঁকা সিলিন্ডারে নিজেই ভরে আনুন গ্যাস, দেশে চালু হল প্রথম LPG ATM পরিষেবা
বেশ কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী খবর, তাঁর চিকিৎসা চলছে কেয়ার হেলথ ইন্সুরেন্সের আওতায়। তবে এখন সেই চিকিৎসার খরচ মেটাতেই অস্বীকার করছে সংস্থা। যার ফলে আরও ৫০ লক্ষ টাকার ঋণের বোঝা চেপেছে ওই পরিবারের উপর। তাঁর বাবা-মায়ের এখন একটাই প্রার্থনা, ছেলে একবার শুধুমাত্র মা-বাবা বলে ডাকুক। কিন্তু সে আর হচ্ছে কোথায়! ১৮ মাস ধরে তো চোখটুকুও খোলেনি সে। সেই কারণেই তাঁর পরিবার এখন তাঁকে মুক্তি দিতে চাইছে। কারণ, সম্প্রতি হরিশ রানাকে ইচ্ছামৃত্যুর রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এখন দেখার, তাঁকে আইনের মাধ্যমে কোনও সম্মানজনক বিদায় দেওয়া হয় কিনা।












