শ্রী দুর্গা চালিসা (Durga Chalisa in Bengali) হলো মহাশক্তি দুর্গতিনাশিনী জগজ্জননী মা দুর্গার অপার মহিমা, বীরত্ব ও করুণায় নিবেদিত ৪০টি অত্যন্ত পবিত্র ও সিদ্ধ শ্লোকের এক কালজয়ী স্তোত্র। এখানে আপনি সম্পূর্ণ Durga Chalisa in Bengali lyrics, প্রতিটি শ্লোকের সহজ ও প্রাঞ্জল বাংলা অর্থ (meaning), পাঠের সঠিক নিয়ম ও আশ্চর্য উপকারিতা বিস্তারিতভাবে জানতে পারবেন এবং চাইলে Durga Chalisa PDF Download করতে পারবেন। প্রতিদিন প্রাতঃকালে বা বিশেষ করে নবরাত্রি ও শুক্লপক্ষের অষ্টমী-নবমীতে ভক্তিভরে এই চালিসা পাঠ করলে জীবনের সর্বপ্রকার ভয়, শত্রুবাধা, দারিদ্র ও ঘোর সংকট দূর হয়ে দেবী দুর্গার আশীর্বাদে অপার্থিব সুখ, শান্তি ও পরম কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
শ্রী দুর্গা চালিশার মূল স্তোত্রটি ৪০টি পবিত্র শ্লোক (চৌপাঈ) এবং সমাপনী প্রার্থনামূলক দোহার সমন্বয়ে গঠিত। নিচে সম্পূর্ণ বাংলা পাঠ তুলে ধরা হলো:
| নমো নমো দুর্গে সুখ করনী । নমো নমো অম্বে দুঃখ হরনী ॥১॥ |
| নিরঙ্কার হৈ জ্যোতি তুম্হারী । তিহুঁ লোক ফৈলী উজিয়ারী ॥২॥ |
| শশি ললাট মুখ মহা বিশালা । নেত্র লাল ভৃকুটী বিকরালা ॥৩॥ |
| রূপ মাতু কো অধিক সুহাবে । দরশ করত জন অতি সুখ পাবে ॥৪॥ |
| তুম সংসার শক্তি লয় কীনা । পালন হেতু অন্ন ধন দীনা ॥৫॥ |
| অন্নপূর্ণা হুই জগ পালা । তুমহী আদি সুন্দরী বালা ॥৬॥ |
| প্রলয়কাল সব নাশন হারী । তুম গৌরী শিব শঙ্কর প্যারী ॥৭॥ |
| শিব যোগী তুম্হরে গুণ গাবৈং । ব্রহ্মা বিষ্ণু তুম্হেং নিত ধ্যাবৈং ॥৮॥ |
| রূপ সরস্বতী কো তুম ধারা । দে সুবুদ্ধি ঋষি মুনিন উবারা ॥৯॥ |
| ধরয়ো রূপ নরসিংহ কো অম্বা । পরগট ভঈ ফাড় কর খম্বা ॥১০॥ |
| রক্ষা করি প্রহ্লাদ বচায়ো । হিরণ্যাক্ষ কো স্বর্গ পঠায়ো ॥১১॥ |
| লক্ষ্মী রূপ ধরো জগ মাহীং । শ্রী নারায়ণ অঙ্গ সমাহীং ॥১২॥ |
| ক্ষীরসিন্ধু মেং করত বিলাসা । দয়াসিন্ধু দীজৈ মন আসা ॥১৩॥ |
| হিঙ্গলাজ মেং তুম্হীং ভবানী । মহিমা অমিত ন জাত বখানী ॥১৪॥ |
| মাতঙ্গী ধূমাবতী মাতা । ভুবনেশ্বরী বগলা সুখদাতা ॥১৫॥ |
| শ্রী ভৈরব তারা জগ তারিণী । ছিন্ন ভাল ভব দুঃখ নিবারিণী ॥১৬॥ |
| কেহরি বাহন সোহ ভবানী । লাঙ্গুর বীর চলত অগবানী ॥১৭॥ |
| কর মেং খপ্পর খড়্গ বিরাজে । জাকো দেখ কাল ডর ভাজে ॥১৮॥ |
| সোহৈ কর মেং অস্ত্র ত্রিশূলা । জাতে উঠত শত্রু হিয় শূলা ॥১৯॥ |
| নগরকোট মেং তুম্হীং বিরাজত । তিহুঁ লোক মেং ডঙ্কা বাজত ॥২০॥ |
| শুম্ভ নিশুম্ভ দানব তুম মারে । রক্তবীজ শঙ্খন সংহারে ॥২১॥ |
