সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম আর বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহের গতি মন্থর হয়ে যাওয়ার কারণে সপ্তাহের শুরুতেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে সামান্য দুর্বল হল ভারতীয় টাকা (Indian Rupee)। আজ কিছুটা হলেও দাম কমেছে দেশীয় মুদ্রার। সোমবার সকালে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকা খুলেছে ৯৪.৯৩ এর স্তরে, যা গত শুক্রবারের ৯৪.৯৪ বন্ধের দরে তুলনায় আরও ১ পয়সা কম।
ডলারের বিপরীতে পতন ভারতীয় রুপির
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চলতি সপ্তাহে অপরিশোধিত তেল এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চাপে ঘরোয়া মুদ্রার দাম ৯৫ টাকা প্রতি ডলারের পার করে আবারও নিচে নেমে যেতে পারে। আসলে সম্প্রতি ৯৭ এর স্তর পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছিল দেশীয় টাকা। তবে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের পর অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে দাম। তবে তেলের দাম বাড়ার কারণে আবারও তলানিতে ঠেকছে টাকার মূল্য।
আসলে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল প্রায় ১১৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে বলেই খবর। সৌদি আরবের উপর হামলার ঘটনায় পশ্চিম এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার কারণে গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর ভারতকে যেহেতু সিংহভাগ তেল আমদানি করতে হয়, তাই তেলের উচ্চমূল্য আমদানি বিল এবং ডলারের চাহিদা বাড়িয়ে দেয়, যা টাকার উপরে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
আরও পড়ুন: বীরভূমে সাংবাদিককে মারধর, প্রাণে মারার চেষ্টার অভিযোগ! গ্রেফতার ‘বং লুচ্চা’র ২ ইউটিউবার
এদিকে এর আগে জিও প্ল্যাটফর্ম আইপিওকে কেন্দ্র করে বাজারে বিদেশি বিনিয়োগের যে জোয়ার দেখা গিয়েছিল তা অনেকটাই কমে এসেছে। বিশেষজ্ঞের মতে, সেই সাপোর্ট বা সহায়তার অনুপস্থিতি মুদ্রা বাজারকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এমনকি চলতি সপ্তাহে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে। তবে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা থাকলেও ডিসেম্বরে ফের সুদ বাড়ানোর কোনও ইঙ্গিত থাকে কিনা সেদিকেই নজর রাখছেন এখন বিনিয়োগকারীরা। আর ফেডের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে ডলারের গতিপ্রকৃতি আর ভারতে বিদেশী পুঁজির প্রবাহকে সরাসরি প্রভাবিত করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।










