অনন্যা সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠন, কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ (Confederation of State Government Employees, West Bengal) দাবি জানিয়েছে যে, কর্মচারীদের পরিবারের প্রয়োজন ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করেই বেতন নির্ধারণ করা উচিত। এই উদ্দেশ্যে গত ২৯ অক্টোবর সপ্তম বেতন কমিশনের (7th Pay Commission) কাছে সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি(Memorandum) জমা দেওয়া হয়। আইএনটিইউসি (INTUC)-এর সঙ্গে যুক্ত এই সংগঠনটি পারিবারিক একক (family unit) গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন, বিজ্ঞানসম্মত ন্যূনতম মজুরি (Minimum Wage) নির্ধারণ এবং ৩.৮৩৩ ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ (fitment factor) গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে।
ফ্যামিলি ইউনিট গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তনের দাবি
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান ব্যবস্থায় একজন কর্মচারীর পরিবারকে তিনটি ‘ইউনিট’ হিসেবে গণ্য করা হয়। সংগঠনের মতে, এই পদ্ধতিটি বাতিল করে এমন একটি পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত, যা সমগ্র পরিবারের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেয়। তাদের প্রস্তাব, একটি পরিবারকে পাঁচটি ‘ইউনিট’ হিসেবে গণ্য করা হোক।
প্রস্তাবিত এই গণনা পদ্ধতিতে কর্মচারীর জন্য একটি ইউনিট এবং তাঁর জীবনসঙ্গীর জন্য একটি ইউনিট বরাদ্দ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক কোনো বৈষম্য রাখা হয়নি। এছাড়া, সন্তানদের জন্য দুটি ইউনিট এবং পিতা ও মাতার প্রত্যেকের জন্য ০.৬ ইউনিট করে (অর্থাৎ বাবা-মায়ের জন্য মোট ১.২ ইউনিট) বরাদ্দ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও, এই হিসাব অনুযায়ী মোট ৫.২ ইউনিট হয়, তবে প্রস্তাবটিতে এটিকে কমিয়ে পাঁচটি ইউনিট হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আয়ুষ্মান ভারতে বড় সাফল্য বাংলায়, প্রায় ৩ মাসে চিকিৎসা পেলেন ২.২ লাখ মানুষ
কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ জোর দিয়ে বলেছে যে, বর্তমান ন্যূনতম মজুরি অপর্যাপ্ত। বেতন শুধু বেঁচে থাকার ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোর জন্য নয়, বরং তা এমন হতে হবে, যা একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে পারে। তাই, কর্মী সংগঠনটি একটি বিজ্ঞানসম্মত ‘লিভিং ওয়েজ’ (living wage) বা জীবনধারণের উপযোগী মজুরি কাঠামো চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে, যা বাসস্থান, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিবহন এবং প্রযুক্তিগত বা ডিজিটাল চাহিদাকেও অন্তর্ভুক্ত করবে।
পাঁচ সদস্যের (বা পাঁচটি ইউনিটের) একটি পরিবারের ভিত্তিতে, প্রস্তাবিত ন্যূনতম মাসিক মজুরি হলো ৬৯,০০০ টাকা। স্মারকলিপিতে সুপ্রিম কোর্টের ‘ভূপেন্দ্র নাথ হাজারিকা বনাম আসাম রাজ্য’ (Bhupendra Nath Hazarika vs. State of Assam) মামলার পর্যবেক্ষণও তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, কর্মচারীদের ন্যায্য চাহিদাগুলোকে দমন করা উচিত নয়। এছাড়া, সংগঠনটি সরকারের কাছে আবেদন করেছে যে, তারা যেন একটি ‘আদর্শ নিয়োগকর্তা’-র ভূমিকা পালন করে, অর্থাৎ কর্মচারীদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাস নিশ্চিত করে।










