সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মার্কিন ডলারের (United States Dollar) বিপরীতে আরও পতন হল ভারতীয় টাকার (Indian Rupee)। এবার খড়কুটোর মতো ধসে গেল ভারতীয় মুদ্রা। আজ সকালে বাজার খোলার পর আন্তর্জাতিক ফরেক্স মার্কেটে বিরাট ধাক্কা লেগেছে রুপিতে। লেনদেনের শুরুতে ভারতীয় রুপির দাম ৪০ পয়সা পড়ে একেবারে ৯৬.৯৩ টাকায় পৌঁছয়। আর ভারতীয় মুদ্রার ইতিহাসে এটিই সর্বনিম্ন স্তর। এর আগের সেশনে ৯৬.৬১ এর কাছাকাছি ঠেকেছিল টাকা। কিন্তু বিশ্ববাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রেকর্ড পতন ভারতীয় টাকার
আসলে ডলারের বিপরীতে টাকার এই রেকর্ড পতনের পিছনে বিশেষজ্ঞরা তিনটি কারণকে দায়ী করছে। প্রথমত, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যাহত হওয়া আর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কারণে গোটা বিশ্ব অর্থনীতি চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ রুটে অস্থিরতা বাড়ার কারণে তৈলবাহী জাহাজগুলি আসতে পারছে না, এবং দেশকে বেশি পরিমাণে ডলার খরচ করতে হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার জেরে সরাসরি তেলের বাজারে প্রভাব পড়ছে। কারণ, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এখন ব্যারেল প্রতি ১১১ ডলারের গণ্ডি স্পর্শ করেছে। আর ভারত যেহেতু তার সিংহভাগ তেল আমদানি করে থাকে, তাই তেল কিনতে ভারতকে বেশি পরিমাণে ডলার খরচ করতে হচ্ছে। এমনকি শুধুমাত্র তেল নয়, বরং ভারতীয় শেয়ার এবং বন্ড বাজার থেকেও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছে। যার কারণে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার রেকর্ড পতন।
আরও পড়ুন: সুজিত বসু থেকে সোনা পাপ্পু, দেবরাজ! বাংলায় ১১ দিনে গ্রেফতার ১৩ প্রভাবশালী
সাধারণ মানুষের উপরেই পড়বে প্রভাব
না বললেই নয়, ডলারের তুলনায় দেশের মধ্যে দুর্বল হলে তার সরাসরি মাশুল চোকাতে হবে সাধারণ জনগণকেই। এর ফলে দৈনন্দিন জীবনে খরচ তো বাড়বেই। পঅপরিশোধিত তেল আমদানির খরচ বাড়লে দেশের বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়তে পারে। সেই ট্রেন্ড বজায় রেখে ইতিমধ্যেই দু’দিন প্রায় ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে তেলের দাম। এমনকি যার প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের পরিবহন খরচে। আর বিদেশ থেকে আমদানি করা মোবাইল থেকে শুরু করে ল্যাপটপ, ইলেকট্রনিক গেজেটস বা ভোজ্য তেলের দাম একধাক্কায় অনেকটাই বাড়তে পারে।










