প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), হাতে ১ মাসও নেই সময়, তাই দিন রাত এক করে চলছে ভোট প্রচার। যার যার কেন্দ্রে জনসংযোগ বৃদ্ধির জন্য স্থানীয়দের সঙ্গে যেমন আলাপচারিতা চলছে ঠিক তেমনই কর্মীদের সঙ্গে চলছে একের পর এক বৈঠক। আর এই অবস্থায় বিধানসভা ভোটের আগে দমদমে ব্রাত্য বসুর (Bratya Basu) কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে উঠল বিতর্ক। তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে দলের অন্দরে ক্ষোভ প্রকাশ্যে এল।
বিতর্কিত মন্তব্য ব্রাত্য বসুর
বিধানসভা ভোটের আগে দমদমে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে তাঁকে দমদমের কর্মী সভায় বৈঠক করতে দেখা যায়। এবং বলতে শোনা যায়, “কর্মীরা এখানে ছত্রভঙ্গ হয়ে আছেন, কর্মীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে আছেন। দল অনেকগুলো গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে, আমি আমার ভোটে গোষ্ঠীবাজি মানব না। ভোটের শেষে প্রতিটা বুথে কী রেজাল্ট হয়েছে দেখে দলনেত্রীকে চিঠি লিখব। চিঠি লিখে জানাব ২০২৭-এ এখান থেকে কাকে পুর প্রতিনিধি করা যেতে পারে।” আর এই বক্তব্য ভাইরাল হতেই দলের অন্দরে বেশ অসন্তোষ ছড়িয়েছে। তাই এবার সেই নিয়ে মুখ খুললেন ব্রাত্য বসু।
বক্তব্যের ব্যাখ্যা ব্রাত্যর
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সাংবাদিকদের জানান, “এটা আমার দক্ষিণ দমদমের ৩ ওয়ার্ডের দলীয় কর্মীসভা। যে ওয়ার্ডে কোনও কাউন্সিলর নেই। ফলে ওয়ার্ডটা একটু ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন। তাই ওই ওয়ার্ডে আমি কর্মীসভা করেছি। ভোটের আগে কর্মীদের একত্রিত করার জন্য কথা বলেছি। আমার এলাকার মধ্যে কর্মীসভায় কী বলেছি, কেন বলেছি, তার বেশি ব্যাখ্যা আমি দিতে পারব না। যেটা ভাল মনে হয়েছে বলেছি। এটা সম্পূর্ণ দলগত ব্যাপার।” সামনেই যেহেতু নির্বাচনের দিন এগিয়ে আসছে সেই নিরিখে সকলেই এখন বেশ ব্যস্ত ভোটের প্রচার কাজে। এই অবস্থায় এক অপরকে কটাক্ষ করে চলেছেন রাজনীতিবিদরা। কিছুদিন আগেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘ভিক্টিম কার্ডের’ রাজনীতির অভিযোগ তুলেছিলেন অমিত শাহ।
নির্বাচনের মুখে মমতাকে কটাক্ষ অমিতের
মূলত তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে একটি ৩৫ পাতার ‘চার্জশিট’ প্রকাশ্যে এনেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তখনই তিনি বলেছিলেন, “ মমতা দিদি সবসময় ভিক্টিম কার্ডের রাজনীতি করেন। কখনও পা ভেঙে ফেলেন। কখনও মাথায় ব্যান্ডেজ করান। কখনও অসুস্থ হয়ে পড়েন। কখনও নির্বাচন কমিশনের সামনে বেচারা সেজে, নির্বাচন কমিশনকে গালিগালাজ করেন। কিন্তু মমতা দিদি আমি আপনাকে বলতে এসেছি যে, আপনার এই রাজনীতি, ভিক্টিম কার্ডের রাজনীতি বাংলার জনগণ এখন ভাল বুঝে গেছে।” এই নিয়ে পাল্টা কটাক্ষ করেছিলেন ব্রাত্য বসু।
আরও পড়ুন: হার মানাবে ট্রেনকেও, চালু হল কলকাতা থেকে পাটনা অত্যাধুনিক বাস, জানুন রুট
সাংবাদিক বৈঠক করে ব্রাত্য বসু বলেন, ‘বাংলায় এসে নারী নির্যাতনের কথা বলছেন, হাথরস-উন্নাও নিয়ে কেন চুপ? পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, পহেলগাঁওয়ে কী হয়েছিল? মনিপুর নিয়ে একটা কথা বলছেন না কেন? ব্রিজভূষণ নিয়ে কথা বলছেন না কেন? আমরা ভয়ে কাঁপছি কবে আবার সংসদে বিস্ফোরণ হয়।” এছাড়াও অমিত শাহকে আরও কটাক্ষ করে ব্রাত্য বসু বলেন, “বাঙালিদের অপমান করেছেন অমিত শাহ। ভোটাধিকার কাড়তে চায় বিজেপি, তৃণমূল মানুষের অধিকার রক্ষা করে।”












