থোরিয়াম দিয়েই তৈরি হবে বিদ্যুৎ, পরমাণু শক্তি উৎপাদনে গোটা বিশ্বকে তাক লাগাল ভারত

Published:

India Nuclear Reactor

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় সাফল্য পেল ভারত (India Nuclear Reactor)। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝেই সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভারতীয় পরমাণু চুল্লিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে চেইন রিঅ্যাকশনে সফল হয়েছেন স্বদেশী বিজ্ঞানীরা। এর ফলে জ্বালানি উৎপাদনে নতুন রেকর্ড করেছে নয়া দিল্লি। তামিলনাড়ুর কলপাক্কামে প্রোটোটাইপ ফার্স্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর এর এমন সাফল্য এর মধ্যে দিয়ে ভারত নজরে এসেছে গোটা বিশ্বের। সে কথা জানিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

রাশিয়ার পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বড় সাফল্য ভারতের

তামিলনাড়ুর কলপাক্কামে PFBR এর নয়া সাফল্যের কারণে দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। জানা যাচ্ছে, এই নয়া রিয়েক্টর ব্যবহার করে সাধারণ জ্বালানির তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করা যায়। মঙ্গলবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশের এমন সাফল্য প্রকাশ্যে আনেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি লিখেছিলেন, “বেসামরিক পারমাণবিক যাত্রায় যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে ভারত। PFBR এর সাফল্য ভারতের পরমাণু কর্মসূচিকে দ্বিতীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। যা পরমাণু বিজ্ঞানের জগতে এক বড় কীর্তি।”

এদিন এমন সাফল্যের পর গর্বের মুহূর্ত স্মরণ করে দেশের বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী এও বলেন, “পারমাণবিক বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে ভারতের নয়া সাফল্যের পর আমাদের পরবর্তী ধাপ বা লক্ষ দেশে যে বিশাল থোরিয়ামের ভান্ডার আছে সেটাকে কাজে লাগানো।” বলে রাখি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন সাফল্যের পর রাশিয়ার পরে দ্বিতীয় দেশ হয়ে উঠেছে ভারত।

 

বলাই বাহুল্য, পরমাণু ক্ষেত্রে এই সাফল্যের সাথে সাথে রয়েছে বিপদের ঝুঁকিও। আসলে এই ধরনের পরমাণু চুল্লি থেকে যে জল বা ছাই নির্গত হয় তা অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় অর্থাৎ ক্ষতিকর। এই পদার্থ বাতাসের সাথে মিশে মারণরোগ ক্যান্সার সহ অন্যান্য দুরারোগ্য ব্যাধির সৃষ্টি করে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই তেজস্ক্রিয় পদার্থ বাতাসের সাথে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের সংস্পর্শে এলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। কম বেশি সকলেই জানেন, ঝাড়খণ্ডের জাদুগোড়া ইউরেনিয়াম খনি থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয় পদার্থের কারণে ওই অঞ্চলের 25 শতাংশ শিশু কোনও না কোনও শারীরিক সমস্যা বা বিকলাঙ্গতায় ভুগছে।

অবশ্যই পড়ুন: রাশিয়া অতীত! হরমুজ নিয়ে চিন্তার মাঝেই এই দেশ থেকে তেল আসছে ভারতে

প্রসঙ্গত, 140 কোটির দেশ ভারতে বিদ্যুতের বিপুল চাহিদা থাকায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়াতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। এখানেই শেষ নয়, আগামী দিনে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ইউরেনিয়ামের পরিবর্তে তৃতীয় ধাপে থোরিয়ামকে কাজে লাগাতে চায় সরকার। সে কথাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, এক কেজি থোরিয়াম থেকে প্রায় 90 লাখ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। যা কয়েক হাজার পরিবারের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাবে।

google button