সন্তানদের জন্য খালি পায়ে দৌড়ে জিতেও হল না শেষ রক্ষা, চাকরির পরীক্ষার বাদ কবিতা

Published:

Kavita Kumari excluded from Home Guard recruitment test

অনন্যা সরকার, ঝাড়খণ্ড: কিছুদিন আগেই শাড়ি পরে খালি পায়ে দৌড়ে খবরের শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। ঝাড়খণ্ডের হোম গার্ডের নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষায় (Home Guard Recruitment Test) ১৬০০ মিটার দৌড় নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই সম্পন্ন করে কবিতা কুমারী ইন্টারনেটে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু চাকরির খুব কাছাকাছি এসেও শেষ রক্ষা হলো না। স্বামীকে হারানোর পর অসহায় কবিতা দুই সন্তান ও শাশুড়ির ভরণপোষণের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। একটা চাকরির সন্ধানে নিজের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রাথমিক এই সাফল্যের পর, পরবর্তী পরীক্ষায় কবিতা আর উত্তীর্ণ হতে পারলেন না। হাই জাম্পের ক্ষেত্রে তিনটি সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রয়োজনীয় উচ্চতা স্পর্শ করতে পারেননি, যার ফলে হোম গার্ড হিসেবে চাকরি পাওয়ার সুযোগটি তাঁর হাতছাড়া হয়ে গেল। কবিতার এই ব্যর্থতায় অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ কবিতা

ঝাড়খণ্ডের রামগড়ের বাসিন্দা গৃহবধূ কবিতা কুমারী কয়েক মাস আগে তাঁর অসাধারণ দক্ষতার কারণে রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যান। সরকারি হোম গার্ড পদের নিয়োগ পরীক্ষার সময় প্রার্থীদের ১৬০০ মিটার দৌড় সম্পন্ন করার জন্য ১০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়। দৌড়ের পোশাক, রানিং শু ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণ না থাকা সত্ত্বেও কবিতা এই পরীক্ষায় অংশ নেন। 

নিজের ছোট সন্তানদের কথা ভেবে তিনি সাহস সঞ্চয় করে রেসিং ট্র্যাকে নেমে পড়েন। পরনে ছিল একটি বিবর্ণ ফিরোজা রঙের শাড়ি, আর পায়ে ছিল না কোনো জুতো।।এমন অবস্থাতেই তিনি ১৬০০ মিটার দৌড় মাত্র ৮ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে সম্পন্ন করেন, যা নির্ধারিত ১০ মিনিটের সময়ের অনেকটা আগেই ছিল। এই কৃতিত্ব কবিতাকে রাতারাতি সমাজ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে।

আরও পড়ুন: দীপাবলীর আগেই সুখবর, হাজার হাজার কর্মীর বেতন ও DA বাড়াল সরকার

তবে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার একাধিক ধাপ রয়েছে। দৌড়ের পরের ধাপ ছিল হাই জাম্প। কবিতাকে তিনটি সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনো সুযোগেই তিনি বারটি পার হতে পারেননি। ফলে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে হোম গার্ড নিয়োগের পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে চাকরির সুযোগটি হারান কবিতা। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর পর কবিতার ওপর দুই ছোট সন্তান এবং বয়স্ক শাশুড়ির ভরণপোষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব এসে পড়েছিল। জীবিকার সন্ধানে নামা ছাড়া তাঁর আর কোনো পথ খোলা ছিল না। ইটভাটাতে কাজ করে সংসার চালাতেন তিনি। চেয়েছিলেন একটি স্থায়ী চাকরি। কিন্তু কড়া নিয়ম তাঁর লড়াইয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত হোম গার্ডের চাকরিটা পেলেন না কবিতা। স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তা আপাতত অধরাই রইল।

google button