নতুন খবর
ক্যালেন্ডার রাশিফল আবহাওয়া রেল সোনার দাম রুপোর দাম পেট্রোলের দাম ডিজেলের দাম গ্যাসের দাম জোয়ার ভাটা ভক্তি ও মন্ত্র
মা দুর্গা

শ্রী দুর্গা কবচ - Shree Durga Kavacham in Bengali

শ্রী দুর্গা কবচ (Durga Kavach in Bengali) হলো প্রাচীন কুব্জিকাতন্ত্রে দেবাধিদেব পরমেশ্বর শিব কর্তৃক দেবী পার্বতীর সমীপে বর্ণিত মা দুর্গার এক অপ্রতিরোধ্য ও মহাশক্তিশালী দিব্য সুরক্ষা স্তোত্র। এই পরম সিদ্ধ কবচ সাধকের মস্তক থেকে পদযুগল পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে মা দুর্গার বিভিন্ন মহাশক্তিধর রূপের মাধ্যমে সর্বপ্রকার অশুভ শক্তি, গ্রহদোষ, শত্রুভয়, তন্ত্রবাধা ও ঘোর সংকট থেকে অভেদ্য ঢালের মতো রক্ষা করে। এখানে আপনি সম্পূর্ণ দুর্গা কবচ মূল পাঠ, অঙ্গরক্ষা তালিকা, প্রতিটি শ্লোকের সহজ সরল বাংলা অর্থ (meaning), পাঠের সঠিক নিয়ম ও আশ্চর্য উপকারিতা বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং চাইলে Durga Kavach PDF Download করতে পারবেন। প্রতিদিন প্রাতঃকালে বা বিশেষ করে নবরাত্রিতে ভক্তিভরে এই কবচ পাঠ করলে ভক্ত সর্বসিদ্ধি লাভ করেন এবং সমস্ত ভয় ও বিপদ থেকে সর্বদা মুক্ত থাকেন।

শ্রী দুর্গা কবচ মূল পাঠ (Durga Kavach Lyrics in Bengali)

প্রাচীন প্রামাণ্য কুব্জিকাতন্ত্রে বর্ণিত দেবাধিদেব শিব ও দেবী পার্বতীর কথোপকথনরূপ সম্পূর্ণ শ্রী দুর্গা কবচম্ নিচে ভক্তিভরে পাঠ করুন:

