প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: শিয়রে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), এমতাবস্থায় ভোট প্রচারকে কেন্দ্র করে তৃণমূল বিজেপির মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হল মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র ভবানীপুরে (Bhowanipore)। সোমবার রাতের অন্ধকারে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির পোস্টার, ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগ (TMC BJP Clash) উঠল। অন্যদিকে বরাহনগরেও রাতের অন্ধকারে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ছবি ফুটে উঠল। ফের প্রশ্নের মুখে উঠে এল পুলিশের ভূমিকা
ঠিক কী ঘটেছিল?
গত বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামে হেরে গিয়েও উপনির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেই জয়লাভ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানেই বিজেপির ব্যানার এবং পতাকা ছেঁড়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। রিপোর্ট মোতাবেক গতকাল অর্থাৎ সোমবার রাতে বিজেপির অভিযোগ, জগুবাবুর বাজারের কাছে পতাকা, ব্যানার ছেঁড়ার সময় শাসকদলের কর্মীদের ধাওয়া করা হয় তখনই অভিযুক্তরা ভবানীপুর থানায় আশ্রয় নেয় বলে অভিযোগ। রাতের অন্ধকারে এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
লাঠিচার্জ হতেই উত্তেজনা চরম আকার নেয়
দলীয় পতাকা এবং ব্যানার ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় শেষে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে ভবানীপুর থানার সামনেই প্রতিবাদ দেখাতে শুরু করে বিজেপি। আর তখনই প্রতিবাদীদের সরাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরিবর্তে উল্টে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। আসলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে নজরকাড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হল ভবানীপুর। কারণ সেখানে এবার তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে দাঁড়াচ্ছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে বিজেপির থেকে দাঁড়াচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই বোঝাই যাচ্ছে লড়াইটা হবে হাড্ডাহাড্ডি।
বরাহনগরে তৃণমূল বিজেপির সংঘর্ষ
শুধু ভবানীপুর কেন্দ্র নয়, সোমবার রাতে ভোটের আগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল বরাহনগর। সেখানকার ৭ নং ওয়ার্ডে আমতলায় বিজেপির একটা সভা শেষ হওয়ার পর কর্মী-সমর্থকদের উপর উঠল হামলার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। কর্মীদের দাবি বন্দুকের বাট দিয়ে তাঁদের মারধর করা হয়েছে। ঘটনায় তিন-চারজন কর্মী আহত হয়েছেন। সজল ঘোষের অভিযোগ, তৃণমূল কাউন্সিলর নীলু গুপ্তার স্বামী অজয় গুপ্তার নেতৃত্বেই হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি প্রার্থী সজল। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের সামনে এই ঘটনা ঘটেছে। শেষে সজল ঘোষ দলবল নিয়ে বরাহনগর থানার সামনেই বিক্ষোভ শুরু করেন।
আরও পড়ুন: রাজ্যের আবেদনে সাড়া, DA মামলার শুনানির দিনক্ষণ স্থির করল সুপ্রিম কোর্ট
বরাহনগরে এই সংঘর্ষের পরে সজল ঘোষ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে ফোন করেছিল সজল ঘোষ। তিনি জানান, মনোজ আগারওয়াল আশ্বাস দিয়েছেন, ভোট নিশ্চিন্তে নির্বিঘ্নে হবে। অজয় গুপ্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ উঠতেই মনোজ আগারওয়াল নাকি জানিয়েছেন, পুলিশ নির্দেশ না দিলে কেন্দ্রীয় বাহিনী কিছু করতে পারেন না। তাই কোনও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেই বিষয়েও খতিয়ে দেখা হবে। ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।


