প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অবশেষে দীর্ঘ ১০ বছরের মামলার নিষ্পত্তি, পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (West Bengal Board Of Primary Education) আয়োজিত ২০১৪ সালের প্রাথমিক টেট পরীক্ষায় ভুল প্রশ্ন নিয়ে করা মামলার জট কাটল। দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। জানা গিয়েছে হাইকোর্টের রায়কে বহাল রেখেই ৬টি ভুল প্রশ্নের জন্য সকল পরীক্ষার্থীকে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পর্ষদকে। যার জেরে হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হল।
টেটে ৬ টি ভুল প্রশ্ন নিয়ে ফের বিতর্ক
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের প্রাথমিক টেটে ৬ টি প্রশ্ন ভুল মামলার শুরুতে হাইকোর্টের একক বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল যে, প্রতিভা মন্ডল সহ যে মামলাকারীরা শুধুমাত্র ওই প্রশ্নগুলি অ্যাটেম্পট করেছেন, তাঁরাই নম্বর পাবেন। কিন্তু সেই রায়ে অনেকেই সন্তুষ্ট না হয়ে ফের আইনি পথে হাঁটেন। সেই সময় বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল যে, প্রশ্ন ভুল থাকার দায় কোনোভাবেই পরীক্ষার্থীদের নয়, এটি পর্ষদের গাফিলতি। তাই ৬টি ভুল প্রশ্নের জন্য ৬ নম্বর সকল পরীক্ষার্থীকেই দিতে হবে। কিন্তু সেই রায় মানতে নারাজ পর্ষদ, তাই সেই নির্দেশে বিরোধিতা করে ২০২৩ সালে শীর্ষ আদালতে জানায় যে, সকল পরীক্ষার্থীকে এই নম্বর দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এবার হাইকোর্টের রায়কেই বহাল রাখল।
হাইকোর্টের রায় বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট
রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পি. এস. নরসিংহ এবং বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চে ২০১৪ সালের প্রাথমিক টেটে ৬ টি প্রশ্ন ভুল নিয়ে করা মামলা উঠেছিল। আর সেখানেই রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের আবেদন খারিজ করে দেন তাঁরা। মামলার শুনানিতে পর্ষদের আইনজীবী বলেন, ‘যাঁরা ওই ৬ টি প্রশ্নের উত্তর দেননি, তাঁদের কেন এই নম্বর দেওয়া হবে?’ এর পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত জানায়, ‘ এতে পরীক্ষার্থীদের কোনও ভূমিকাই নেই। পর্ষদের ভুলের কারণে কেন পরীক্ষার্থীরা ভুগবেন! যেহেতু ওটা পর্ষদের ভুল, তাই প্রত্যেককেই অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া উচিত। হাইকোর্টের অবস্থানই সঠিক। আমরা হস্তক্ষেপ করব না।’ চার মাসের মধ্যে নতুন করে ফলপ্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
আরও পড়ুন: ‘আমরা সুদ দাবি করিনি, তাহলে কেন ১৮%!’ DA পেয়েও নাখুশ রাজ্য সরকারের কর্মীরা
প্যানেলে রদবদলের সম্ভাবনা
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে আনন্দিত ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার্থীরা। কারণ সকলেই অতিরিক্ত ৬ নম্বর করে পাবেন। তবে এর জন্য নতুন করে প্যানেল প্রকাশ করতে হবে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে। কারণ পরীক্ষার্থীদের মোট নম্বরের সঙ্গে অতিরিক্ত ৬ নম্বর যোগ করা হলে প্যানেলে রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে। জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালের প্রাথমিক টেট পরীক্ষায় প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। এর ফলে যাঁরা ১, ২, ৩, ৪, ৫ বা ৬ নম্বরের জন্য এতদিন উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাঁরা প্রত্যেকেই এবার উত্তীর্ণ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। শিক্ষামহলের একাংশের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় বহুদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে পরীক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পথে এক বড় উদাহরণ।