॥ অথ শ্রী দুর্গা কবচম্ (ঈশ্বর উবাচ) ॥
ঈশ্বর উবাচ ।
শৃণু দেবি প্রবক্ষ্যামি কবচং সর্বসিদ্ধিদম্ ।
পঠিত্বা পাঠয়িত্বা চ নরো মুচ্যেত সংকটাত্ ॥ ১ ॥
নির্দেশ: দেবাধিদেব মহাদেব দেবী পার্বতীকে সর্বসিদ্ধিদায়ক ও সর্বসংকটনাশক এই কবচ বর্ণনা করছেন।
অজ্ঞাত্বা কবচং দেবি দুর্গামন্ত্রং চ যো জপেত্ ।
ন চাপ্নোতি ফলং তস্য পরং চ নরকং ব্রজেত্ ॥ ২ ॥
নির্দেশ: শাস্ত্রীয় সতর্কতা—কবচ না জেনে কেবল মূল দুর্গামন্ত্র জপলে সম্পূর্ণ ফল পাওয়া যায় না, কবচ পাঠই মন্ত্রকে সিদ্ধ করে তোলে।
॥ অঙ্গরক্ষা শ্লোকসমূহ (Body Protection Mantras) ॥
উমাদেবী শিরঃ পাতু ললাটে শূলধারিণী ।
চক্ষুষী খেচরী পাতু কর্ণৌ চত্বরবাসিনী ॥ ৩ ॥
নির্দেশ: মস্তক, ললাট, দুই চক্ষু ও কর্ণযুগলের দিব্য সুরক্ষা মন্ত্র।
সুগন্ধা নাসিকং পাতু বদনং সর্বধারিণী ।
জিহ্বাং চ চণ্ডিকাদেবী গ্রীবাং সৌভদ্রিকা তথা ॥ ৪ ॥
নির্দেশ: নাসিকা, মুখমণ্ডল, জিহ্বা ও গ্রীবা (গলা)-র সুরক্ষা মন্ত্র।
অশোকবাসিনী চেতো দ্বৌ বাহূ বজ্রধারিণী ।
হৃদয়ং ললিতাদেবী উদরং সিংহবাহিনী ॥ ৫ ॥
নির্দেশ: চিত্ত বা মন, দুই বাহু, হৃদয় ও উদরের সুরক্ষা মন্ত্র।
কটিং ভগবতী দেবী দ্বাবূরূ বিন্ধ্যবাসিনী ।
মহাবলা চ জঙ্ঘে দ্বে পাদৌ ভূতলবাসিনী ॥ ৬ ॥
নির্দেশ: কোমর বা কটি, দুই উরু, দুই জঙ্ঘা এবং পদযুগলের সুরক্ষা মন্ত্র।
এবং স্থিতাঽসি দেবি ত্বং ত্রৈলোক্যে রক্ষণাত্মিকা ।
রক্ষ মাং সর্বগাত্রেষু দুর্গে দেবি নমোঽস্তু তে ॥ ৭ ॥
নির্দেশ: সর্বাঙ্গ রক্ষার পরম সমর্পণ শ্লোক—ত্রিলোকপালিনী মা দুর্গার চরণে সর্বাঙ্গ রক্ষার প্রার্থনা।

॥ ইতি কুব্জিকাতন্ত্রোক্তং শ্রী দুর্গা কবচম্ সম্পূর্ণম্ ॥ 🙏

শ্রী দুর্গা কবচ অঙ্গরক্ষা তালিকা | Durga Kavach Body Protection Chart

দুর্গা কবচের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো শরীরের প্রতি অঙ্গের জন্য দেবীর এক একটি বিশেষ রূপকে আহ্বান করা হয়। নিচের তালিকায় শরীরের অঙ্গ এবং প্রতিরক্ষাকারী দেবীর রূপ সাজিয়ে দেওয়া হলো:

