নতুন খবর
ক্যালেন্ডার রাশিফল আবহাওয়া রেল সোনার দাম রুপোর দাম পেট্রোলের দাম ডিজেলের দাম গ্যাসের দাম জোয়ার ভাটা ভক্তি ও মন্ত্র
মা দুর্গা

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহালয়া চণ্ডীপাঠ (Mahalaya Chandipath Birendra Krishna Bhadra Lyrics)

মহালয়া মহিষাসুরমর্দিনী বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠ (Birendra Krishna Bhadra Mahalaya Chandipath in Bengali) হলো বাঙালির দুর্গাপূজার শাশ্বত, অবিস্মরণীয় ও অমর প্রারম্ভিক আবাহন। ১৯৩১ সাল থেকে আকাশবাণীতে সম্প্রচারিত এই কালজয়ী অনুষ্ঠানে বাণীকুমারের অপূর্ব রচনা, পঙ্কজ মল্লিকের সুরারোপ এবং বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের অপার্থিব ও উদাত্ত চণ্ডীপাঠের সুর—"আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোক-মঞ্জীর"—বাঙালির অন্তরে দেবীপক্ষের শুভ আগমন বার্তা ঘোষণা করে। এখানে আপনি সম্পূর্ণ Birendra Krishna Bhadra Mahalaya Chandipath in Bengali lyrics, সংস্কৃত ধ্যান ও স্তোত্র, দেবীসূক্তম্, অর্গলা স্তোত্র, বাংলা গান, প্রাঞ্জল বাংলা অর্থ ও ইতিহাস বিস্তারিত পড়ুন এবং বিনামূল্যে PDF প্রিন্ট ও ডাউনলোড করুন।

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহালয়া মহিষাসুরমর্দিনী চণ্ডীপাঠ লিরিক্স (Birendra Krishna Bhadra Mahalaya Lyrics)

মহালয়ার পুণ্যপ্রভাতে আকাশবাণীর অমর সৃষ্টি 'মহিষাসুরমর্দিনী'-তে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের উদাত্ত কণ্ঠে পঠিত সম্পূর্ণ মহালয়া চণ্ডীপাঠের গদ্য আখ্যান, সংস্কৃত শ্লোক এবং সুরলহরী নিচে পর্বাকারে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো:

পর্ব ১: প্রারম্ভিক ধ্যান ও শারদপ্রাতে জগন্মাতার আগমন বার্তা
যা চণ্ডী মধুকৈটভাদিদৈত্যদলনী যা মাহিষোন্মূলিনী
যা ধূম্রেক্ষণচণ্ডমুণ্ডমথনী যা রক্তবীজাশনী ।
শক্তিঃ শুম্ভনিশুম্ভদৈত্যদলনী যা সিদ্ধিদাত্রী পরা
সা দেবী নবকোটীমূর্তিসহিতা মাং পাতু বিশ্বেশ্বরী ॥
শ্রীশ্রীচণ্ডিকার ধ্যান, শ্লোক – ৩
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের উদাত্ত পাঠ

আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোক-মঞ্জীর;

ধরণীর বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা;

প্রকৃতির অন্তরাকাশে জাগরিত জ্যোতির্ময়ী জগন্মাতার আগমন বার্তা।

আনন্দময়ী মহামায়ার পদধ্বনি অসীম ছন্দে বেজে উঠে রূপলোক ও রসলোকে আনে নব ভাবমাধুরীর সঞ্জীবন।

তাই আনন্দিতা শ্যামলীমাতৃকার চিন্ময়ীকে মৃণ্ময়ীতে আবাহন।

আজ চিৎ-শক্তিরূপিনী বিশ্বজননীর শারদ-স্মৃতিমণ্ডিতা প্রতিমা মন্দিরে মন্দিরে ধ্যানবোধিতা।

সিংহস্থা শশিশেখরা মরকতপ্রখ্যা চতুর্ভির্ভুজৈঃ
শঙ্খং চক্রধনুঃশরাংশ্চ দধতী নেত্রৈস্ত্রিভিঃ শোভিতা ।
আমুক্তাঙ্গদ-হার-কঙ্কণ-রণৎ-কাঞ্চীক্বণন্নূপুরা
দুর্গা দুর্গতিহারিণী ভবতু নো রত্নোল্লসৎকুণ্ডলা ॥
শ্রীশ্রীচণ্ডী, মহাসরস্বতীর ধ্যান, শ্লোক – ২
দেবী মহামায়ার স্বরূপ বর্ণনা

মহামায়া সনাতনী, শক্তিরূপা, গুণময়ী। তিনি এক, তবু প্রকাশ বিভিন্ন— দেবী নারায়ণী, আবার ব্রহ্মশক্তিরূপা ব্রহ্মাণী, কখনো মহেশ্বেরী রূপে প্রকাশমানা, কখনো বা নির্মলা কৌমারী রূপধারিণী, কখনো মহাবজ্ররূপিণী ঐন্দ্রী, উগ্রা শিবদূতী, নৃমুণ্ডমালিনী চামুণ্ডা, তিনিই আবার তমোময়ী নিয়তি। এই সর্বপ্রকাশমানা মহাশক্তি পরমা প্রকৃতির আবির্ভাব হবে, সপ্তলোক তাই আনন্দমগ্ন।

হে ভগবতী মহামায়া, তুমি ত্রিগুণাত্মিকা; তুমি রজোগুণে ব্রহ্মার গৃহিণী বাগ্‌দেবী, সত্ত্বগুণে বিষ্ণুর পত্নী লক্ষ্মী, তমোগুণে শিবের বণিতা পার্বতী, আবার ত্রিগুণাতীত তুরীয়াবস্থায় তুমি অনির্বচনীয়া, অপার মহিমময়ী, পরব্রহ্ম-মহিষী। দেবী ঋষি কাত্যায়নের কন্যা কাত্যায়নী, তিনি কন্যাকুমারী আখ্যাতা দুর্গি। তিনিই আদিশক্তি আগমপ্রসিদ্ধমূর্তিধারী দুর্গা, তিনি দাক্ষায়ণী সতী।

পর্ব ২: মধুকৈটভবধ ও ব্রহ্মার স্তব (শ্রীশ্রীচণ্ডী, প্রথম অধ্যায়)
ত্বং স্বাহা ত্বং স্বধা ত্বং হি বষট্‌কারঃ স্বরাত্মিকা ।
সুধা ত্বমক্ষরে নিত্যে ত্রিধা মাত্রাত্মিকা স্থিতা ॥ ৭৩ ॥

অর্ধমাত্রা স্থিতা নিত্যা যানুচ্চার্যা বিশেষতঃ ।
ত্বমেব সা ত্বং সাবিত্রী ত্বং দেবজননী পরা ॥ ৭৪ ॥

