প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাঙালি আর কিছু খাক না খাক ফুচকা কখনও ছাড়ে না। কথায় আছে ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও যেমন ধান ভানে ঠিক তেমনই বাঙালিরাও যেই মুল্লুকেই যাক না কেন ফুচকা (Phuchka) খাবেই খাবে। এই টক, ঝাল মিষ্টি স্বাদের ফুচকা খেতে আট থেকে আশি সকলেই বেশ ওস্তাদ। কিন্তু জানেন কি ‘ফুচকার রাজধানী’ (Phuchka Capital) আদতে কোন শহরকে বলে? তাহলে চলুন আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে সম্পূর্ণটা জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
ফুচকার রাজধানী কোনটি?
দুপুর বিকেল সন্ধ্যে রাস্তার মোড়ে মোড়ে একেবারে লাইন দিয়ে বেশ বিক্রি হয় ফুচকা। যদিও এই খাবার খাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট ঋতু নেই, যখন মন চাইল তখনই খাওয়া যায়। কলকাতার অলিতে গলিতে , গঙ্গার ঘাটে শুধুই ফুচকা। তবে বাঙালিরা বুক ফুলিয়ে যতই বলুক ‘ফুচকায় কলকাতাই সেরা’, রিপোর্ট কিন্তু বলছে অন্য। জানা গিয়েছে, দিল্লি কিংবা কলকাতা নয় ফুচকার চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরিচিত মায়ানগরী মুম্বই। অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়ই? পরিসংখ্যান বলছে, দেশের এই শহরটিতে একজন মানুষ দিনে গড়ে প্রায় ১৫ থেকে ২৫ প্লেট ফুচকা খেয়ে থাকেন। এমনকি শহরের নানা প্রান্তে খুব সহজেই মেলে এই মুখরোচক খাবার।
দিন রাত বিক্রি হয় ভুরি ভুরি ফুচকা
দেশজুড়ে ফুচকার হাজারও নাম। কোথাও ফুচকা, কোথাও পানিপুরি, কোথাও গোলগাপ্পা, কোথাও ফুলকি আবার কোথাও পানি-বাতাসি নামেও ডাকা হয় এই জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুডকে। কিন্তু নামে কি যায় আসে, আসল দরকার তো স্বাদে। মুম্বইয়ের গলিতে ‘পানি পুরি’ নামেই রাজত্ব চলছে। জায়গা বদলালেও প্লেট শেষ করে আরেকটা প্লেটের অর্ডার পড়ছে। শুধু কি তাই, কলকাতার মত, স্কুল-কলেজের সামনে ছোট ঠেলাগাড়ি হোক কিংবা ব্যস্ত স্টেশন চত্বর সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে ফুচকার দোকান। বাজার থেকে শপিং মল সব এলাকাতেই এর চাহিদা যথেষ্ট।
আরও পড়ুন: জানেন ভারতের কোন শহরকে বলা হয় জুঁই ফুলের রাজধানী? রইল তথ্য
গরম গরম ছোলে বাটুরে তো ছিলই তার সঙ্গে পানি পুরি এখন বেশ বিখ্যাত। আজকাল স্বাদে আবার নতুনত্ব আনার জন্য নানা ধরনের এক্সপেরিমেন্ট চলছে। চকোলেট পানি পুরি, চিজ পানি পুরির মতো অদ্ভুত সব খাবারও রমরমিয়ে বিকোচ্ছে। তবে যায় হোক, অফিসের হাজার কাজের চাপ সামলে খানিক স্ট্রেস রিলিজ করতে পেটের ক্ষিদে মেটাতে এর চেয়ে সেরা আর কী হতে পারে! তাইতো রাস্তায় যেদিকেই চোখ যায়, শুধুই হাজার হাজার ঠেলাগাড়ির সামনে মানুষের হাঁ মুখ আর লম্বা লাইনই চোখে পড়ে।










