🎓 মাধ্যমিক রেজাল্ট দেখতে ক্লিক করুন
Click Now

প্রেমের কাছে হার মানল ধর্ম! প্রাক্তন কয়েদি ধর্মেন্দ্রকে বিয়ে জেল সুপার ফিরোজার

Published:

Madhya Pradesh

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভালোবাসা কোনও বাধা মানে না! একথা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি। আর তারই এক অনন্য নজির দেখল মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) এক ঘটনা। সাতনা সেন্ট্রাল জেলের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিনটেনডেন্ট ফিরোজা খাতুন বিয়ে (Wedding) করে নিলেন ওই জেলেরই এক প্রাক্তন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ধর্মেন্দ্র সিংকে। এমনকি যে সে আসামি না, কার্যত খুনের আসামী। ধর্ম বা অপরাধের অতীত, কোনও কিছুই তাঁদের সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

জেল থেকেই শুরু প্রেম

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক বছর আগে। ফিরোজা খাতুন সাতনা জেল ওয়ারেন্ট ইনচার্জ হিসেবে তখন কর্মরত ছিলেন। সেই সময় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন ধর্মেন্দ্র। ২০০৭ সালে এক কাউন্সিলরকে খুন এবং তাঁর দেহ পুঁতে রাখার অপরাধে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। তবে জেলে থাকাকালীন ধর্মেন্দ্র প্রশাসনিক কাজে জেল কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করতেন। আর সেই সূত্রেই ফিরোজার সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ হয় এবং কথা হত। পেশাগত আলাপ থেকেই গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব, যা পরে গভীর প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।

তবে সাজা চলাকালীন ভালো আচরণের জন্য ধর্মেন্দ্র প্রায় ১৪ বছর পর ২০২২ সালের দিকে জেল মুক্তি পান। তবে তাঁর মুক্তির পর ওই যুগল নিজেদের সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সূত্রেই গত ৫ মে ছতরপুর জেলায় তাঁদের বিয়ের আসর বসে। সামাজিক বিতর্কের বাঁধ ভাঙার কারণে ধর্মেন্দ্র বিয়ের কার্ডে নিজের নামে কিছুটা বদলে দিয়েছিল বলেই খবর।

আরও পড়ুন: উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গের একঝাঁক নাম, নতুন সরকারে মন্ত্রী কে কে? দেখুন তালিকা

তবে এই ভিনধর্মীয় বিয়েতে ফিরোজের মুসলিম পরিবারের সমর্থন ছিল না। পরিবারের কেউ ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেনি। এমতাবস্থায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এগিয়ে আসে। ফিরোজার পরিবারের অনুপস্থিতিতেই হিন্দু রীতি মেনে তাঁদের বিয়ে হয়। কন্যাদান করেন ডিএইচপি জেলা সহ সভাপতি রাজবাহাদুর মিশ্র এবং তাঁর স্ত্রী। বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমেই সাতপাকে বাঁধা পড়েছেন এই যুগল। এমনকি ওই অনুষ্ঠানে বজরং দলের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। মধ্যপ্রদেশের এই ঘটনা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। জেলের আধিকারিক থেকে শুরু করে সাতপাকে বাঁধা, সকলেই এই নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।