ত্বয়ৈব ধার্যতে সর্বং ত্বয়ৈতৎ সৃজ্যতে জগৎ ।
ত্বয়ৈতৎ পাল্যতে দেবি ত্বমৎস্যন্তে চ সর্বদা ॥ ৭৫ ॥

বিসৃষ্টৌ সৃষ্টিরূপা ত্বং স্থিতিরূপা চ পালনে ।
তথা সংহৃতিরূপান্তে জগতোঽস্য জগন্ময়ে ॥ ৭৬ ॥

মহাবিদ্যা মহামায়া মহামেধা মহাস্মৃতিঃ ।
মহামোহা চ ভবতী মহাদেবী মহাসুরী ॥ ৭৭ ॥

প্রকৃতিস্ত্বং হি সর্বস্য গুণত্রয়বিভাবিনী ।
কালরাত্রির্মহারাত্রির্মোহরাত্রিশ্চ দারুণা ॥ ৭৮ ॥

ত্বং শ্রীস্ত্বমীশ্বরী ত্বং হ্রীস্ত্বং বুদ্ধির্বোধলক্ষণা ।
লজ্জা পুষ্টিস্তথা তুষ্টিস্ত্বং শান্তিঃ ক্ষান্তিরেব চ ॥ ৭৯ ॥

খড়্গিনী শূলিনী ঘোরা গদিনী চক্রিণী তথা ।
শঙ্খিনী চাপিনী বাণভুসণ্ডীপরিঘায়ুধা ॥ ৮০ ॥

সৌম্যাসৌম্যতরাশেষসৌম্যেভ্যস্ত্বতিসুন্দরী ।
পরা পরাণাং পরমা ত্বমেব পরমেশ্বরী ॥ ৮১-৮২ ॥
শ্রীশ্রীচণ্ডী, প্রথম অধ্যায়— মধুকৈটভবধ, শ্লোক ৭৩-৮২
ভক্তিগীতি

তব অচিন্ত্য-রূপচরিত-মহিমা।
নব শোভা, নব ধ্যান-রূপায়িত প্রতিমা।
বিকশিল জ্যোতি-প্রীতি মঙ্গল বরণে
তুমি সাধনধন ব্রহ্ম, গোধন-সাধনী।
তব প্রেমনয়নভাতি নিখিল তারণী—
কনককান্তি ঝরিছে কান্তবদনে।
হে মহালক্ষ্মী, জননী, গৌরী, শুভদা,
জয়সঙ্গীত ধ্বনিছে তোমারি ভুবনে।

আখ্যান ভাগ

তখন প্রলয়ান্ধকাররূপিণী তামসী দেবী এই স্তবে প্রবুদ্ধা হয়ে বিষ্ণুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে বাহির হলেন; বিষ্ণুর যোগনিদ্রা ভঙ্গ হল। বিষ্ণু সুদর্শনচক্র চালনে মধুকৈটভের মস্তক ছিন্ন করলেন। পুনরায় ব্রহ্মা ধ্যানমগ্ন হলেন।

এদিকে কালান্তরে দুর্ধর্ষ দৈত্যরাজ মহিষাসুরের পরাক্রমে দেবতারা স্বর্গের অধিকার হারালেন। অসুরপতির অত্যাচারে দেবলোক বিষাদব্যথায় পরিগ্রহণ হয়ে গেল। দেবগণ ব্রহ্মার শরণাপন্ন হলেন। ব্রহ্মার বরেই মহিষাসুর অপরাজেয়; তাঁর দ্বারা দৈত্যরাজের ক্ষয় সম্ভবপর নয় জেনে তাঁরই নির্দেশে অমরবৃন্দ কমলযোনি বিধাতাকে মুখপাত্র করে বৈকুণ্ঠে গিয়ে দেখলেন, হরি-হর আলাপনে রত।

ব্রহ্মা স্বমুখে নিবেদন করলেন মহিষাসুরের দুর্বিষহ অত্যাচার-কাহিনী। স্বর্গভ্রষ্ট দেবতাকুলের এই বার্তা শুনলেন তাঁরা। শান্ত যোগীবর মহাদেবের সুগৌর মুখমণ্ডল ক্রোধে রক্তজবার মত রাঙা বরণ ধারণ করলে; আর শঙ্খচক্রগদাপদ্মধারী নারায়ণের আনন ভ্রুকূটিকুটিল হয়ে উঠল।

তখন মহাশক্তির আহ্বানে গগনে গগনে নিনাদিত হল মহাশঙ্খ। বিশ্বযোনি বিষ্ণু রুদ্রের বদন থেকে তেজোরাশি বিচ্ছুরিত হল; ব্রহ্মা ও দেবগণের আনন থেকে তেজ নির্গত হল। এই পর্বতপ্রমাণ জ্যোতিপুঞ্জ প্রজ্জ্বলিত হুতাশনের ন্যায় দেদীপ্যমান কিরণে দিঙ্‌মণ্ডল পূর্ণ করে দিলে। ওই তেজরশ্মি একত্র হয়ে পরমা রূপবতী দিব্যশ্রী মূর্তি উৎপন্ন হল। তিনি জগন্মাতৃকা মহামায়া। এই আদ্যাদেবী ঋক্‌মন্ত্রে ঘোষণা করলেন আত্মপরিচয়—

পর্ব ৩: দেবীসূক্তম্ (ঋগ্বেদীয় আত্মপরিচয়) ও মহামহিমময় প্রকাশ
অহং রুদ্রেভির্বসুভিশ্চরাম্যহম্‌ আদিত্যৈরুত বিশ্বদেবৈঃ ।
অহং মিত্রাবরুণোভা বিভর্ম্যহম্‌ ইন্দ্রাগ্নী অহমশ্বিনোভা ॥ ১ ॥

অহং সোমমাহনসং বিভর্ম্যহং ত্বষ্টারমুত পূষণং ভগম্‌ ।
অহং দধামি দ্রবিণং হবিষ্মতে সুপ্রাব্যে যজমানায় সুন্বতে ॥ ২ ॥

অহং রাষ্ট্রী সংগমনী বসূনাং চিকিতুষী প্রথমা যজ্ঞিয়ানাম্‌ ।
তাং মা দেবা ব্যদধুঃ পুরুত্রা ভূরিস্থাত্রাং ভূর্যাবেশয়ন্তীম্‌ ॥ ৩ ॥

ময়া সো অন্নমত্তি যো বিপশ্যতি যঃ প্রাণিতি য ঈং শৃণোত্যুক্তম্‌ ।
অমন্তবো মাং ত উপক্ষিয়ন্তি শ্রুধি শ্রুত শ্রদ্ধিবং তে বদামি ॥ ৪ ॥

অহমেব স্বয়মিদং বদামি জুষ্টং দেবেভিরুত মানুষেভিঃ ।
যং যং কাময়ে তং তমুগ্রং কৃণোমি তং ব্রহ্মাণং তমৃষি তং সুমেধাম্‌ ॥ ৫ ॥