ক্রমিক শরীরের অঙ্গ (Body Part) রক্ষাকর্ত্রী দেবীর স্বরূপ (Protecting Form of Goddess)
মস্তক / মাথা (Head) উমাদেবী — মা উমা ভক্তের মস্তক সর্বপ্রকার ভয় ও ব্যাধি থেকে রক্ষা করেন।
ললাট / কপাল (Forehead) শূলধারিণী — ত্রিসূলাধারিণী দেবী কপালের ভাগ্য ও তেজ রক্ষা করেন।
চক্ষুদ্বয় / দুই চোখ (Eyes) খেচরী দেবী — আকাশে বিচরণশীলা খেচরী দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি ও শুভ দৃষ্টি রক্ষা করেন।
কর্ণদ্বয় / দুই কান (Ears) চত্বরবাসিনী — অঙ্গন ও লোকালয়ের অধিষ্ঠাত্রী দেবী কর্ণযুগলকে রক্ষা করেন।
নাসিকা / নাক (Nose) সুগন্ধা দেবী — দিব্য সুগন্ধযুক্তা দেবী ভক্তের ঘ্রাণশক্তি ও নাসিকা রক্ষা করেন।
বদন / মুখমণ্ডল (Face/Mouth) সর্বধারিণী — নিখিল বিশ্বকে ধারণকারিণী দেবী মুখমণ্ডল রক্ষা করেন।
জিহ্বা / জিভ (Tongue) চণ্ডিকাদেবী — মহাশক্তিশালিনী মা চণ্ডিকা ভক্তের রসনা ও বাকশক্তি রক্ষা করেন।
গ্রীবা / গলা ও ঘাড় (Neck) সৌভদ্রিকা দেবী — পরম শুভকারিণী সৌভদ্রিকা কণ্ঠ ও গ্রীবা রক্ষা করেন।
চেত / মন ও বুদ্ধি (Mind & Heart) অশোকবাসিনী — শোকনাশিনী অশোকবাসিনী মন ও চিত্তকে শোকমুক্ত রাখেন।
১০ দুই বাহু / দুই হাত (Arms) বজ্রধারিণী — বজ্রহস্তা দেবী ভক্তের দুই বাহুকে অপার বল ও শৌর্য প্রদান করে রক্ষা করেন।
১১ হৃদয় (Heart / Chest) ললিতাদেবী — পরমসৌন্দর্য ও করুণারূপিণী মা ললিতা ত্রিপুরাসুন্দরী হৃদয় রক্ষা করেন।
১২ উদর / পেট (Stomach) সিংহবাহিনী — সিংহপৃষ্ঠে সমাসীনা দেবী উদর ও পাচনতন্ত্র রক্ষা করেন।
১৩ কটি / কোমর (Waist) ভগবতী দেবী — ষড়ৈশ্বর্যশালিনী মা ভগবতী কোমর ও কটিদেশ রক্ষা করেন।
১৪ দুই উরু (Thighs) বিন্ধ্যবাসিনী — বিন্ধ্যাচলের অধিষ্ঠাত্রী পরমাবতারিণী দেবী দুই উরু রক্ষা করেন।
১৫ দুই জঙ্ঘা / পায়ের নলি (Shins/Calves) মহাবলা দেবী — অপার পরাক্রমশালিনী মহাবলা দুই জঙ্ঘা রক্ষা করেন।
১৬ পদযুগল / দুই পা (Feet) ভূতলবাসিনী — পৃথিবীতল আশ্রয়কারিণী দেবী দুই চরণ রক্ষা করেন।
১৭ সর্বাঙ্গ / সমগ্র শরীর (Whole Body) মা দুর্গা (ত্রৈলোক্যরক্ষিকা) — ত্রিলোক রক্ষাকর্ত্রী দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গা স্বয়ং ভক্তের সর্বাঙ্গে সুরক্ষা বলয় রচনা করেন।

শ্রী দুর্গা কবচ শ্লোক বাংলা অর্থ (Durga Kavach Meaning in Bengali)

প্রতিটি শ্লোকের সহজ ও প্রাঞ্জল বাংলা ভাবার্থ নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