| মহিষাসুর নৃপ অতি অভিমানী । জেহি অঘ ভার মহী অকুলানী ॥২২॥ |
| রূপ করাল কালিকা ধারা । সেন সহিত তুম তিহি সংহারা ॥২৩॥ |
| পরী গাঢ় সন্তন পর জব জব । ভয়ি সহায় মাতু তুম তব তব ॥২৪॥ |
| অমরপুরী অরু বাসব লোকা । তব মহিমা সব কহেং অশোকা ॥২৫॥ |
| জ্বালা মেং হৈ জ্যোতি তুম্হারী । তুম্হেং সদা পূজৈং নর-নারী ॥২৬॥ |
| প্রেম ভক্তি সে জো যশ গাবৈং । দুঃখ দারিদ্র নিকট নহিঁ আবৈং ॥২৭॥ |
| ধ্যাবৈ তুম্হেং জো নর মন লাঈ । জন্ম মরণ তে সৌং ছুট জাঈ ॥২৮॥ |
| জোগী সুর মুনি কহত পুকারী । যোগ ন হোই বিন শক্তি তুম্হারী ॥২৯॥ |
| শঙ্কর আচারজ তপ কীনো । কাম অরু ক্রোধ জীত সব লীনো ॥৩০॥ |
| নিশিদিন ধ্যান ধরো শঙ্কর কো । কাহু কাল নহিঁ সুমিরো তুমকো ॥৩১॥ |
| শক্তি রূপ কো মরম ন পায়ো । শক্তি গয়ী তব মন পছুতায়ো ॥৩২॥ |
| শরণাগত হুই কীর্তি বখানী । জয় জয় জয় জগদম্ব ভবানী ॥৩৩॥ |
| ভয়ি প্রসন্ন আদি জগদম্বা । দয়ী শক্তি নহিঁ কীন বিলম্বা ॥৩৪॥ |
| মোকো মাতু কষ্ট অতি ঘেরো । তুম বিন কৌন হরৈ দুঃখ মেরো ॥৩৫॥ |
| আশা তৃষ্ণা নিপট সতাবৈং । রিপু মূরখ মোহি অতি দরপাবৈং ॥৩৬॥ |
| শত্রু নাশ কীজৈ মহারানী । সুমিরৌং ইকচিত তুম্হে ভবানী ॥৩৭॥ |
| করো কৃপা হে মাতু দয়ালা । ঋদ্ধি-সিদ্ধি দৈ করহু নিহালা ॥৩৮॥ |
| জব লগি জীয়ূং দয়া ফল পাবূং । তুম্হরো যশ মৈং সদা সুনাবূং ॥৩৯॥ |
| দুর্গা চালীসা জো নর গাবৈ । সব সুখ ভোগ পরমপদ পাবৈ ॥৪০॥ |
| দেবীদাস শরণ নিজ জানী । করহু কৃপা জগদম্ব ভবানী ॥ |
বলো আদি পরাশক্তি মা দুর্গা কি জয়! বলো জগদম্বা ভবানী কি জয়! 🙏
শ্রী দুর্গা চালিশার প্রতিটি শ্লোকের অন্তর্নিহিত ভাব ও সহজ সরল বাংলা অর্থ নিচে বিস্তারিত ছক আকারে দেওয়া হলো:
| নমো নমো দুর্গে সুখ করনী । নমো নমো অম্বে দুঃখ হরনী ॥১॥ |
হে মা দুর্গা, আপনাকে বারবার প্রণাম, আপনি সকলের পরম সুখ ও আনন্দ প্রদানকারিণী। হে জগন্মাতা অম্বা, আপনাকে বারবার প্রণাম, আপনি ভক্তদের সর্বপ্রকার দুঃখ ও সংকট হরণকারিণী। |
| নিরঙ্কার হৈ জ্যোতি তুম্হারী । তিহুঁ লোক ফৈলী উজিয়ারী ॥২॥ |
হে দেবী, আপনার দিব্য জ্যোতি পরম নিরাকার ও শাশ্বত। আপনার সেই অপ্রমেয় ঐশ্বরিক আলো স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল—এই তিন লোকেই পরিব্যাপ্ত হয়ে জগৎকে আলোকিত করে রেখেছে। |
| শশি ললাট মুখ মহা বিশালা । নেত্র লাল ভৃকুটী বিকরালা ॥৩॥ |
আপনার কপালে স্নিগ্ধ চন্দ্রমা শোভা পাচ্ছে এবং আপনার দিব্য মুখমণ্ডল অত্যন্ত মহিমান্বিত ও বিশাল। আপনার ত্রিনয়ন রক্তিম আভাযুক্ত এবং অসুর সংহারের ক্রোধে আপনার ভ্রূযুগল বিকট ও তেজস্বী রূপ ধারণ করেছে। |