অহং রুদ্রায় ধনুরাতনোমি ব্রহ্মদ্বিষে শরবে হন্তবা উ ।
অহং জনায় সমদং কৃণোম্যহং দ্যাবা পৃথিবী আ বিবেশ ॥ ৬ ॥

অহং সুবে পিতরমস্য মূর্ধন্মম যোনিরপ্স্বন্তঃ সমুদ্রে ।
ততো বি তিষ্ঠে ভুবনানু বিশ্বোতামুং দ্যা বর্ষ্মণোপ স্পৃশামি ॥ ৭ ॥

অহমেব বাত ইব প্র বাম্যারভমাণা ভুবনানি বিশ্বা ।
পরো দিবা পর এনা পৃথিব্যৈতাবতী মহিনা সং বভূব ॥ ৮ ॥
ঋগ্বেদোক্ত দেবীসূক্তম্ (১০ম মণ্ডল, ১২৫তম সূক্ত, শ্লোক ১-৮)
বরণগীত

অখিল বিমানে তব জয়গানে যে সামরব—
বাজে সেই সুরে সোনার নূপুরে চিত্তে নব।
হে আলোর আলো, তিমির মিলাল,
তব জ্যোতি সুধা চেতনা বিলাল;
রাগিণী দেশীরে গাহিল মধুরে সে-বৈভব।

জয়ন্তী মঙ্গলা কালী ভদ্রকালী কপালিনী ।
দুর্গা শিবা ক্ষমা ধাত্রী স্বাহা স্বধা নমোঽস্তু তে ॥
অর্গলা-স্তোত্র, শ্লোক – ২
দেবকুলের বন্দনা ও প্রকৃতিবরণ

দেবীর আবির্ভাবের এই শুভ বার্তা প্রকাশিত হল। সকল দেবদেবী মহাদেবীকে বরণ করলেন গীতিমাল্যে, সেবা করলেন রাগচন্দনে। জগন্মাতা চণ্ডিকা উপাসকের ধনদাত্রী, ব্রহ্মচৈতন্যস্বরূপা সর্বোত্তম মহিমা। মহাদেবী অন্তর্যামীরূপে ব্যপ্ত হয়ে আছেন দ্যুলোক-ভূলোক। ভুবনমোহিনী সর্ববিরাজমানা জগদীশ্বরী, আপন মহিমায় দ্যাবা-পৃথিবী ও সৃষ্টির মধ্যে পরিব্যপ্ত হয়ে অবস্থান করেন, পরমচৈতন্যরূপা। মানবের কল্যাণে সর্বমঙ্গলা হোন উদ্বুদ্ধা।

শুভ্র শঙ্খরবে সারা নিখিল ধ্বনিত— আকাশতলে অনিলে-জলে, দিকে-দিগঞ্চলে— সকল লোকে, পুরে, বনে-বনান্তরে নৃত্যগীতছন্দে নন্দিত। শরৎপ্রকৃতি উল্লাসে উৎসব-গানে— চিরসুন্দর চিরসুন্দর চিতসুন্দর বন্দন রাগে— ত্রিলোকে জাগে শরন্ময়ী আনন্দে, মহাশক্তিরূপা মঞ্জুলশোভা জাগে আনন্দে রাজে কল্যাণী সদা সুখদা-বরদা-জয়দা ক্ষেমঙ্করী শুভা— অসুরনাশন দশপ্রহরণভুজা। রণিত বীণা-বেণু, মধু-ললিত-শমিত তানে শুভ আরতি-ঝঙ্কৃত ভুবনে নব গতিরাগে-যতি-অলঙ্কারে। প্রাণে প্রাণে ওঠে গীতি, সুধারসঘন শান্তি, ঝনঝন জয়বাণী।

পর্ব ৪: দেবীর রণসজ্জা, দশভুজা ধ্যান ও মহিষাসুর বধ
অস্ত্র সমর্পণ ও যুদ্ধযাত্রা

দেবী নিত্যা, তথাপি দেবগণের কার্যসিদ্ধিহেতু সর্বদেবশরীরজ তেজঃপুঞ্জ থেকে তখন প্রকাশিত হয়েছেন বলে তাঁর এই অভিনব প্রকাশ বা আবির্ভাবই মহিষমর্দিনীর উৎপত্তিরূপে খ্যাত হল। দেবী সজ্জিতা হলেন অপূর্ব রণচণ্ডী মূর্তিতে। হিমাচল দিলেন সিংহবাহন, বিষ্ণু দিলেন চক্র, পিনাকপাণি শঙ্কর দিলেন শূল, যম দিলেন তাঁর দণ্ড, কালদেব সুতীক্ষ্ণ খড়্গ, চন্দ্র অষ্টচন্দ্র শোভা চর্ম দিলেন, ধনুর্বাণ দিলেন সূর্য, বিশ্বকর্মা অভেদবর্ম, ব্রহ্মা দিলেন অক্ষমালা-কমণ্ডলু, কুবের রত্নহার। সকল দেবতা মহাদেবীকে নানা অলঙ্কারে অলঙ্কৃত ও বিবিধপ্রহরণে সুসজ্জিত করে অসুরবিজয় যাত্রায় যেতে প্রার্থনা করলেন। রণদুন্দুভিধ্বনিতে বিশ্বসংসার নিনাদিত হতে লাগল। যাত্রার পূর্বে সুর-নরলোকবাসী সকলেই দশপ্রহরণধারিণী দশভুজা মহাশক্তিকে ধ্যানমন্ত্রে করলেন অভিবন্দনা।

জটাজূটসমাযুক্তামর্ধেন্দুকৃতশেখরাম্‌ ।
লোচনত্রয়সংযুক্তাং পূর্ণেন্দুসদৃশাননাম্‌ ॥

অতসীপুষ্পবর্ণাভাং সুপ্রতিষ্ঠাং সুলোচনাম্‌ ।
নবযৌবনসম্পন্নাং সর্বাভরণভূষিতাম্‌ ॥

সুচারুদশনাং তদ্বৎ পীনোন্নত-পয়োধরাম্‌ ।
ত্রিভঙ্গস্থানসংস্থানাং মহিষাসুরমর্দিনীম্‌ ॥

মৃণালায়ত-সংস্পর্শ-দশবাহুসমন্বিতাম্‌ ।
ত্রিশূলং দক্ষিণে ধ্যেয়ং খড়্গং চক্রং ক্রমাদধঃ ॥
তীক্ষ্ণবাণং তথা শক্তিং দক্ষিণেষু বিচিন্তয়েৎ ।

খেটকং পূর্ণচাপঞ্চ পাশমঙ্কুশমেব চ ।
ঘন্টাং বা পরশুং বাপি বামতঃ সন্নিবেশয়েৎ ॥

অধস্তানন্মহিষং তদ্বদ্বিশিরষ্কং প্রদর্শয়েৎ ॥
রক্তারক্তীকৃতাঙ্গঞ্চ রক্তবিস্ফুরিতেক্ষণম্‌ ।
বেষ্টিতং নাগপাশেন ভ্রূকুটি-ভীষণাননম্‌ ॥

