বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: তিনি নিজেই ছিলেন গোটা মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি। চিরসবুজ সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে রবিবারই সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন। মৃত্যুকালে গায়িকার বয়স হয়েছিল 92 বছর। নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রচুর পুরস্কার পেয়েছেন তিনি (Asha Bhosle Net Worth)। অর্জন করেছেন বিপুল সম্মান, নাম, যশ এবং প্রতিপত্তি। গায়িকার মৃত্যুর পরই তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া। অনেকেই জানতে চাইছেন, একজন সফল সংগীতশিল্পী হিসেবে নিজের পরিবার অর্থাৎ ছেলেদের জন্য কত টাকা রেখে গিয়েছেন আশা ভোঁসলে?
কীভাবে মৃত্যু হল আশার?
শনিবার হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মুম্বইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন গায়িকা আশা ভোঁসলে। পরিবার সূত্রে খবর, ফুসফুস জনিত বেশ কিছু সমস্যাতেও দীর্ঘদিন ভুগছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, গতকাল হাসপাতালে ভর্তি করার পর দীর্ঘক্ষণ চিকিৎসা চলে গায়িকার। শেষ পর্যন্ত শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ICU তে। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন তিনি। ANI এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী, মাল্টি অর্গান ফেলিওর হয়েছিল প্রখ্যাত গায়িকার। সে জন্যই মৃত্যু।
কত সম্পত্তি রেখে গিয়েছেন আশা ভোঁসলে?
বলিউডের অসংখ্য হিন্দি মুভির পাশাপাশি অন্যান্য ভাষাতেও গান গেয়েছেন আশা ভোঁসলে। এছাড়াও একাধিক অ্যালবামে গান রয়েছে লতা মঙ্গেশকরের বোনের। বিভিন্ন ভাষা মিলিয়ে 12 হাজারেরও বেশি গান রয়েছে সদ্য প্রয়াত আশার। জানা যায়, গান গাওয়ার পাশাপাশি রান্না করতেও প্রচন্ড পছন্দ করতেন গায়িকা। সে কথা বেশ কয়েকবার টিভি শোতে জানিয়েছিলেন তিনি। উল্লেখযোগ্য বিষয়, 2002 সালে দুবাইয়ে একটি রেস্তোরার চেইন খুলেছিলেন আশা। যার নাম দেওয়া হয়েছিল Asha’s। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে সেই রেস্তোরাঁর আউটলেট ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের নানান প্রান্তে।
জানলে অবাক হবেন, আশা ভোঁসলের রেস্তরার আউটলেট রয়েছে বাহরিন থেকে শুরু করে ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম এমনকি কুয়েতেও। নিজের কর্মজীবনে গান গেয়ে প্রচুর অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি নিজস্ব রেস্টুরেন্টের ব্যবসা থেকে একটা বড় অঙ্ক ঢুকেছে আশার অ্যাকাউন্টে। একাধিক রিপোর্ট এবং সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে পর্যন্ত আশা ভোঁসলে প্রায় 250 কোটি টাকার মালিক ছিলেন। বলে রাখি, বিভিন্ন রেস্তোরাঁর পাশাপাশি মুম্বই ও পুনে সহ দেশের বেশ কয়েকটি শহরে আশার নামে একাধিক বাড়ি রয়েছে। সেইসব বাড়ির দাম বর্তমান বাজারে 100 কোটি টাকা বা তারও বেশি।
অবশ্যই পড়ুন: বয়স কমিয়ে খেলছেন বৈভব সূর্যবংশী? প্রমাণ দিচ্ছে BCCI-র রিপোর্ট
প্রসঙ্গত, 8 দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীত জগতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার কারণে অসংখ্য পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়েছিলেন দেশের এই স্বনামধন্য গায়িকা। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার থেকে শুরু করে পদ্মভূষণ সবই আজও প্রয়াত গায়িকার ঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। বলে রাখা ভাল, 1987 সালে নাইটেঙ্গেলস অফ এশিয়া সম্মান পেয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। এছাড়াও বঙ্গবিভূষণ, মহারাষ্ট্র সম্মান এমনকি ফিল্মফেয়ারের মতো একাধিক সম্মান তো রয়েছেই।