| রূপ মাতু কো অধিক সুহাবে । দরশ করত জন অতি সুখ পাবে ॥৪॥ |
হে মা, আপনার মাতৃরূপ অত্যন্ত স্নিগ্ধ, মনোহর ও নয়নাভিরাম। আপনার এই অপরূপ দিব্য রূপ দর্শন করামাত্রই সাধক ও ভক্তের হৃদয় পরম শান্তিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে। |
| তুম সংসার শক্তি লয় কীনা । পালন হেতু অন্ন ধন দীনা ॥৫॥ |
এই নিখিল বিশ্বের সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়—সবই আপনার অমোঘ মহাশক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। জগতের সমস্ত জীবকে বাঁচিয়ে রাখা ও প্রতিপালনের জন্য আপনিই অন্ন, ধন-ধান্য ও ঐশ্বর্য প্রদান করেন। |
| অন্নপূর্ণা হুই জগ পালা । তুমহী আদি সুন্দরী বালা ॥৬॥ |
আপনিই পরম করুণাময়ী মাতা অন্নপূর্ণা রূপ ধারণ করে সমগ্র সৃষ্টিকে অন্নদান করে রক্ষা করেন। আপনিই সৃষ্টির আদি পরমাসুন্দরী দিব্য কিশোরী রূপিণী দেবী। |
| প্রলয়কাল সব নাশন হারী । তুম গৌরী শিব শঙ্কর প্যারী ॥৭॥ |
মহাপ্রলয়ের কাল উপস্থিত হলে আপনিই সংহারিণী মহাকালী রূপে সমস্ত অশুভ ও সৃষ্টির সংহার করেন। আবার আপনিই পরম শান্তিময়ী মাতা গৌরী, যিনি দেবাধিদেব পরমেশ্বর শিবশঙ্করের পরম প্রিয় অর্ধাঙ্গিনী। |
| শিব যোগী তুম্হরে গুণ গাবৈং । ব্রহ্মা বিষ্ণু তুম্হেং নিত ধ্যাবৈং ॥৮॥ |
পরম যোগীশ্বর মহাদেব সদা আপনার দিব্য গুণগান ও স্তুতি করেন। স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা ও পালনকর্তা শ্রীবিষ্ণু প্রতিদিন ভক্তিভরে আপনার শ্রীচরণ ধ্যান করেন। |
| রূপ সরস্বতী কো তুম ধারা । দে সুবুদ্ধি ঋষি মুনিন উবারা ॥৯॥ |
হে দেবী, আপনিই দেবী সরস্বতীর রূপ ধারণ করে থাকেন। সাধক, ঋষি ও মুনিদের শুদ্ধ বুদ্ধি ও দিব্য জ্ঞান দান করে আপনি তাঁদের সকল সংকট ও অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে উদ্ধার করেন। |
| ধরয়ো রূপ নরসিংহ কো অম্বা । পরগট ভঈ ফাড় কর খম্বা ॥১০॥ |
হে মাতা অম্বা, ভক্তের কাতর প্রার্থনায় আপনিই নৃসিংহ অবতারের মহাশক্তি রূপ ধারণ করেছিলেন এবং রাজপ্রাসাদের পাথরের স্তম্ভ বিদীর্ণ করে অলৌকিকভাবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। |
| রক্ষা করি প্রহ্লাদ বচায়ো । হিরণ্যাক্ষ কো স্বর্গ পঠায়ো ॥১১॥ |
পরম ভক্ত বালক প্রহ্লাদকে আপনি সর্বতোভাবে রক্ষা করেছিলেন এবং অত্যাচারী দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুকে সংহার করে স্বর্গের দেবতাদের অভয় প্রদান করেছিলেন। |