কিঞ্চিদুর্দ্ধং তথা বামমঙ্গুষ্ঠং মহিষোপরি ।
দেব্যাস্তু দক্ষিণং পাদং সমং সিংহোপরি স্থিতম্‌ ॥

স্তূয়মানঞ্চ তদ্রূপমমরৈঃ সন্নিবেশয়েৎ ।
প্রচণ্ডবদনাং দেবীং সর্বদাং বলপ্রদাং ॥

উগ্রচণ্ডা প্রচণ্ডা চ চণ্ডোগ্রা চণ্ডনায়িকা ।
চণ্ডা চণ্ডবতী চৈব চণ্ডরূপাতি চণ্ডিকা ॥
আভিঃ শক্তিভিষ্টাভিঃ সততং পরিবেষ্টিতাম্‌ ।
চিন্তয়েজ্জগতাং ধাত্রীং ধর্মকামার্থমোক্ষদাং ॥
দেবী দুর্গার পৌরাণিক দশভুজা ধ্যানমন্ত্র
জয়ন্তী মঙ্গলা কালী ভদ্রকালী কপালিনী ।
দুর্গা শিবা ক্ষমা ধাত্রী স্বাহা স্বধা নমোঽস্তু তে ॥
অর্গলা-স্তোত্র, শ্লোক – ২
রণহুঙ্কার ও অসুর বিনাশ

দেবীর বাহন সিংহরাজ দাবাগ্নির মত সমস্ত রণক্ষেত্রে শত্রুনিধনে দুর্নিবার হয়ে উঠল। নানাপ্রহরণধারিণী দেবী দুর্গা মধু পান করতে করতে মহিষরূপকে সদম্ভে বললেন—

“গর্জ গর্জ ক্ষণং মূঢ় মধু যাবৎ পিবাম্যহম্‌ ।
ময়া ত্বয়ি হতেঽত্রৈব গর্জিষ্যন্ত্যাশু দেবতাঃ ॥ “

— শ্রীশ্রীচণ্ডী, ৩য় অধ্যায়— মহিষাসুরবধ, শ্লোক ৩৮

দেবতাগণ সানন্দে দেখলেন, দুর্গা মহিষাসুরকে শূলে বিদ্ধ করেছেন আর খড়্গনিপাতে দৈত্যের মস্তক ভূলুণ্ঠিত। তখন অসুরনাশিনী দেবী মহালক্ষ্মীর আরাধনাগীতিসুষমা দ্যাবা-পৃথিবীতে পরিব্যাপ্ত হল।

বিজয়গীতি

মাগো, তব বীণে সঙ্গীত প্রেমললিত।
নিখিল প্রাণের বীণা তারে তারে রণিত।
সকল রোদন সেই সুরে গেল মরিয়া।
কালে কালে যত জমেছিল দুখযামিনী
ঊষার মূরতি ধরিয়া গাহিল রাগিনী।
জীবন উঠিল আলোকসুধায় ভরিয়া।

হে দেবী চণ্ডিকা, তোমার পুণ্যস্তবগাথা ঐশ্বর্য, সৌভাগ্য, আরোগ্য, শত্রুহানি ও পরম মোক্ষলাভের উপায়। তোমার স্তবমন্ত্রে মানবলোকে জাগরিত হোক ভূমানন্দের অপূর্ব প্রেরণা।

পর্ব ৫: নারায়ণী স্তুতি (শ্রীশ্রীচণ্ডী, একাদশ অধ্যায়)
দেবি প্রপন্নার্তিহরে প্রসীদ প্রসীদ মাতর্জগতোঽখিলস্য ।
প্রসীদ বিশ্বেশ্বরী পাহি বিশ্বং ত্বমীশ্বরী দেবি চরাচরস্য ॥ ৩ ॥

আধারভূতা জগতস্ত্বমেকা মহীস্বরূপেণ যতঃ স্থিতাসি ।
অপাং স্বরূপস্থিতয়া ত্বয়ৈতৎ আপ্যায়্যতে কৃৎস্নমলঙ্ঘ্যবীর্যে ॥ ৪ ॥

ত্বং বৈষ্ণবীশক্তিরনন্তবীর্যা বিশ্বস্য বীজং পরমাসি মায়া ।
সম্মোহিতং দেবি সমস্তমেতৎ ত্বং বৈ প্রসন্না ভুবি মুক্তিহেতুঃ ॥ ৫ ॥

বিদ্যাঃ সমস্তাস্তব দেবি ভেদাঃ স্ত্রিয়ঃ সমস্তাঃ সকলা জগৎসু ।
ত্বয়ৈকয়া পূরিতমম্বয়ৈতৎ কা তে স্তুতিঃ স্তব্যপরাপরোক্তিঃ ॥ ৬ ॥

সর্বভূতা যদা দেবী স্বর্গমুক্তিপ্রদায়িনী ।
ত্বং স্তুতা স্তুতয়ে কা বা ভবন্তু পরমোক্তয়ঃ ॥ ৭ ॥

সর্বস্য বুদ্ধিরূপেণ জন্য হৃদি সংস্থিতে ।
স্বর্গাপবর্গদে দেবি নারায়ণি নমোঽস্তু তে ॥ ৮ ॥

কলাকাষ্ঠাদিরূপেণ পরিণামপ্রদায়িনি ।
বিশ্বস্যোপরতৌ শক্তে নারায়ণি নমোঽস্তু তে ॥ ৯ ॥

সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে ।
শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরি নারায়ণি নমোঽস্তু তে ॥ ১০ ॥

সৃষ্টিস্থিতিবিনাশানাং শক্তিভূতে সনাতনি ।
গুণাশ্রয়ে গুণময়ে নারায়ণি নমোঽস্তু তে ॥ ১১ ॥

শরণাগতদীনার্তপরিত্রাণপরায়ণে ।
সর্বস্যার্তিহরে দেবি নারায়ণি নমোঽস্তু তে ॥ ১২ ॥

হংসযুক্তবিমানস্থে ব্রহ্মাণীরূপধারিণি ।
কৌশাম্ভঃক্ষরিকে দেবি নারায়ণি নমোঽস্তু তে ॥ ১৩ ॥

ত্রিশূলচন্দ্রাহিধরে মহাবৃষভবাহিনি ।
মাহেশ্বরীস্বরূপেণ নারায়ণি নমোঽস্তু তে ॥ ১৪ ॥

ময়ূরকুক্কুটবৃতে মহাশক্তিধরেঽনঘে ।
কৌমারীরূপসংস্থানে নারায়ণি নমোঽস্তু তে ॥ ১৫ ॥

শঙ্খচক্রগদাশার্ঙ্গগৃহীতপরমায়ুধে ।
প্রসীদ বৈষ্ণবীরূপে নারায়ণি নমোঽস্তু তে ॥ ১৬ ॥

