সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের (Middle East War) প্রভাব এবার ভারতের হেঁসেলে। ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের মধ্যেকার উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের আকাল তো পড়েছেই (LPG Crisis)। তারই মধ্যে আবার পেট্রোল-ডিজেলের সরবরাহ নিয়েও টানাটানি। আর এই জরুরি অবস্থায় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এবার বিরাট সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কেন্দ্র সরকার। এখন থেকে সাধারণ গ্রাহকরা রেশনের দীর্ঘ লাইনে না দাঁড়িয়ে নিকটবর্তী কোনও পেট্রোল পাম্পে গিয়েই কেরোসিন তেল সংগ্রহ করতে পারবে (Kerosene in Petrol Pump)।
বড়সড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের
বর্তমান সময় দাঁড়িয়ে হরমুজ প্রণালী এবং ওমান সাগরের উত্তেজনার জেরে খনিজ তেল এবং গ্যাসের যোগানে ঘাটতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। সেই কারণেই দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এবং সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের উপর চাপের বোঝা কমানোর জন্যই কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক বড়সড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। জানা যাচ্ছে, আপাতত আগামী ৬০ দিনের জন্য কেরোসিন বিক্রির জন্য এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে। এতদিন যাবৎ কেরোসিন মূলত গণবন্টন ব্যবস্থা বা রেশনের মাধ্যমে পাওয়া যেত। তবে এখন থেকে পেট্রোল পাম্পগুলোতেই কেরোসিন মজুদ বা বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা যারা রান্নার জন্য কেরোসিনের উপর নির্ভরশীল, তারা এর ফলে উপকৃত হবেন।
এ নিয়ে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময় কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত সত্যিই প্রশাসনিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। রেশনের দোকানে নির্দিষ্ট সময়ের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে পাম্প থেকে কেরোসিন পাওয়া সাধারণ মানুষকে অনেকটাই সুরহা দেবে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি অনুযায়ী এই মেয়াদের সময়সীমা পরবর্তী সময়ে বাড়ানো হতে পারে।
Govt has issued a notification allowing distribution of Superior Kerosene Oil (SKO) under the Public Distribution System to 21 states and Union Territories, citing global energy supply concerns. To facilitate this, oil marketing companies can temporarily store up to 2,500 litres… pic.twitter.com/qT859FACUD
— IANS (@ians_india) March 29, 2026
আরও পড়ুন: ৪৫ ডিগ্রি গরমেও ট্যাংকের জল থাকবে বরফের মতো ঠান্ডা! নামমাত্র খরচে করুন এই কাজ
বলাবাহুল্য, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে শুধুমাত্র যে পশ্চিমবঙ্গে গ্যাসের সংকট দেখা গিয়েছে এমন নয়। বরং গোটা দেশেই হেঁসেলে টান পড়েছে। এমনকি রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে বিভিন্ন হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গ্যাসের অভাবে। গ্যাসের সিলেন্ডার নিয়ে দিনের পর দিন উদ্বেগ বাড়ছিল। আর সরকারের এই মুশকিল আসান সিদ্ধান্তে হোটেল মালিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ যে উপকৃত হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু হ্যাঁ, খোলা বাজারে কেরোসিনের দাম লিটার প্রতি কত রাখা হবে সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে কিছু জানানো হয়নি।