| লক্ষ্মী রূপ ধরো জগ মাহীং । শ্রী নারায়ণ অঙ্গ সমাহীং ॥১২॥ |
আপনিই এই সংসারে পরম কল্যাণময়ী দেবী মহালক্ষ্মীর রূপ ধারণ করেন এবং পরমেশ্বর ভগবান শ্রীনারায়ণের বক্ষে ও অঙ্গে চিরবিরাজিতা থাকেন। |
| ক্ষীরসিন্ধু মেং করত বিলাসা । দয়াসিন্ধু দীজৈ মন আসা ॥১৩॥ |
হে দেবী, আপনি নারায়ণ সহ ক্ষীরসমুদ্রে বিরাজ করে দিব্য লীলা বিলাস করেন। আপনি অপার দয়ার সাগর; কৃপা করে আমার হৃদয়ের সমস্ত শুদ্ধ ও শুভ বাসনা পূর্ণ করুন। |
| হিঙ্গলাজ মেং তুম্হীং ভবানী । মহিমা অমিত ন জাত বখানী ॥১৪॥ |
পবিত্র হিঙ্গলাজ তীর্থের মহাসিদ্ধ শক্তিপীঠে আপনিই ভবানী রূপে অধিষ্ঠিত। আপনার অপার মহিমা ও অলৌকিক লীলা এতই অনন্ত যে ভাষায় তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। |
| মাতঙ্গী ধূমাবতী মাতা । ভুবনেশ্বরী বগলা সুখদাতা ॥১৫॥ |
আপনিই দশমহাবিদ্যার পরাশক্তি—দেবী মাতঙ্গী ও দেবী ধূমাবতী। আবার আপনিই সমগ্র বিশ্বের ধাত্রী দেবী ভুবনেশ্বরী এবং শত্রুনাশী বগলামুখী, যিনি শরণাগতকে সকল প্রকার সুখ দান করেন। |
| শ্রী ভৈরব তারা জগ তারিণী । ছিন্ন ভাল ভব দুঃখ নিবারিণী ॥১৬॥ |
আপনিই ভৈরবের সঙ্গিনী দেবী তারা, যিনি ভবসংসারের মহাসমুদ্র থেকে ভক্তকে পার করান। আপনিই ছিন্নমস্তা দেবী, যিনি ভক্তের সমস্ত জাগতিক মোহ, জন্ম-মৃত্যু ও যন্ত্রণার অবসান ঘটান। |
| কেহরি বাহন সোহ ভবানী । লাঙ্গুর বীর চলত অগবানী ॥১৭॥ |
হে দেবী ভবানী, পরাক্রমী কেশরী সিংহ আপনার দিব্য বাহন হিসেবে শোভা পায়। আর মহাবীর বজরঙ্গবলী হনুমানজি (লাঙ্গুর বীর) পথপ্রদর্শক হয়ে সদাসর্বদা আপনার অগ্রভাগে গমন করেন। |
| কর মেং খপ্পর খড়্গ বিরাজে । জাকো দেখ কাল ডর ভাজে ॥১৮॥ |
আপনার পবিত্র করকমলে রক্তপাত্র (খর্পর) ও তেজস্বী খড়্গ সুশোভিত থাকে। আপনার সেই রণরঙ্গিনী সংহারক রূপ দর্শন করামাত্র স্বয়ং মহাকালও ভয়ে পলায়ন করে। |
| সোহৈ কর মেং অস্ত্র ত্রিশূলা । জাতে উঠত শত্রু হিয় শূলা ॥১৯॥ |
আপনার অপর হাতে দেবাদিদেব প্রদত্ত অমোঘ ত্রিশূল শোভা পায়। সেই মহাতেজস্বী ত্রিশূলের ঝলক দেখেই অসৎ ও শত্রুভাবাপন্নদের অন্তরে ভয়ের কাঁপন ধরে। |
| নগরকোট মেং তুম্হীং বিরাজত । তিহুঁ লোক মেং ডঙ্কা বাজত ॥২০॥ |
ঐতিহাসিক জাগ্রত শক্তিপীঠ নগরকোটে (কাংড়া) আপনিই সাক্ষাৎ রূপ নিয়ে বিরাজ করছেন। স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতালে আপনার বিজয় ও শক্তির জয়ডঙ্কা সদা ধ্বনিত হয়। |
| শুম্ভ নিশুম্ভ দানব তুম মারে । রক্তবীজ শঙ্খন সংহারে ॥২১॥ |