গৃহীতোগ্রমহাচক্রে দংষ্ট্রোদ্ধৃতবসুন্ধরে ।
বরাহরূপিণি শিবে নারায়ণি নমোঽস্তু তে ॥ ১৭ ॥

নৃসিংহরূপেণ হন্তুং দৈত্যান্‌ কৃতোদ্যমে ।
ত্রৈলোক্যত্রাণসহিতে নারায়ণি নমোঽস্তু তে ॥ ১৮ ॥

কিরীটিনি মহাবজ্রে সহস্রনয়নোজ্জ্বলে ।
বৃত্রপ্রাণহরে চৈন্দ্রী নারায়ণি নমোঽস্তু তে ॥ ১৯ ॥

শিবদূতীস্বরূপেণ হতদৈত্যমহাবলে ।
ঘোররূপে মহারাবে নারায়ণি নমোঽস্তু তে ॥ ২০ ॥

দংষ্ট্রাকরালবদনে শিরোমালাবিভূষণে ।
চামুণ্ডে মুণ্ডমথনে নারায়ণি নমোঽস্তু তে ॥ ২১ ॥

লক্ষ্মি লজ্জে মহাবিদ্যে শ্রদ্ধে পুষ্টি স্বধে ধ্রুবে ।
মহারাত্রি মহামায়ে নারায়ণি নমোঽস্তু তে ॥ ২২ ॥

মেধে সরস্বতি বরে ভূতি বাভ্রবি তামসি ।
নিয়তে ত্বং প্রসীদেশে নারায়ণি নমোঽস্তু তে ॥ ২৩ ॥

জ্বালাকরালমত্যুগ্রমশেষাসুরসূদনম্‌ ।
ত্রিশূলং পাতু নো ভীতেভদ্রকালি নমোঽস্তু তে ॥ ২৬ ॥

হিনস্তি দৈত্যতেজাংসি স্বনেনাপূর্য যা জগৎ ।
সা ঘন্টা পাতু নো দেবি পাপেভ্যোঽনঃ সুতানিব ॥ ২৭ ॥

অসুরাসৃগ্‌বসাপঙ্কচর্চিতস্তে করোজ্জ্বলঃ ।
শুভায় খড়্গ ভবতু চণ্ডিকে ত্বাং নতা বয়ম্‌ ॥ ২৮ ॥

রোগানশেষানপহংসি তুষ্টা রুষ্টা তু কামান্‌ সকলানভীষ্টান ।
ত্বামাশ্রিতানাং ন বিপন্নরাণাং ত্বামাশ্রিতা হ্যাশ্রয়তাং প্রয়ান্তি ॥ ২৯ ॥

এতং কৃতং যৎ কদনং ত্বয়াদ্য ধর্মদ্বিষাং দেবি মহাসুরাণাম্‌ ।
রূপৈরনেকৈর্বহুধাত্মমূর্তিং কৃত্বাম্বিকে তৎ প্রকরোতি কান্যা ॥ ৩০ ॥

বিদ্যাসু শাস্ত্রেষু বিবেকদীপেষ্বাদ্যেষু বাক্যেষু চ কা ত্বদন্যা ।
মমত্বগর্তেঽতিমহান্ধকারে বিভ্রাময়ত্যেতদতীব বিশ্বম্‌ ॥ ৩১ ॥

রক্ষাংসি যত্রোগ্রবিষাশ্চ নাগা যত্রারয়ো দস্যুবলানি যত্র ।
দাবানলো যত্র তথাব্ধিমধ্যে তত্র স্থিতা ত্বং পরিপাসি বিশ্বম্‌ ॥ ৩২ ॥

বিশ্বেশ্বরি ত্বং পরিপাসি বিশ্বম্‌ বিশ্বাত্মিকা ধারয়সীতি বিশ্বম্‌ ।
বিশ্বেশবন্দ্যা ভবতী ভবন্তি বিশ্বাশ্রয়া যে ত্বয়ি ভক্তিনম্রাঃ ॥ ৩৩ ॥

দেবি প্রসীদ পরিপালয় নোঽরিভীতেঃ নিত্যং যথাসুরবধাদধুনৈব সদ্যঃ ।
পাপানি সর্বজগতাঞ্চ শমং নয়ায়ু উৎপাতপাকজনিতাংশ্চ মহোপসর্গান্‌ ॥ ৩৪ ॥

প্রণতানাং প্রসীদ ত্বং দেবি বিশ্বার্তিহারিণি ।
ত্রৈলোক্যবাসিনামীড্যে লোকানাং বরদা ভব ॥ ৩৫ ॥
শ্রীশ্রীচণ্ডী, একাদশ অধ্যায়— নারায়ণী স্তুতি, শ্লোক ৩-৩৫
প্রভাতী গান

বিমানে বিমানে আলোকের গানে জাগিল ধ্বনি
তব বীণা-তারে সে সুর বিহারে কি জাগরণি।
অরুণ-রবি যে নিখিল রাঙাল,
পূর্ব আঁচলে তন্দ্রা ভাঙাল,
রাঙা-হিল্লোলে ধরণী যে দোলে নূপুররণি।

দেবী দুর্গার ত্রিকালীন মহিমা

দেবীর অক্ষয় কৃপাকণা পেয়ে সপ্তলোক আনন্দিত। প্রথম কল্পে দেবী কাত্যায়ন-নন্দিনী কাত্যায়নী, অষ্টাদশভুজা উগ্রচণ্ডারূপে মহিষমর্দন করেন; দ্বিতীয় ষোড়শভুজা ভদ্রকালীর হস্তে মর্দিত হয় মহিষ; আর তৃতীয় বর্তমানকল্পে দশভুজা দুর্গারূপে মহাদেবী সুসজ্জিতা মহিষাসুরমর্দিনী।

পর্ব ৬: মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্রম্ (জগদ্গুরু আদি শঙ্করাচার্য)
জয় জয় জপ্য জয়ে জয় শব্দ পরস্তুতি তৎপর বিশ্বনুতে
ঝণঝণ ঝিংঝিমি ঝিংকৃতনূপুর শিঞ্জিতমোহিত ভূতপতে ।
নটিত নটার্ধ নটী নট নায়ক নাটিতনাট্য সুগানরতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ৯ ॥

অয়ি সুমনঃ সুমনঃ সুমনঃ সুমনঃ সুমনোহর কান্তিযুতে
শ্রিতরজনী রজনী রজনী রজনী রজনীকর বক্‌ত্রবৃতে ।
সুনয়ন বিভ্রমর ভ্রমর ভ্রমর ভ্রমর ভ্রমরাধিপতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ১০ ॥

