আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বাড়ি যতই পুরনো হোক না কেন, দেওয়ালে নতুন রং (Wall Paint) করালেই তৎক্ষণাৎ ঘরের চেহারা অনেকটাই বদলে যায়। কিন্তু দেওয়ালের পুরনো রং যদি ফুলে ওঠে, খসে পড়ে বা প্লাস্টার নষ্ট হতে শুরু করে, তাহলে তার উপর সরাসরি নতুন রং করানো মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কারণ কিছুদিন পর ফের একই সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে দেওয়ালে স্যাঁতসেঁতে ভাব বেড়ে যায়। যার ফলে এই সমস্যা আরও বেশি করে চোখে পড়ে। তাই রং করার আগে জানতে হবে কেন দেওয়াল নষ্ট হচ্ছে। সেটি খুঁজে বের করতে পারলে সমস্যা অনেকটাই কমবে।
আগে খুঁজে বের করুন সমস্যার কারণ
কমবেশি প্রতিটি বাড়িতেই দেওয়ালে রং বা প্লাস্টার নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ হল জল এবং আর্দ্রতা। বাইরের দেওয়াল দিয়ে জল ঢোকা, ছাদ চুঁইয়ে জল পড়া, পাইপের লিকেজ কিংবা বাথরুম ও রান্নাঘরের অতিরিক্ত আর্দ্রতা থেকে ধীরে ধীরে এই সমস্যা তৈরি হয়। দেওয়ালে ছোট ছোট ফোসকা, রঙের অংশ ফুলে ওঠা, কালচে বা হলদেটে দাগ কিংবা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ দেখা দিলেই ফেলে না রেখে তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নিতে হব। যদি মনে করেন শুধু সেই জায়গায় পুটি বা রং লাগিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, তাহলে ভুল ভাবছেন।
প্রথমেই পৌঁছাতে হবে সমস্যার গোড়ায়। অর্থাৎ জল ঢোকার বা লিকেজের সমস্যাটি আগে ঠিক করতে হবে। এরপর স্ক্র্যাপার বা পুটি নাইফ দিয়ে সেই জায়গার রং এবং আলগা হয়ে আসা প্লাস্টার তুলে ফেলুন। দেওয়ালে ফাটল বা গর্ত থাকলে সেগুলি ফিলার বা উপযুক্ত মিশ্রণ দিয়ে ভরাট করে নিতে হবে। মেরামতের পর দেওয়াল পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাও জরুরি। ভেজা দেওয়ালে তাড়াহুড়ো করে রং করলে নতুন রংও বেশিদিন টিকবে না। শুকিয়ে গেলে স্যান্ডপেপার দিয়ে জায়গাটি মসৃণ করে নিন।
আরও পড়ুন: “বেতন পাচ্ছেন কাজ না করার জন্য নয়” সরকারি কর্মীদের তুলোধোনা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির
দেওয়ালের মেরামতের কাজ শেষ হলে সরাসরি রং না করে আগে প্রাইমার লাগানোই ভালো। এই প্রাইমার রঙের আস্তরণকে দেওয়ালে ভালোভাবে বসতে সাহায্য করে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত রং লাগাতে পারেন। ভবিষ্যতে সমস্যা এড়াতে বর্ষার পর বাড়ির সবকটা দেওয়াল একবার দেখে নেওয়াও ভালো। নতুন করে কোথাও ফাটল, দাগ বা আর্দ্রতার চিহ্ন দেখা দিলে শুরুতেই ব্যবস্থা নিতে হবে, তাহলেই বড়সড় মেরামতির খরচ এড়ানো সম্ভব।










