প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Election 2026) সামনে রেখে একের পর এক কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারির নির্দেশ দিয়ে চলেছে নির্বাচন কমিশন। আসলে শান্তিপূর্ণ ভোটপর্ব সুনিশ্চিত করাই কমিশনের মূল লক্ষ্য। এমতাবস্থায় প্রিভেনটিভ অ্যারেস্ট’ (Preventive Arrest) নিয়ে কড়াকড়ি হল কমিশন (Election Commission Of India)। বেঁধে দেওয়া হল সময়সীমা। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগেই গরাদে পুরতে হবে দাগিদের। নির্দেশের অনথা করলেই বড় শাস্তি ভোগ করতে হবে পুলিশ প্রশাসনকে।
প্রিভেনটিভ অ্যারেস্ট নিয়ে কড়াকড়ি কমিশন
প্রতিবারই নির্বাচনের আগে ‘প্রিভেনটিভ অ্যারেস্ট’ সংক্রান্ত এই নির্দেশ আসে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে। কিন্তু, এ বারের নির্বাচনের আবহ যেন অন্যরকম। নির্বাচন সুষ্ঠভাবে করার জন্য ভোটের দিন ঘোষণার পরেই রাতারাতি পুলিশ–প্রশাসনে রদবদল করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। তাই এবার প্রিভেনটিভ অ্যারেস্ট নিয়ে বড় পদক্ষেপ করা হল। জানানো হয়েছে ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগেই সংশোধনাগারে ঢোকাতে হবে এলাকার দাগিদের। অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল ভোট হলে সেখানে ১৯ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল ভোট হলে সেখানে ২৫ এপ্রিল জেলে ঢোকাতে হবে দাগিদের।
৯০ জন দাগি দুষ্কৃতীর তালিকা পাঠানো হয়েছে
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে প্রতিটি থানাকে তাদের এলাকার সবচেয়ে সক্রিয় ১০ জন দাগি অপরাধীর নাম আলাদা করে জমা দিতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের সমস্ত থানার তরফে এখনও পর্যন্ত প্রায় মোট ৯০ জন দাগি দুষ্কৃতীর নাম কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও শহরের প্রতিটি থানার অ্যান্টি রাউডি অফিসারদের নিজেদের এলাকার দুষ্কৃতীদের তালিকা ‘রাফ রেজিস্টার’-এ নথিভুক্ত করে ডেপুটি কমিশনারদের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়াও চলছে। এই প্রসঙ্গে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ বলেন, ‘প্রতিটি থানায় অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।’
বিশেষ অভিযান পুলিশ কর্তাদের
লালবাজার সূত্রের খবর বেলেঘাটা, তপসিয়া–তিলজলা, কড়েয়া, ফুলবাগান, বন্দর, ভাঙড় এলাকায় বিশেষ নজরদারি চলছে। বেহালা, পর্ণশ্রী এবং ঠাকুরপুকুর, গিরিশপার্ক, জোড়াবাগান, কলেজস্ট্রিট এলাকাও পুলিশের নজরে রয়েছে। ওই সমস্ত এলাকাতে বিশেষ অভিযানও চলছে। দাগিদের সতর্ক করার পরেও যদি কোনো অনুচিত কাজ করে তাহলে ‘হ্যাবিচুয়াল অফেন্ডার’–দের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনারদের।
আরও পড়ুন: কর্মীদের মতোই পেনশনভোগীরা DA-র সমান অধিকারী! পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের
নির্বাচন কমিশনার ভোটের আবহে সমস্ত জেল ও সংশোধনাগারে নিয়মিত ‘সারপ্রাইজ চেক’-এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল বা সুপারিন্টেনডেন্ট পদমর্যাদার আধিকারিকদের নেতৃত্বে এই ‘সারপ্রাইজ চেক’ বা তল্লাশি চালাতে হবে। আসলে অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা জেলে থেকেও বাইরের সঙ্গে বেআইনি যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাই এইসকল অনভিপ্রেত কার্যকলাপ রুখতেই এই ‘সারপ্রাইজ চেক’-এর কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।