কনকলসৎকল সিন্ধুজলৈরনুষিঞ্চতি তে গুণরঙ্গভুবং
ভজতি স কিং ন শচীকুচকুম্ভ তটীপরিরম্ভ সুখানুভবম্‌ ।
তব চরণং শরণং করবাণি নতমারবাণি নিবাসি শিবম্‌
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ১৮ ॥
শ্রীশ্রীমহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্রম্, শ্লোক ৯, ১০ ও ১৮
পর্ব ৭: অপরাজিতা স্তুতি— দেবীসূক্তম্ (শ্রীশ্রীচণ্ডী, পঞ্চম অধ্যায়)
নমো দেব্যৈ মহাদেব্যৈ শিবায়ৈ সততং নমঃ ।
নমঃ প্রকৃত্যৈ ভদ্রায়ৈ নিয়তাঃ প্রণতাঃ স্ম তাম্‌ ॥ ৯ ॥

রৌদ্রায়ৈ নমো নিত্যায়ৈ গৌর্যৈ ধাত্র্যৈ নমো নমঃ ।
জ্যোৎস্নায়ৈ চেন্দুরূপিণ্যৈ সুখায়ৈ সততং নমঃ ॥ ১০ ॥

কল্যাণ্যৈ প্রণতা বৃদ্ধ্যৈ সিদ্ধ্যৈ কুর্মো নমো নমঃ ।
নৈঋত্যৈ ভূভৃতাং লক্ষ্ম্যৈ শর্বাণ্যৈ তে নমো নমঃ ॥ ১১ ॥

দুর্গায়ৈ দুর্গপারায়ৈ সারায়ৈ সর্বকারিণ্যৈ ।
খ্যাত্যৈ তথৈব কৃষ্ণায়ৈ ধূম্রায়ৈ সততং নমঃ ॥ ১২ ॥

অতিসৌম্যাতিরৌদ্রায়ৈ নতাস্তস্যৈ নমো নমঃ ।
নমো জগৎপ্রতিষ্ঠায়ৈ দেব্যৈ কৃত্যৈ নমো নমঃ ॥ ১৩ ॥

যা দেবী সর্বভূতেষু বিষ্ণুমায়েতি শব্দিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ১৪-১৬ ॥

যা দেবী সর্বভূতেষু চেতনেত্যভিধীয়তে ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ১৭-১৯ ॥

যা দেবী সর্বভূতেষু বুদ্ধিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ২০-২২ ॥

যা দেবী সর্বভূতেষু নিদ্রারূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ২৩-২৫ ॥

যা দেবী সর্বভূতেষু ক্ষুধারূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ২৬-২৮ ॥

যা দেবী সর্বভূতেষু ছায়ারূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ২৯-৩১ ॥

যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৩২-৩৪ ॥

যা দেবী সর্বভূতেষু তৃষ্ণারূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৩৫-৩৭ ॥

যা দেবী সর্বভূতেষু ক্ষান্তিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৩৮-৪০ ॥

যা দেবী সর্বভূতেষু জাতিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৪১-৪৩ ॥

যা দেবী সর্বভূতেষু লজ্জারূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৪৪-৪৬ ॥

যা দেবী সর্বভূতেষু শান্তিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৪৭-৪৯ ॥

যা দেবী সর্বভূতেষু শ্রদ্ধারূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৫০-৫২ ॥

যা দেবী সর্বভূতেষু কান্তিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৫৩-৫৫ ॥

যা দেবী সর্বভূতেষু লক্ষ্মীরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৫৬-৫৮ ॥

যা দেবী সর্বভূতেষু বৃত্তিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৫৯-৬১ ॥

যা দেবী সর্বভূতেষু স্মৃতিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৬২-৬৪ ॥

যা দেবী সর্বভূতেষু দয়ারূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৬৫-৬৭ ॥

যা দেবী সর্বভূতেষু তুষ্টিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৬৮-৭০ ॥

যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৭১-৭৩ ॥

যা দেবী সর্বভূতেষু ভ্রান্তিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৭৪-৭৬ ॥

ইন্দ্রিয়াণামধিষ্ঠাত্রী ভূতাঞ্চাখিলেষু যা ।
ভূতেষু সততং তস্যৈ ব্যাপ্তিদেব্যৈ নমো নমঃ ॥ ৭৭ ॥

চিতিরূপেণ যা কৃৎস্নমেতদ্‌ ব্যাপ্য স্থিতা জগৎ ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৭৮-৮০ ॥
শ্রীশ্রীচণ্ডী, ৫ম অধ্যায়— দেবীসূক্তম্ (অপরাজিতা স্তুতি), শ্লোক ৯-৮০
নির্মল প্রাতের আবাহন গীতি

হে চিন্ময়ী, হিমগিরি থেকে
এলে কারে ডেকে নির্মল প্রাতে।
বসুন্ধরা যে সুবিমল সাজে অঞ্জলি হাতে।
নভোনীলিমায় বাজে মহাভেরী,
দিকে দিকে তব মাধুরি যে হেরি,
সুললিত তানে প্রাণে সুধা আনে আলোকেরি সাথে।
সাজাব যে ডালা, গাঁথিব যে মালা জ্যোতির মন্ত্রে,
তাই অন্তরে অমৃত যে ভরে পুলক তন্ত্রে।
বাণী মহাবর অম্লান মনে,
জননী গো নমি রাতুল চরণে,
পূজায় উল্লাসে ধরণী যে হাসে সুরভিত বাতে।

পর্ব ৮: ত্রিমূর্তি দর্শন, অর্গলা স্তোত্র ও সমাপনী শান্তি
ত্রিমূর্তি স্বরূপ

শ্রীশ্রীচণ্ডিকা গুণাতীতা ও গুণময়ী। সগুণ অবস্থায় দেবী চণ্ডিকা অখিলবিশ্বের প্রকৃতিস্বরূপিণী। তিনি পরিণামিনী নিত্যর্দিভ্যশ্চৈতন্যসৃষ্টিপ্রক্রিয়ায় যে শক্তির মধ্য দিয়ে ক্রিয়াশীলরূপে অভিব্যক্ত হন, সেই শক্তি বাক্‌ অথবা সরস্বতী; তাঁর স্থিতিকালোচিত শক্তির নাম শ্রী বা লক্ষ্মী; আবার সংহারকালে তাঁর যে শক্তির ক্রিয়া দৃষ্ট হয় তা-ই রুদ্রাণী দুর্গা। একাধারে এই ত্রিমূর্তির আরাধনাই দুর্গোৎসব। এই তিন মাতৃমূর্তির পূজায় আরত্রিকে মানবজীবনের কামনা, সাধনা সার্থক হয়, চতুর্বর্গ (ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ) লাভ করে মর্তলোক।

অমল কিরণে স্তুতিগীতি

অমল কিরণে ত্রিভুবনমনোহারিণি।
হেরিনু তোমার রূপে করুণা-লাবণী,
নমি নমি নমি নিখিল-চিতচারিণি,
জাগো পুলক নিত্য নূপুরে জননী।
তোমারেই পূজিছে দেবদেবী দ্বারে দ্বারে,
রাগিণী ধ্বনিছে আকাশবীণার তারে,
তনু-মন-প্রাণ নিবেদি ‘তোমারে নমি।
প্রেম-সুমোহন পূজা-ধূপে অয়ি ভরণি।
নমি জগতের সকল ক্ষেমকারিণী
লভিনু তোমার প্রেমে করুণা-লাবণী।

