সুজিত বসু থেকে সোনা পাপ্পু, দেবরাজ! বাংলায় ১১ দিনে গ্রেফতার ১৩ প্রভাবশালী

Published:

13 TMC Leader Arrested

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই অ্যাকশন মোডে নেমেছে গেরুয়া শিবির (BJP)। দুর্নীতিমুক্ত রাজ্য গড়ে তুলতে এবং শক্ত হাতে বাংলার রাশ ধরতে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শুরু থেকেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে। আর এতেই চিন্তার ভাঁজ পড়ছে তৃণমূলের (All India Trinamool Congress) কপালে। রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি। প্রাক্তন মন্ত্রী থেকে শুরু করে ব্লক স্তরের নেতা, কাউকেই রেয়াত করছে না সরকার। আর এবার দুর্নীতি-সহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হল তৃণমূলের জমানায় মোট ১৩ জন হেভিওয়েট নেতা (13 TMC Leader Arrested)।

১১ দিনে গ্রেফতার মোট ১৩ জন

৯ মে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। জনসমক্ষে দুর্নীতিমুক্ত বাংলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি, আর সেই কথা রাখতেই দুর্নীতিকে গোড়া থেকে উপরে ফেলার জন্য একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করলেন। মাত্র ১১ দিনের মধ্যে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন ১৩ জন। আর সেই হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে অন্যতম হলেন – সুজিত বসু, সোনা পাপ্পু, প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাস, শান্তনু মজুমদার এবং দেবরাজ চক্রবর্তী। ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু তৃণমূল কংগ্রেসের এক অন্যতম হেভিওয়েট নেতা ছিলেন, কিন্তু কিছুদিন আগেই পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ED-র হাতে গ্রেফতার হন তিনি।

গ্রেফতার দাপুটে কাউন্সিলর শান্তনু মজুমদার

বরানগরের তৃণমূলের দাপুটে কাউন্সিলর হিসেবে পরিচিত শান্তনু মজুমদার। এলাকায় দাদাগিরি, ভয় দেখানো থেকে শুরু করে তোলাবাজি একের পর এক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বেশ কিছুদিন ধরে বরানগর থানায় এই সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করেছিল একাধিক। আর সেই কারণেই তাঁকে এবার হাতেনাতে গ্রেফতার করল পুলিশ। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে নদিয়ার কৃষ্ণনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ স্মরজিৎ বিশ্বাসকে। অন্যদিকে দক্ষিণ কলকাতার কসবা ও বালিগঞ্জ এলাকার ত্রাস তথা কুখ্যাত সিন্ডিকেট ডন হিসেবে পরিচিত সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারও এখন ED-র হেফাজতে।

আরও পড়ুন: চালু হচ্ছে শিলিগুড়ি বর্ধমান ফ্লাইওভার? মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরেই মিলতে পারে সুখবর

গ্রেফতার প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস

জানা গিয়েছে, জমি দুর্নীতি, প্রতারণা-সহ একাধিক মামলার অভিযোগে রয়েছে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে। গোলপার্কের কাঁকুলিয়া বোমা-গুলি কাণ্ডের পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন তিনি। গত সোমবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দপ্তরে সস্ত্রীক হাজির হয়েছিলেন সোনা পাপ্পু। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার বয়ানে অনেক অসঙ্গতি দেখা গিয়েছিল। আর তাই গ্রেফতার করল ED। তবে তিনি একা নন, এই চক্রের পেছনে রয়েছেন কলকাতার প্রভাবশালী প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। জমি দখলে ধৃত বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারকে সাহায‍্য থেকে কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন কর্মী-আধিকারিককে বদলি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আপাতত ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রয়েছেন তিনি।