সৌভিক মুখার্জী, রায়গঞ্জ: সামনেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। তবে সেই ভোটের দামামা বাজার আগেই রক্তাক্ত হল উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ (Raiganj)। বাড়িতে বসে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রিসাইডিং অফিসার এবং গ্রামবাসীদের ঝামেলার মাঝে পড়েই মৃত্যু হল এক বৃদ্ধার। সোমবার সকালে রায়গঞ্জ বিধানসভার মাড়াইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ভিটি বুথ এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে খবর, যাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে মৃত্যু
রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার সকালে রায়গঞ্জে বয়স্ক এবং বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট গ্রহণের কাজ শুরু করেছিলেন ভোট কর্মীরা। তাঁদের সঙ্গে কেন্দ্রবাহিনীও ছিল। তবে স্থানীয় দৃষ্টিহীন বাসিন্দা কালু শেখের বাড়িতে যখন ভোটগ্রহণের জন্য যাওয়া হয়, তখনই এই ঝামেলার সূত্রপাত। পরিবারের অভিযোগ, কালু শেখের বিশেষভাবে সক্ষম মেয়ে ভোট দানের সময় সেখানে উপস্থিত থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভোট কর্মীরা এবং প্রিসাইডিং অফিসার তাঁকে জানিয়ে দেন যে, ভোট গ্রহণের সময় পরিবারের কাউকে থাকতে দেওয়া হবে না। নিয়মমাফিক প্রিসাইডিং অফিসার একাই সেই ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। আর এ নিয়েই শুরু হয় বাগবিতণ্ডা।
ঝামেলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেখানে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী এবং নেতৃত্বরা উপস্থিত হন। এমনকি পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে এই পরিস্থিতি নিয়ে হাওয়া আরও গরম হয়। অভিযোগ, এই উত্তেজনার মধ্যেই আচমকা অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কালু শেখের স্ত্রী তফিজান বিবি। তৎক্ষণাৎ তাঁকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, চরম মানসিক উদ্বেগের মধ্যে পড়েই তাঁর গরমের মধ্যে স্ট্রোক হয়ে মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুন: গাড়িতে এই বিশেষ নম্বর প্লেট ছাড়া মিলবে না PUC সার্টিফিকেট, ১৫ এপ্রিল থেকেই কার্যকর
এদিকে মৃতার মেয়ে জাহিদা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন যে, বাড়ির ভেতরে জোরজবরদস্তি ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। ভোট কর্মীদের ব্যবহারের চাপ মা সহ্য করতে পারেননি। অন্যদিকে তৃণমূলের নেতা আলতাফ হোসেন বলেন, কমিশন কোনও ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে ভোট নিতে এসেছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে সাধারণ মানুষের কোনও নিরাপত্তা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ না আসা পর্যন্ত আমরা ভোট কর্মীদেরকে ঘেরাও করে রাখব। যদিও এই ঘটনা নিয়ে এখনও গোটা এলাকায় থমথমে অবস্থা।