ষড়ৈশ্বর্যময়ী দেবী নিত্যা হয়েও বারংবার আবির্ভূতা হন। তিনি জগৎকে রক্ষা ও প্রতিপালন করেন। দেবীর করুণা অসীম; বিধাতৃ বরদার করুণার পুণ্যে বিশ্বনিখিল বিমোহিত; অমৃতরসবর্ষিণী মহাদেবীর অমল রূপের সুষমা প্রতিভাত ধরিত্রীর ধ্যান-গরিমায়।

জয়ন্তী মঙ্গলা কালী ভদ্রকালী কপালিনী ।
দুর্গা শিবা ক্ষমা ধাত্রী স্বাহা স্বধা নমোঽস্তু তে ॥ ২ ॥

মধুকৈটভবিধ্বংসি বিধাতৃ-বরদে নমঃ ।
রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি ॥ ৩ ॥

মহিষাসুরনির্ণাশি ভক্তনাং সুখদে নমঃ ।
রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি ॥ ৪ ॥

বন্দিতাঙ্ঘ্রিযুগে দেবি সর্বসৌভাগ্যদায়িনি ।
রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি ॥ ৮ ॥

অচিন্ত্যরূপচরিতে সর্বশত্রুবিনাশিনি ।
রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি ॥ ৯ ॥

নতেভ্যঃ সর্বদা ভক্ত্যা চাপর্ণে দুরিতাপহে ।
রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি ॥ ১০ ॥

দেহি সৌভাগ্যমারোগ্যং দেহি দেবি পরং সুখম্‌ ।
রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি ॥ ১৩ ॥

বিধেহি দেবি কল্যাণং বিধেহি বিপুলাং শ্রিয়ম্‌ ।
রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি ॥ ১৪ ॥

দেবি ভক্তজনোদ্দাম-দত্তানন্দদয়েঽম্বিকে ।
রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি ॥ ২৪ ॥

তারিণি দুর্গসংসার-সাগরস্যাচলোদ্ভবে ।
রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি ॥ ২৬ ॥
অর্গলা স্তোত্র, নির্বাচিত শ্লোকসমূহ
সমাপ্তি বার্তা

বিশ্বপ্রকৃতি মহাদেবী দুর্গার চরণে চিরন্তনী ভৈরব ধ্যানরতা পূজারিণী ভৈরবীতে গীতাঞ্জলী প্রদান করে ধন্যা হলেন। তাঁর গীতবাণী আজ অনিলে সুনীলে নবীন অরুণোদয়ে দিকে দিকে সঞ্চারিত।

মহালয়া সমাপ্তি শান্তিগীতি

শান্তি দিলে ভরি’।
দুখরজনী গেল তিমির হরি।
প্রেমমধুর গীতি
বাজুক হৃদে নিতি।
প্রাণে সুধা ঢালো
মরি গো মরি।

মহালয়া চণ্ডীপাঠের প্রধান শ্লোকসমূহের বাংলা অর্থ ও ভাবার্থ

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র পঠিত মহালয়া মহিষাসুরমর্দিনীর প্রধান স্তব ও শ্লোকগুলির সহজ সরল বঙ্গানুবাদ নিচে দেওয়া হলো:

শ্লোক ও স্তোত্র সহজ ও প্রাঞ্জল বাংলা ভাবার্থ
আদ্যা চণ্ডিকা ধ্যান
যা চণ্ডী মধুকৈটভাদি...
যে দেবী চণ্ডিকা মধুকৈটভ প্রভৃতি অসুরদের দলন করেছেন, মহিষাসুরকে সমূলে বিনাশ করেছেন, ধূম্রলোচন ও চণ্ড-মুণ্ডকে বধ করেছেন এবং রক্তবীজের রক্ত পান করে নিধন করেছেন; যিনি শুম্ভ-নিশুম্ভকে ধ্বংসকারী পরম সিদ্ধিদাত্রী মহাশক্তি—নয় কোটি দিব্য রূপের সাথে সেই বিশ্বেশ্বরী দেবী আমাদের রক্ষা করুন।
মহাসরস্বতী ধ্যান
সিংহস্থা শশিশেখরা...
যিনি সিংহের পিঠে উপবিষ্টা, কপালে যাঁর চন্দ্রকলা শোভিত, যিনি পান্নার ন্যায় মরকত বর্ণাভায় দীপ্তিময়ী, চতুর্ভুজা, শঙ্খ-চক্র-ধনু-বাণ ধারিণী এবং ত্রিনয়নী; যাঁর অঙ্গ অঙ্গদ, হার, কঙ্কণ, ঝঙ্কৃত কোমরবন্ধ ও নূপুরে অলঙ্কৃত—সেই দুর্গতিহারিণী রত্নকুণ্ডলধারিণী মা দুর্গা আমাদের সকল অমঙ্গল দূর করুন।
দেবীসূক্তম্
অহং রুদ্রেভির্বসুভিশ্চরাম্যহম্...
আমিই একাদশ রুদ্র, দ্বাদশ আদিত্য, অষ্ট বসু ও বিশ্বদেবগণের রূপে বিচরণ করি। আমিই বরুণ, মিত্র, ইন্দ্র ও অগ্নিকে ধারণ করি। নিখিল বিশ্বব্রহ্মাণ্ড আমারই শক্তিপ্রকাশ; আমি পরমাত্মারূপে সকলের অন্তরে বিরাজিতা পরম চৈতন্যময়ী আদি প্রকৃতি।
প্রণাম মন্ত্র
সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে...
হে সর্বমঙ্গলকারয়িত্রী, পরমকল্যাণময়ী, সকলের মনোবাঞ্ছাপূর্ণকারিণী শিবস্বরূপা, শরণদাত্রী, ত্রিনয়নী দেবী গৌরী নারায়ণী—তোমাকে আমার শতকোটি সশ্রদ্ধ প্রণাম।
রূপং দেহি জয়ং দেহি
অর্গলা স্তোত্র
হে দেবী! আমাদের দিব্য রূপ (আত্মসৌন্দর্য ও জ্ঞান) দাও, ধর্মাধর্মের দ্বন্দ্বে জয় দাও, সৎ কীর্তি ও যশ প্রদান করো এবং আমাদের অন্তরের কাম-ক্রোধ-লোভ প্রভৃতি রিপু ও শত্রুদের বিনাশ করো।
অপরাজিতা স্তুতি
যা দেবী সর্বভূতেষু...
যে দেবী সর্বভূতে বিষ্ণুমায়া, চেতনা, বুদ্ধি, নিদ্রা, ক্ষুধা, ছায়া, শক্তি, ক্ষমা, লজ্জা, শান্তি, শ্রদ্ধা, কান্তি, লক্ষ্মী, দয়া, তুষ্টি ও স্নেহের মাতৃরূপে সংস্থিতা—সেই পরমারাধ্যা জগজ্জননীকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার, শতকোটি প্রণাম।

