প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অনুপ্রবেশ ইস্যু (Bangladeshi Infiltrators) নিয়ে শুরু থেকেই বরাবর পূর্বতন সরকার তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে আঙুল তুলেছিল কেন্দ্র। এমনকি ২৬ এর নির্বাচনের আগে ভোটের প্রচারের সময় তৃণমূলকে এই ইস্যু নিয়েই কটাক্ষ করেছিল অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদী। স্পষ্ট জানানো হয়েছিল যে বিজেপিতে ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো হবে, আর এবার সেই কথাই রাখতে চলেছে সরকার। ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট নীতি লাগু হতেই মুর্শিদাবাদে (Murshidabad Holding Centre) বন্দি হল ৩ বাংলাদেশি।
হোল্ডিং সেন্টারে ৩ বাংলাদেশিকে বন্দি
গত ২৩ মে রাইটার্স বিল্ডিংসের ফরেনার্স ব্রাঞ্চ থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকের কাছে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল। সেই নির্দেশিকায় রাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিক এবং সাজা শেষের পর প্রত্যর্পণের অপেক্ষায় থাকা বন্দিদের রাখার জন্য প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা অস্থায়ী আবাসন গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই নির্দেশিকার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই আজ, লালগোলার পদ্মাভবনে তৈরি হোল্ডিং সেন্টারে ৩ বাংলাদেশিকে রাখা হল। সূত্রের খবর, সেখানে থাকা ৩ জনই নাকি পুরুষ। তাঁদের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। তবে বিস্তারিত অন্য কোনও তথ্য এখনও জানা যায়নি।
কারা থাকবেন হোল্ডিং সেন্টারে?
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, সীমান্ত পেরনো অনুপ্রবেশকারীকে ধরা মাত্র পুলিশ তাদের পাঠাবে হোল্ডিং সেন্টারে। তবে এবার ছাড়াও আরও দুই ধরনের লোক রাখা হবে। যারা জেলবন্দি, তাদের আর আদালতে পেশ না করে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। এবং তৃতীয়ত, সাজার মেয়াদ শেষ হওয়া বাংলাদেশি, যাঁরা আইনি জটিলতায় আটকে, তাঁদেরও রাখা হবে একই জায়গায়। জানা গিয়েছে, সরকারী নিয়ম অনুযায়ী, তাদের BSF-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে, তারপর বাংলাদেশে পুশব্যাক। আপাতত হোল্ডিং সেন্টারের বাইরে তালা বন্ধ করা হয়েছে এবং বাইরে পাহারায় আছেন সিভিক ভলান্টিয়রর।
আরও পড়ুন: বৃদ্ধর জমি নিয়ে ফ্ল্যাট দেয়নি সোনা পাপ্পুরা, জনতার দরবারে সমাধানের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২ মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ফরেনার্স ডিভিশনের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে একটি আট পাতার নির্দেশিকা জারি করেছিল। তাতে অনুপ্রবেশকারীদের বাঁধা দেওয়ার জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির কথাও বলা হয়েছিল। যাঁরা মূলত CAA-এর আওতায় নেই, তাঁরাই অনুুুপ্রবেশকারী হিসাবে চিহ্নিত হয়েছেন। এবার বাংলায় বিজেপি আসতেই এই ব্যবস্থা নিয়ে উঠে পড়ে লাগল গেরুয়া শিবির।










