বিশ্ব মঞ্চে জয় পুরুলিয়ার মেয়ের, অর্থের অভাবে পুরস্কার বিতরণীতে যেতে পারলেন না আয়েশা

Published:

Ayesha Fatima John Locke Institute Junior global essay competition

অনন্যা সরকার, পুরুলিয়া: বাংলার মেয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পেল স্বীকৃতি। পুরুলিয়ার পারায় অবস্থিত ‘ফেলিক্স স্কুল অফ এডুকেশন’-এর নবম শ্রেণির ছাত্রী আয়েশা ফাতিমা লন্ডনের মর্যাদাপূর্ণ জন লক ইনস্টিটিউটের (John Locke Institute) ‘জুনিয়র গ্লোবাল এসে’ প্রতিযোগিতার (Junior Global Essay Competition) মনোবিজ্ঞান বিভাগে সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান করে রাজ্য তথা দেশের জন্য গর্বের কারণ হয়ে উঠেছে। ১৮৩টি দেশ থেকে জমা পড়া লক্ষাধিক প্রবন্ধের মধ্যে তার লেখাটি সেরা ১৭.৫ শতাংশের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

অর্থের অভাব পৌঁছাতেই পারল না পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে

আয়েশার প্রবন্ধের বিষয় ছিল, “মৃত্যুর পরে দেহ নিয়ে কী করা হবে, তা নিয়ে চিন্তা কিসের!” মাত্র এক সপ্তাহের প্রস্তুতিতে লেখা এই প্রবন্ধে আয়েশা মৃত ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। এর পাশাপাশি সে বিশ্বজুড়ে প্রচলিত বিভিন্ন ধরণের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও সমাধি প্রথা নিয়েও গভীরভাবে আলোচনা করেছে। এই সাফল্যের পর, আয়েশা ফাতিমাকে লন্ডনের মেফেয়ারের পার্ক লেনে অবস্থিত ‘লন্ডন হিলটন’-এ আয়োজিত গ্লোবাল জুনিয়র এসে কম্পিটিশনের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও গালা ডিনারে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তার পক্ষে সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি। 

তার মা নিগার সুলতানা বলেন, লন্ডন যাতায়াত করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, তাদের মতো সাধারণ পরিবারের পক্ষে এই খরচ বহন করা সম্ভব নয়। আয়েশার বাবা মোহাম্মদ রাজিউদ্দিন রঘুনাথপুর-২ ব্লকের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। লন্ডনে যেতে না পারলেও, জন লক ইনস্টিটিউটের পাঠানো সার্টিফিকেট পেয়ে আয়েশা খুবই আনন্দিত। 

আরও পড়ুন: ব্যান হল সৌরভ দাসের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট, এবার মেটার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবে CJP?

এই সাফল্যের পর আয়েশা জানায়, পৃথিবীর একাধিক সংস্কৃতিতে মৃত্যুর পরেও একটা জীবন রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। তাই বিশ্বজুড়ে প্রচলিত বিভিন্ন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রথায় এর প্রতিফলনও দেখা যায়। সে মনে করে, কোনো ব্যক্তি মারা যাওয়ার পরেও তাঁকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা উচিত। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াও সর্বদা মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে সম্পন্ন করা জরুরি। তার স্কুলের শিক্ষিকা প্রিয়াঙ্কা ঘোষ জানান যে, এর আগেও ফেলিক্স স্কুল অফ এডুকেশনের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জিতেছে। আয়েশার এই সাফল্যে গোটা স্কুল অত্যন্ত গর্বিত।

google button