আকাশবাণীর মহিষাসুরমর্দিনী ও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের অবিস্মরণীয় ইতিহাস

বাঙালির জীবনে মহালয়া মানেই ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন হিমেল হাওয়া, শিউলি ফুলের মিষ্টি সুবাস এবং রেডিওর নবে আকাশবাণীর উদাত্ত সুর— "আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোক-মঞ্জীর..."। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের এই অমর কণ্ঠ ছাড়া বাঙালির দুর্গোৎসবের সূচনা কল্পনাও করা যায় না।

মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠ শোনার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

মহালয়ার পুণ্যলগ্নে এই মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্রপাঠ শোনার গভীর আধ্যাত্মিক ও মানসিক সুফল রয়েছে:

  1. দেবীপক্ষের আবাহন ও অন্ধকার বিনাশ: পিতৃপক্ষের অবসানে অমাবস্যার পর মহালয়া হলো দেবীপক্ষের সূচনা। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের স্তোত্রপাঠের মাধ্যমে মর্তে মা দুর্গার আগমন ঘটে এবং মানুষের মনের যাবতীয় অশুভ প্রভাব ও অন্ধকার দূরীভূত হয়।
  2. পবিত্র কম্পন ও মনঃসংযোগ: সংস্কৃত শ্লোক এবং বিশুদ্ধ বৈদিক স্বরোচ্চারণ গৃহের বাস্তু পরিবেশকে অত্যন্ত পবিত্র করে তোলে এবং শ্রোতার হৃদয়ে অদ্ভুত আত্মিক শান্তি সঞ্চার করে।
  3. বীরত্ব ও সুরক্ষার অনুপ্রেরণা: মহিষাসুর বধের আখ্যান ভক্তের অন্তরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অপার সাহস, তেজ ও মানসিক শক্তি জাগ্রত করে।
  4. সংসারে সুখ-শান্তি ও সৌভাগ্য: নারায়ণী স্তুতি ও অর্গলা স্তোত্রের ফলশ্রুতি অনুযায়ী, এই স্তব শ্রবণ ও পাঠে পরিবারে দীর্ঘায়ু, রোগমুক্তি, সমৃদ্ধি ও পারিবারিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়।

বিনামূল্যে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহালয়া চণ্ডীপাঠ PDF ডাউনলোড ও প্রিন্ট

মহালয়ার ভোরে ও দুর্গাপূজার দিনগুলিতে সম্পূর্ণ পাঠ ও লিরিক্স সহজে সাথে রাখার জন্য নিচের বোতামে ক্লিক করে সরাসরি PDF ফাইল সেভ বা প্রিন্ট করে নিন:

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহালয়া চণ্ডীপাঠ সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্নাবলী (FAQ)

প্র. আকাশবাণীতে মহিষাসুরমর্দিনী অনুষ্ঠান কবে প্রথম সম্প্রচারিত হয়?
উ. আকাশবাণীতে ১৯৩১ সালের মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠে প্রথম 'মহিষাসুরমর্দিনী' সম্প্রচারিত হয়েছিল। এটি বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘতম সম্প্রচারিত রেডিও ঐতিহ্য।
প্র. মহিষাসুরমর্দিনী অনুষ্ঠানের রচয়িতা ও সুরকার কারা ছিলেন?
উ. মহিষাসুরমর্দিনী অনুষ্ঠানের রচনা ও গ্রন্থনা করেছিলেন বাণীকুমার (বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য), সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন সঙ্গীতজ্ঞ পঙ্কজ কুমার মল্লিক এবং মূল স্তোত্রপাঠ করেছিলেন পণ্ডিত বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র।
প্র. বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠে কোন কোন শাস্ত্রীয় স্তোত্র পঠিত হয়েছে?
উ. এতে শ্রীশ্রীচণ্ডিকার ধ্যান, মহাসরস্বতী ধ্যান, ঋগ্বেদীয় দেবীসূক্তম্, শ্রীশ্রীচণ্ডীর প্রথম অধ্যায়ের মধুকৈটভবধ স্তোত্র, একাদশ অধ্যায়ের নারায়ণী স্তুতি, পঞ্চম অধ্যায়ের অপরাজিতা স্তুতি (যা দেবী সর্বভূতেষু), আদি শঙ্করাচার্যের মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্রম্ এবং অর্গলা স্তোত্রের শ্লোকসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্র. মহালয়ার দিন ভোর ৪টায় মহিষাসুরমর্দিনী শোনার প্রথা কীভাবে গড়ে উঠল?
উ. সনাতন শাস্ত্রমতে ব্রাহ্মমুহূর্তে দেবীপক্ষের সূচনায় দেবীর আবাহন সবচেয়ে কল্যাণময়। সেই ঐতিহ্য মেনে ১৯৩১ সাল থেকে প্রতি বছর মহালয়ার ভোরে আকাশবাণীতে সরাসরি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে এই অনুষ্ঠান বাজানো শুরু হয়, যা পরবর্তীকালে প্রতিটি বাঙালি গৃহের আবশ্যিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়।
প্র. ১৯৭৬ সালে মহিষাসুরমর্দিনী নিয়ে কী ঘটেছিল?
উ. ১৯৭৬ সালে আকাশবাণী কর্তৃপক্ষ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের বদলে উত্তম কুমারের কণ্ঠে 'দেবী দুর্গতিহারিণীম' অনুষ্ঠান সম্প্রচার করলে শ্রোতাদের তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। ফলে আকাশবাণী পরবর্তী বছরগুলোতে পুনরায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের অমর মহিষাসুরমর্দিনী সম্প্রচার বহাল রাখে।
অক্ষর সাইজ:

মা দুর্গা স্তোত্র, চালিশা ও পাঠসমূহ

অন্যান্য দেব-দেবী দর্শন

হনুমান

হনুমান

24 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শিব

শিব

9 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা লক্ষ্মী

মা লক্ষ্মী

20 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
গণেশ

গণেশ

25 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শ্রী কৃষ্ণ

শ্রী কৃষ্ণ

30 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শ্রী রাম

শ্রী রাম

18 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা কালী

মা কালী

22 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শ্রী বিষ্ণু

শ্রী বিষ্ণু

19 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা সরস্বতী

মা সরস্বতী

15 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শনি দেব

শনি দেব

21 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
সূর্য দেব

সূর্য দেব

14 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
সাই বাবা

সাই বাবা

16 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
জগন্নাথ

জগন্নাথ

17 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
নবগ্রহ

নবগ্রহ

26 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন