প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর নির্বাচনেই বঙ্গ রাজনীতিতে বদলেছে হাওয়া, বাংলার মসনদে বসেছে বিজেপি (BJP) সরকার। এমতাবস্থায় সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, পদক্ষেপের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় ‘উল্লেখযোগ্য’ গ্রেফতারি বেশ নজর কেড়েছে জনগণের। বিজেপি সরকারের প্রতি প্রত্যাশা যেন উপচে পড়ছে আরও। আর এই আবহে কন্যাশ্রী প্রকল্পের (Kanyashree Scheme) মত জনপ্রিয় প্রকলে রাশ টানতে চাইছেন শিক্ষকদের (School Teachers) একাংশ।
প্রশ্ন উঠছে কন্যাশ্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ২০১৩ সালে কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। সেখানে মূলত রাজ্যে অপরিণত বয়সের বিবাহের অবসান ঘটানো ও মেয়েদের মধ্যে শিক্ষার আলো বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এই প্রকল্প আনা হয়েছিল। ১৩ থেকে ১৮ বছরের কিশোরীরা এর সুযোগ হিসেবে ২৫ হাজার টাকা পেয়ে থাকে। ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই প্রকল্প। কিন্তু সরকার বদল হতেই প্রশ্ন উঠছে কন্যাশ্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে। এদিকে এই প্রকল্প নিয়ে অন্য দাবি তুলছে শিক্ষক সংগঠনগুলি। তাঁদের দাবি এই প্রকল্পের টাকা সবাইকে না দিয়ে কিছুটা রাশ টেনে অর্থ খরচ হোক বিদ্যালয়ের উন্নয়নে। তাঁদের দাবি, যারা সামর্থ্য তাদের এই প্রকল্পের বাইরে রাখা হোক।
শিক্ষক সংগঠনের ভিন্ন দাবি
শুভেন্দু অধিকারী সরকার প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে, চালু হওয়া কোনো জনমুখী প্রকল্প বন্ধ করবে না। কিন্তু শিক্ষকদের দাবি, অনেকেই এই প্রকল্পে যোগ্য না হয়েও সুবিধা নিচ্ছে, তাই সকলের জন্য এই প্রকল্প না রেখে আর্থিক সঙ্গতিকে মানদণ্ড করা হোক। যদিও এই নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি রাজ্য সরকার। এদিকে বেশ কয়েক বছর সফল ভাবে ওই প্রকল্পের কাজ চলার পর ২০১৭-য় রাষ্ট্রপুঞ্জের সেরা সমাজিক প্রকল্পের সম্মান লাভ করেছিল এই প্রকল্প। গত বছর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, রাজ্যে ৯৩ লক্ষের বেশি ছাত্রী কন্যাশ্রীর সুবিধা পাচ্ছে।
আরও পড়ুন: সস্তায় এসিতে সৈকত নগরী ভ্রমণ! শুরু হল শ্রীরামপুর-দিঘা বাস, জানুন রুট ও ভাড়া
প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কন্যাশ্রীর মতোই একই রকম প্রকল্প চালু করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের ‘মুখ্যমন্ত্রী কন্যামঙ্গল যোজনা’ চালু হয়েছিল ২০১৯-এ, রাজস্থানে ‘মুখ্যমন্ত্রী রাজশ্রী যোজনা’ চালু হয়েছিল ২০১৬-য়, এমনকি মহারাষ্ট্রেও শুরু হয়েছিল ‘মাজি কন্যা ভাগ্যশ্রী’ প্রকল্প প্রভৃতি। তবে শুধু কন্যাশ্রী নয়, ‘সবুজসাথী’ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই দাবি তুলছেন শিক্ষকদের একাংশ। এখন দেখার শিক্ষকদের দাবি কতটা পরিপূর্ণ করে নয়া রাজ্য সরকার।