অত্যাচারী দানব ভ্রাতৃদ্বয় শুম্ভ ও নিশুম্ভকে আপনি রণক্ষেত্রে বধ করেছিলেন। এবং যার রক্তের প্রতিটি বিন্দু থেকে নতুন অসুর জন্ম নিচ্ছিল, সেই রক্তবীজ ও তার কোটি কোটি সেনাকে আপনি সংহার করেছিলেন। |
| মহিষাসুর নৃপ অতি অভিমানী । জেহি অঘ ভার মহী অকুলানী ॥২২॥ |
অহঙ্কারী অসুররাজ মহিষাসুর যখন নিজের পাপে মত্ত হয়ে ত্রিভুবনকে জর্জরিত করেছিল এবং তার পাপের ভারে ধরিত্রী মাতা ব্যাকুল ও ক্রন্দনরত হয়েছিলেন— |
| রূপ করাল কালিকা ধারা । সেন সহিত তুম তিহি সংহারা ॥২৩॥ |
তখন আপনি ভয়ংকরী করাল রূপিণী কালিকার বেশ ধারণ করেছিলেন এবং সমস্ত অসুর সেনাসহ সেই মহিষাসুরকে যুদ্ধক্ষেত্রে সমূলে বিনাশ করেছিলেন। |
| পরী গাঢ় সন্তন পর জব জব । ভয়ি সহায় মাতু তুম তব তব ॥২৪॥ |
সাধু-সন্ত, ধার্মিক মানুষ ও দেবতাদের ওপর যখনই কোনো কঠিন সংকট এসেছে, হে মমতাময়ী মা, আপনি তখনই আবির্ভূত হয়ে তাঁদের একমাত্র আশ্রয় ও রক্ষাকর্ত্রী হয়েছেন। |
| অমরপুরী অরু বাসব লোকা । তব মহিমা সব কহেং অশোকা ॥২৫॥ |
স্বর্গপুরী (অমরপুরী) এবং দেবরাজ ইন্দ্রের (বাসব) ভবনে দেবতারা আপনার কৃপায় সকল শোক ও ভয় থেকে মুক্ত হয়ে সর্বদা আপনার যশ ও মহিমা কীর্তন করেন। |
| জ্বালা মেং হৈ জ্যোতি তুম্হারী । তুম্হেং সদা পূজৈং নর-নারী ॥২৬॥ |
পবিত্র জ্বালামুখী শক্তিপীঠে অক্ষয় জ্বলন্ত জ্যোতিশিখা রূপেই আপনার সাক্ষাৎ শক্তি প্রকাশমান। সেই জ্যোতিম্বরূপিণী মাতাকে সর্বযুগের নর-নারী ভক্তিভরে নিত্য পূজা করেন। |
| প্রেম ভক্তি সে জো যশ গাবৈং । দুঃখ দারিদ্র নিকট নহিঁ আবৈং ॥২৭॥ |
যে ভক্ত পরম প্রেম ও একনিষ্ঠ ভক্তিভরে আপনার দিব্য যশ ও স্তোত্র গান করেন, কোনোপ্রকার দুঃখ, দারিদ্র বা আর্থিক অভাব তাঁর নিকটেও আসতে পারে না। |
| ধ্যাবৈ তুম্হেং জো নর মন লাঈ । জন্ম মরণ তে সৌং ছুট জাঈ ॥২৮॥ |
যে মানব একাগ্র চিত্তে ভক্তি সহকারে আপনার শ্রীচরণে ধ্যানস্থ হয়, সে এই ভবসংসারের জন্ম ও মৃত্যুর বন্ধন ছিন্ন করে পরম মোক্ষ লাভ করে। |
| জোগী সুর মুনি কহত পুকারী । যোগ ন হোই বিন শক্তি তুম্হারী ॥২৯॥ |
মহাযোগী, দেবতা ও ঋষি-মুনিরা সমস্বরে ঘোষণা করেন—হে দেবী, আপনার মহাশক্তির কৃপা ছাড়া কোনোপ্রকার আধ্যাত্মিক যোগ, সমাধি বা জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়। |
| শঙ্কর আচারজ তপ কীনো । কাম অরু ক্রোধ জীত সব লীনো ॥৩০॥ |
জগদগুরু আদি শঙ্করাচার্য একদা কঠোর তপস্যা করেছিলেন এবং কাম, ক্রোধ প্রভৃতি ষড়রিপুকে সম্পূর্ণ জয় করে নিয়েছিলেন। |
| নিশিদিন ধ্যান ধরো শঙ্কর কো । কাহু কাল নহিঁ সুমিরো তুমকো ॥৩১॥ |
তিনি অহর্নিশ কেবল নিরাকার পরমেশ্বর শিবেরই ধ্যান করতেন, কিন্তু আদি পরাশক্তি মহামায়া যে শিবেরই মূল চালিকাশক্তি—তা বিস্মৃত হয়ে আপনার স্মরণ করেননি। |
| শক্তি রূপ কো মরম ন পায়ো । শক্তি গয়ী তব মন পছুতায়ো ॥৩২॥ |
তিনি আপনার শক্তির রহস্য উপলব্ধি করতে পারেননি। কিন্তু যখন তাঁর সমস্ত দৈহিক ও মানসিক শক্তি অবলুপ্ত হলো এবং তিনি শক্তিহীন হয়ে পড়লেন, তখন নিজের ভুল বুঝে মনে তীব্র অনুশোচনা করলেন। |
| শরণাগত হুই কীর্তি বখানী । জয় জয় জয় জগদম্ব ভবানী ॥৩৩॥ |
তখন তিনি আপনার শ্রীচরণে সম্পূর্ণ শরণাপন্ন হয়ে আকুল চিত্তে আপনার অনন্ত মহিমা কীর্তন করলেন—"জয় জয় জয় জগদম্বা মাতা ভবানী!" |
| ভয়ি প্রসন্ন আদি জগদম্বা । দয়ী শক্তি নহিঁ কীন বিলম্বা ॥৩৪॥ |
শঙ্করাচার্যের এই ব্যাকুল আত্মসমর্পণে আদি জগন্মাতা দুর্গা পরম সন্তুষ্ট হলেন এবং কালবিলম্ব না করে তাঁকে পুনরায় অপার দিব্য শক্তি ফিরিয়ে দিলেন। |
| মোকো মাতু কষ্ট অতি ঘেরো । তুম বিন কৌন হরৈ দুঃখ মেরো ॥৩৫॥ |
হে দয়াময়ী মা, আজ নানা জাগতিক দুঃখ ও মানসিক কষ্ট আমাকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরেছে। আপনি ছাড়া এই তিন জগতে আর কে আছে যে আমার এই তীব্র বেদনা দূর করবে? |
| আশা তৃষ্ণা নিপট সতাবৈং । রিপু মূরখ মোহি অতি দরপাবৈং ॥৩৬॥ |
অসীম আশা, মোহ ও তৃষ্ণা আমাকে অহর্নিশ দগ্ধ করছে এবং অজ্ঞ মূর্খ শত্রু ও অশুভ শক্তি আমাকে সর্বক্ষণ ভয় দেখাচ্ছে। |
| শত্রু নাশ কীজৈ মহারানী । সুমিরৌং ইকচিত তুম্হে ভবানী ॥৩৭॥ |
হে ত্রিভুবন মহারানী মাতা ভবানী! আমার অন্তরের কাম-ক্রোধ শত্রু ও বাইরের সমস্ত অশুভ শত্রুকে বিনাশ করুন। আমি একাগ্র চিত্তে আপনার স্মরণ নিচ্ছি। |
| করো কৃপা হে মাতু দয়ালা । ঋদ্ধি-সিদ্ধি দৈ করহু নিহালা ॥৩৮॥ |
হে কৃপাময়ী দয়াময়ী মা দুর্গা, আপনার অপার করুণা বর্ষণ করুন। আমাকে পার্থিব সুখ, প্রজ্ঞা ও আধ্যাত্মিক ঋদ্ধি-সিদ্ধি প্রদান করে জীবনকে ধন্য ও পূর্ণ করে দিন। |
| জব লগি জীয়ূং দয়া ফল পাবূং । তুম্হরো যশ মৈং সদা সুনাবূং ॥৩৯॥ |
যতদিন এই নশ্বর দেহে আমার প্রাণ থাকবে, ততদিন যেন আপনার করুণার ফল ভোগ করতে পারি এবং সর্বদা লোকসমক্ষে আপনার পবিত্র নাম ও গুণগান করে যেতে পারি। |
| দুর্গা চালীসা জো নর গাবৈ । সব সুখ ভোগ পরমপদ পাবৈ ॥৪০॥ |
যে ব্যক্তি প্রতিদিন ভক্তিভরে ও শুদ্ধ চিত্তে এই শ্রী দুর্গা চালিশা পাঠ বা আবৃত্তি করবেন, তিনি জীবনে সর্বপ্রকার পার্থিব সুখ ভোগ করে অন্তিমে দেবীর পরম ধাম বা মোক্ষ লাভ করবেন। |