শ্লোক মূল শ্লোক ও সরল বাংলা ভাবার্থ
শ্লোক ১ ঈশ্বর উবাচ । শৃণু দেবি প্রবক্ষ্যামি কবচং সর্বসিদ্ধিদম্ । পঠিত্বা পাঠয়িত্বা চ নরো মুচ্যেত সংকটাত্ ॥ ১ ॥
বাংলা অর্থ: মহাদেব শিব বললেন—হে দেবি! আমি সর্বপ্রকার সিদ্ধিপ্রদানকারী এক পরম পবিত্র দুর্গা কবচ বলছি, মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করো। এই কবচ নিজে পাঠ করলে অথবা কাউকে দিয়ে পাঠ করালে মানুষ যেকোনো ঘোর সংকট, বিপদ ও ভয় থেকে তৎক্ষণাৎ মুক্তি লাভ করে।
শ্লোক ২ অজ্ঞাত্বা কবচং দেবি দুর্গামন্ত্রং চ যো জপেত্ । ন চাপ্নোতি ফলং তস্য পরং চ নরকং ব্রজেত্ ॥ ২ ॥
বাংলা অর্থ: হে দেবি! যে ব্যক্তি এই সুরক্ষা কবচ না জেনে কেবল দুর্গার মূল মন্ত্র জপ করে, সে তার মন্ত্রজপের পূর্ণ ফল লাভ করতে পারে না এবং উল্টো দুর্গতির শিকার হয়। অর্থাৎ মন্ত্র সিদ্ধির জন্য এই কবচ পাঠ অপরিহার্য।
শ্লোক ৩ উমাদেবী শিরঃ পাতু ললাটে শূলধারিণী । চক্ষুষী খেচরী পাতু কর্ণৌ চত্বরবাসিনী ॥ ৩ ॥
বাংলা অর্থ: কল্যাণময়ী উমাদেবী আমার মস্তক রক্ষা করুন। ত্রিশূলধারিণী দেবী আমার ললাট (কপাল) রক্ষা করুন। খেচরী দেবী আমার দুই চোখ এবং চত্বরবাসিনী দেবী আমার দুই কান রক্ষা করুন।
শ্লোক ৪ সুগন্ধা নাসিকং পাতু বদনং সর্বধারিণী । জিহ্বাং চ চণ্ডিকাদেবী গ্রীবাং সৌভদ্রিকা তথা ॥ ৪ ॥
বাংলা অর্থ: দেবী সুগন্ধা আমার নাসিকা (নাক) রক্ষা করুন। সর্বধারিণী দেবী আমার বদনমণ্ডল রক্ষা করুন। মা চণ্ডিকা আমার জিহ্বা রক্ষা করুন এবং সৌভদ্রিকা দেবী আমার গ্রীবা (কণ্ঠ ও ঘাড়) রক্ষা করুন।
শ্লোক ৫ অশোকবাসিনী চেতো দ্বৌ বাহূ বজ্রধারিণী । হৃদয়ং ললিতাদেবী উদরং সিংহবাহিনী ॥ ৫ ॥
বাংলা অর্থ: শোকনাশিনী অশোকবাসিনী দেবী আমার চিত্ত (মন ও বুদ্ধি) রক্ষা করুন। বজ্রহস্তা দেবী আমার দুই বাহু রক্ষা করুন। মা ললিতাদেবী আমার হৃদয় রক্ষা করুন এবং সিংহবাহিনী দেবী আমার উদর রক্ষা করুন।
শ্লোক ৬ কটিং ভগবতী দেবী দ্বাবূরূ বিন্ধ্যবাসিনী । মহাবলা চ জঙ্ঘে দ্বে পাদৌ ভূতলবাসিনী ॥ ৬ ॥
বাংলা অর্থ: ষড়ৈশ্বর্যশালিনী ভগবতী দেবী আমার কটিদেশ (কোমর) রক্ষা করুন। বিন্ধ্যবাসিনী দেবী আমার দুই উরু রক্ষা করুন। মহাবলা দেবী আমার দুই জঙ্ঘা রক্ষা করুন এবং ভূতলবাসিনী দেবী আমার পদযুগল রক্ষা করুন।
শ্লোক ৭ এবং স্থিতাঽসি দেবি ত্বং ত্রৈলোক্যে রক্ষণাত্মিকা । রক্ষ মাং সর্বগাত্রেষু দুর্গে দেবি নমোঽস্তু তে ॥ ৭ ॥
বাংলা অর্থ: হে জগজ্জননী দেবি দুর্গে! আপনি ত্রিভুবনের রক্ষাকর্ত্রী রূপেই সর্বদা বিরাজমান। হে মা দুর্গা! আপনি কৃপা করে আমার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সকল বিপদ থেকে সর্বতোভাবে রক্ষা করুন। আপনার শ্রীচরণে আমার শতকোটি প্রণাম।

শ্রী দুর্গা কবচের ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য | Significance of Durga Kavach

তন্ত্রশাস্ত্রে 'কবচ' শব্দের অর্থ হলো একটি আধ্যাত্মিক বা দৈব বর্ম (Spiritual Shield)। প্রাচীন কুব্জিকাতন্ত্র (Kubjika Tantra) অনুসারে, দেবাধিদেব শিব দেবী পার্বতীর সমীপে এই সংক্ষিপ্ত অথচ প্রচণ্ড শক্তিশালী দুর্গা কবচ প্রকাশ করেছিলেন। তন্ত্রে বলা হয়েছে, মন্ত্র হলো শক্তির মূল বীজ এবং কবচ হলো সেই শক্তিকে ধারণ করার সুরক্ষাবলয়।

দৈনন্দিন জীবনে মানুষ শারীরিক রোগ, মানসিক উদ্বেগ, শত্রুভয়, দৃষ্টিদোষ এবং নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। দুর্গা কবচ পাঠের ফলে শরীরের সূক্ষ্ম শক্তিস্তরে (Aura) দেবীর দৈব সুরক্ষা বলয় তৈরি হয়, যা কোনো অশুভ শক্তি বা নেতিবাচক কম্পনকে সাধকের কাছে ঘেঁষতে দেয় না। বিশেষ করে নবরাত্রি, দুর্গাপূজা বা যেকোনো মঙ্গলবার ও শুক্রবার এই কবচ নিয়মিত পাঠ করলে ভক্ত পরম আত্মবিশ্বাস ও শান্তি লাভ করেন।

দুর্গা কবচ পাঠের সঠিক নিয়ম ও বিধি | Rules & How to Recite

শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে শ্রী দুর্গা কবচ পাঠের জন্য কিছু সহজ ও পবিত্র নিয়ম মেনে চলা শুভ:

পাঠের প্রশস্ত সময়: শারদীয়া ও বাসন্তী নবরাত্রি, প্রতি মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথি এবং সপ্তাহের মঙ্গলবার ও শুক্রবার দুর্গা কবচ পাঠের জন্য সর্বাধিক শক্তিশালী দিন।

দুর্গা কবচ পাঠের ৫টি অলৌকিক উপকারিতা | Spiritual Benefits

নিয়মিত ভক্তিভরে শ্রী দুর্গা কবচ পাঠ করলে ভক্তের জীবনে নিম্নলিখিত শুভ ফল ও বরদান লাভ হয়:

  1. অভেদ্য দৈব সুরক্ষা বলয়: মস্তক থেকে পদযুগল পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অঙ্গ দেবীর বিশেষ শক্তি দ্বারা সুরক্ষিত থাকে, ফলে আকস্মিক দুর্ঘটনা, রোগবালাই ও অপমৃত্যুর ভয় দূর হয়।
  2. সর্বপ্রকার সংকট থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি: প্রথম শ্লোকেই মহাদেব ঘোষণা করেছেন—'পঠিত্বা পাঠয়িত্বা চ নরো মুচ্যেত সংকটাত্'। যে কোনো আর্থিক, পারিবারিক বা আইনি জটিলতার সময় এই কবচ রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
  3. শত্রু ও তন্ত্রবাধা নাশ: দৃশ্যমান শত্রু ও অদৃশ্য কুপ্রভাব, কালাজাদু, নজরদোষ বা নেতিবাচক শক্তির প্রভাব দেবীর তেজ ও ত্রিশূলের প্রভাবে সমূলে বিনাশ হয়।
  4. মানসিক স্থিরতা ও ভয়মুক্তি: চিত্তের রক্ষক 'অশোকবাসিনী' দেবীর আশীর্বাদে মনের যাবতীয় শোক, ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক অস্থিরতা দূর হয়ে পরম আত্মবিশ্বাস জন্মায়।
  5. সর্বসিদ্ধি ও মন্ত্রফল প্রাপ্তি: কবচ পাঠের পর যেকোনো পূজা বা জপ করলে সেই সাধনার সম্পূর্ণ পুণ্যফল ও সিদ্ধি অনায়াসে লাভ হয়।

বিনামূল্যে শ্রী দুর্গা কবচ PDF ডাউনলোড ও প্রিন্ট | Download PDF

প্রতিদিনের নিত্য পাঠ ও দুর্গাপূজার সময় সহজে অধ্যয়নের জন্য নিচের বাটনে ক্লিক করে সম্পূর্ণ দুর্গা কবচ ও অঙ্গরক্ষা তালিকা সরাসরি সেভ বা প্রিন্ট করে নিন:

শ্রী দুর্গা কবচ সংক্রান্ত সাধারণ জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

প্র. দুর্গা কবচ কোন শাস্ত্রের অন্তর্গত?
উ. এই দুর্গা কবচটি পরম প্রামাণ্য প্রাচীন তান্ত্রিক গ্রন্থ 'কুব্জিকাতন্ত্র' (Kubjika Tantra)-এর অন্তর্গত। এটি দেবাধিদেব শিব স্বয়ং দেবী পার্বতীকে উপদেশ হিসেবে শুনিয়েছিলেন।
প্র. দুর্গা কবচ কেন পাঠ করা উচিত?
উ. যেকোনো সাধনা, পূজা বা বিপদের মুহূর্তে শরীর ও মনকে সর্বপ্রকার নেতিবাচক প্রভাব ও অনিষ্ট থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য দুর্গা কবচ পাঠ করা হয়। এটি একটি শক্তিশালী দৈব বর্মের ন্যায় কাজ করে।
প্র. দুর্গা কবচ কি মহিলারা পাঠ করতে পারেন?
উ. অবশ্যই। মা দুর্গা সর্বজননী ও শক্তির আধার। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই সমান শ্রদ্ধার সাথে এই কবচ পাঠ করতে পারেন। মহিলাদের পাঠে গৃহ ও পরিবারের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ সাধিত হয়।
প্র. কবচ না পড়ে কি দুর্গামন্ত্র জপ করা যায়?
উ. কবচের ২ নম্বর শ্লোকে বলা হয়েছে—'অজ্ঞাত্বা কবচং দেবি দুর্গামন্ত্রং চ যো জপেত্ / ন চাপ্নোতি ফলং তস্য'। অর্থাৎ কবচ না পাঠ করে মূল মন্ত্র জপলে মন্ত্রের তেজ ও সুরক্ষা পূর্ণরূপে লাভ হয় না। তাই মন্ত্র জপের পূর্বে কবচ পাঠ করা শাস্ত্রসম্মত।
প্র. দুর্গা কবচ পাঠের জন্য শ্রেষ্ঠ দিন ও সময় কোনটি?
উ. প্রতিদিন প্রাতঃকালে পাঠ করা সর্বোত্তম। এছাড়া শারদীয়া ও চৈত্র নবরাত্রি, প্রতি মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথি এবং সপ্তাহের মঙ্গলবার ও শুক্রবার দুর্গা কবচ পাঠের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ সময়।
প্র. এই কবচ পাঠ করলে কি শত্রুভয় নাশ হয়?
উ. হ্যাঁ, নিয়মিত দুর্গা কবচ পাঠ করলে মা দুর্গার বজ্রহস্তা, শূলধারিণী ও সিংহবাহিনী রূপের কৃপায় দৃশ্য ও অদৃশ্য সমস্ত শত্রুবাধা, রাজভয় এবং অশুভ শক্তির প্রভাব সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়।
অক্ষর সাইজ:

মা দুর্গা স্তোত্র, চালিশা ও পাঠসমূহ

অন্যান্য দেব-দেবী দর্শন

হনুমান

হনুমান

24 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শিব

শিব

9 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা লক্ষ্মী

মা লক্ষ্মী

20 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
গণেশ

গণেশ

25 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শ্রী কৃষ্ণ

শ্রী কৃষ্ণ

30 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শ্রী রাম

শ্রী রাম

18 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা কালী

মা কালী

22 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শ্রী বিষ্ণু

শ্রী বিষ্ণু

19 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা সরস্বতী

মা সরস্বতী

15 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শনি দেব

শনি দেব

21 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
সূর্য দেব

সূর্য দেব

14 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
সাই বাবা

সাই বাবা

16 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
জগন্নাথ

জগন্নাথ

17 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
নবগ্রহ

নবগ্রহ

26 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন