সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সবথেকে বড় সাফল্য ব্রহ্মোস (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে এর কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। আর সেই আবহে এবার রাশিয়া (Russia) নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আরও বেশি সংখ্যক ব্রহ্মোস কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রতিরক্ষা শিল্প মহলের মতে, ব্রহ্মোস বর্তমানে বিশ্বের সবথেকে দ্রুতগতির ক্রুজ মিসাইলের মধ্যে অন্যতম। এর গতি, নির্ভুলতা আর লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার ক্ষমতা আন্তর্জাতিক বাজারে এর গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
রাশিয়ার সঙ্গে চলছে আলোচনা
ব্রহ্মোস প্রকল্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার পরিস্থিতি এবং আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ পাল্লার নির্ভুল অস্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ব্রহ্মোসের গুরুত্ব দিনের পর দিন বাড়ছে। একাধিক সূত্রের দাবি, রাশিয়ার নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা থাকলেও ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণের অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করার বিষয়ে এখনও আলোচনা চলছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে যৌথ উৎপাদনকারীর পাশাপাশি ভারত থেকেও ব্রহ্মোস মিসাইল সরবরাহ করা হতে পারে। আর দুই দেশ মিলে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েও চলছে কাজ। এর ফলে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি খাত যে আরও শক্তিশালী হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাজারেও দেশের অবস্থান আরও মজবুত হবে।
তবে জানিয়ে রাখি, ব্রহ্মোস মিসাইলের উন্নয়ন একদিনের কাজ নয়, বরং দীর্ঘ ২৫ বছরের গবেষণা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, একাধিক পরীক্ষা, সামরিক ব্যবহারের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই এই মিসাইল আজ এখানে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দীর্ঘ পথ চলাতে ব্রহ্মোস বিশ্বের সবথেকে নির্ভরযোগ্য সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের পরিণত হয়েছে। প্রতিরক্ষা মহলের দাবি, বাস্তব সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে ব্রহ্মোসের ব্যবহার ও তার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন ভাবে আরও আস্থা তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন: আরও বিপদে মমতা! নতুন পদ পেয়েও ইস্তফা দিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক
উল্লেখ্য, ব্রহ্মোস মিসাইল তৈরি হয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও এবং রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমেই। আর এই যৌথ প্রকল্প বর্তমানে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এমনকি শুধু রাশিয়া নয়, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সহ বিশ্বের আরও বেশ কয়েকটি দেশ ব্রহ্মোস কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ভিয়েতনাম, চিন ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে ব্রহ্মোস রফতানির চুক্তি সম্পন্ন হয়, তাহলে তা শুধু ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্প নয়, বরং দেশের অর্থনীতিও নতুন উচ্চতায় যেতে পারে।