| দেবীদাস শরণ নিজ জানী । করহু কৃপা জগদম্ব ভবানী ॥ |
হে জগদম্বা ভবানী, ভক্ত দেবীদাস আপনাকে নিজের পরম আশ্রয় ও একমাত্র রক্ষাকর্ত্রী জেনে আপনার চরণে নিজেকে সমর্পণ করেছে। হে বিশ্বজননী মা দুর্গা, আপনার এই সন্তানের ওপর সদা অশেষ কৃপা বজায় রাখুন। |
হিন্দু সনাতন ঐতিহ্যে শ্রী দুর্গা চালিশা হলো মহাশক্তি আদি পরাশক্তি দেবী দুর্গার আরাধনার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী স্তোত্র। শাস্ত্র মতে, ভক্তপ্রবর দেবীদাস এই চালিসাটি রচনা করেছিলেন। চালিশার ৪০টি পঙ্ক্তিতে মা দুর্গার বিভিন্ন রূপ—যেমন মহাকালী, মহালক্ষ্মী, মহাসরস্বতী, অন্নপূর্ণা, গৌরী, নৃসিংহী এবং দশমহাবিদ্যার (মাতঙ্গী, ধূমাবতী, ভুবনেশ্বরী, বগলামুখী, তারা, ছিন্নমস্তা) অপরিসীম তেজ ও মহিমা বর্ণিত হয়েছে।
চালিসার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশে জগদগুরু আদি শঙ্করাচার্যের এক ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। শঙ্করাচার্য যখন ঘোর তপস্যায় কেবল নিরাকার পরমব্রহ্ম শিবের আরাধনা করছিলেন, তখন তিনি মহামায়া শক্তির মূল গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেননি। মহাশক্তি দেবী দুর্গা যখন তাঁর শক্তি প্রত্যাহার করে নেন, তখন শঙ্করাচার্য বুঝতে পারেন যে—'শক্তি বিনা শিব কেবলই শব'। এরপর তিনি দেবীর চরণে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে স্তব করলে মা দুর্গা প্রসন্ন হয়ে তাঁকে পুনরায় অসীম জ্ঞান ও দিব্য শক্তি দান করেন। এই চালিসা পাঠ করলে সাধকের অহংকার দূর হয় এবং আত্মিক শক্তির জাগরণ ঘটে।
শ্রী দুর্গা চালিশা পাঠ করার জন্য কোনো কঠোর শাস্ত্রীয় জটিলতা নেই; তবে ভক্তিসহকারে কয়েকটি সহজ নিয়ম পালন করলে দেবী অত্যন্ত দ্রুত প্রসন্ন হন:
পাঠের সেরা সময়: দুর্গা চালিশা প্রতিদিন পাঠ করা যায়। তবে সপ্তাহের মঙ্গলবার ও শুক্রবার এবং বাসন্তী ও শারদীয়া নবরাত্রির ৯ দিন, শুক্লপক্ষের মহাষ্টমী ও মহানবমীর তিথিতে চালিশা পাঠের মাহাত্ম্য শতগুণ বৃদ্ধি পায়।
প্রতিদিন ভক্তিভরে শ্রী দুর্গা চালিশা পাঠ করলে মানব জীবনে যে পরম অলৌকিক পরিবর্তন ও সুফল আসে, শাস্ত্র অনুযায়ী তার কয়েকটি প্রধান উপকারিতা নিচে তুলে ধরা হলো:
আপনি যদি ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই যেকোনো সময় শ্রী দুর্গা চালিশার সম্পূর্ণ পাঠ, বাংলা অর্থ ও নিয়মাবলী পড়তে চান, তবে নিচের বাটনে ক্লিক করে সহজেই PDF সেভ বা প্রিন্ট করে নিতে পারেন: