সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশজুড়ে পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফুয়েল বা জৈব জ্বালানির প্রসার ঘটাতে এবার আরও একধাপ এগোল ভারত সরকার (Government of India)। ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে স্পর্শ করেছিল কেন্দ্র। আর এবার পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি শুরু হল। হ্যাঁ, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকায় ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্স পেট্রোলের সঙ্গে ২২% থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০% পর্যন্ত ইথানল মিশ্রণের (Ethanol in Petrol) নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। যা আগে ২০% অবধি ছিল।
সরকারের গ্যাজেট নোটিফিকেশন অনুযায়ী, এই নতুন ক্যাটাগরিতে E22, E25, E27 এবং E30 জ্বালানির জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ধরনের কারিগরি এবং গুণগত মান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আর এটি মূলত পজিটিভ ইগনিশন ইঞ্জিন বা সাধারণ পেট্রোল চালিত গাড়ির জন্য প্রযোজ্য হবে। তবে এই নয় যে, আগামীকাল থেকেই E30 পেট্রোল বিক্রি শুরু হবে। বিশেষ করে বাজারে এই জ্বালানি আনার জন্য আইন এবং প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরি হয়েছে সবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
আসলে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা আর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে ভারতের এই পদক্ষেপ সময়োপযোগী বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারের মূল লক্ষ্য হল আমদানি খরচ কমানো। কারণ, ভারত তার প্রয়োজনীয় খনিজ তেলের সিংহভাগ বিদেশ থেকে আমদানি করে। আর পেট্রোলে ইথানলের পরিমাণ বাড়ালে অপরিশোধিত তেল আমদানির উপর নির্ভরতা অনেকটাই কমবে। এছাড়া ইথানল বিশেষ করে আখ, ভুট্টা বা অন্যান্য খাদ্যশস্য থেকে তৈরি হয়। যার ফলে ইথানলের চাহিদা বাড়লে দেশের কৃষকরা আরও উপকৃত হবে। এছাড়া পেট্রোলের তুলনায় ইথানল অনেক কম কার্বন নিঃসরণ করে। যার ফলে পরিবেশ দূষণ অনেকটাই কমবে।
India takes another step towards cleaner mobility 🇮🇳
Bureau of Indian Standards has notified fuel standards for E22, E25, E27 & E30 fuels, enabling higher blending of anhydrous ethanol with petrol for positive ignition engine vehicles.
The BIS notification lays down technical… pic.twitter.com/yKw0zSA5rB
— DD News (@DDNewslive) May 19, 2026
আরও পড়ুন: পেনশনের জন্য ফের বিয়ে করতে চলেছেন রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক খগেশ্বর রায়
তবে হ্যাঁ, পেট্রোলে ২০ শতাংশের বেশি ইথানল মেশাতে গেলে দেশের অটোমোবাইল এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে কিছু বিশেষ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ভারতের বৃহত্তম গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা মারুতি সুজুকি সহ বেশ কিছু অটোমোবাইল জায়ান্ট জানাচ্ছে, তারা নতুন নিয়মের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম। কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই ফ্লেক্স ফুয়েল ইঞ্জিন তৈরি আর পরীক্ষা করা শুরু করেছে। এছাড়া সাধারণ পেট্রোল এবং উচ্চ ইথানল যুক্ত পেট্রোল আলাদাভাবে রাখার জন্য দেশের ফুয়েল ষ্টেশন বা পেট্রোল পাম্পগুলিতে ডেডিকেটেড আলাদা ডেডিকেটেড স্টোরেজ ট্যাঙ্ক, আলাদা ডিসপেন্সিং মেশিন এবং লজিস্টিক চেইনে কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে।










