মহালয়া চণ্ডীপাঠ (Mahalaya Chandipath / Sri Sri Chandi Path in Bengali) হলো সনাতন হিন্দু ধর্মের মহর্ষি মার্কণ্ডেয় পুরাণোক্ত "শ্রীশ্রীদেবীমাহাত্ম্যম্"-এর পরম সিদ্ধ, তেজস্বী ও জাগ্রত দেবী স্তূতি ("যা দেবী সর্বভূতেষু বিষ্ণুমায়েতি শব্দিতা")। মহালয়ার পুণ্যপ্রভাতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের উদাত্ত চণ্ডীপাঠের সুর এবং দেবীপক্ষের পবিত্র সূচনায় মা দুর্গার আবাহনে এই অমর স্তোত্র বাঙালির ঘরে ঘরে এক অপার্থিব আনন্দের অনুরণন তোলে। দেবীর ২৩টি দিব্য সত্ত্বা—বুদ্ধি, নিদ্রা, ক্ষুধা, শক্তি, ক্ষান্তি, লজ্জা, শান্তি, শ্রদ্ধা, কান্তি, লক্ষ্মী, দয়া ও মাতৃরূপের বন্দনা জীবজগতের প্রতিটি ধূলিকণায় মহাশক্তির নিত্য অবস্থান প্রমাণ করে। এখানে আপনি সম্পূর্ণ Mahalaya Chandipath in Bengali lyrics, প্রতিটি শ্লোকের সহজ ও প্রাঞ্জল বাংলা অর্থ (meaning), চণ্ডীপাঠের সঠিক নিয়ম-পদ্ধতি ও অলৌকিক মাহাত্ম্য বিস্তারিতভাবে জানতে পারবেন এবং চাইলে Chandi Path PDF Download করতে পারবেন। প্রতিদিন প্রাতঃকালে, বিশেষত মহালয়ার পুণ্যলগ্নে ও দুর্গাপূজায় ভক্তিভরে চণ্ডীপাঠ করলে মনের যাবতীয় কলুষতা ও ভয় দূর হয়ে পরম জ্ঞান, বিজয়, আরোগ্য ও মোক্ষ লাভ হয়।
মহালয়ার পুণ্যপ্রভাতে দেবীপক্ষের শুভ সূচনায় মহর্ষি মার্কণ্ডেয় পুরাণের অন্তর্ভুক্ত শ্রীশ্রীদেবীমাহাত্ম্যম্-এর পঞ্চম অধ্যায়ের জগদ্বিখ্যাত মহালয়া চণ্ডীপাঠ 'অপরাজিতা স্তুতি' (যা দেবী সর্বভূতেষু) নিচে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধরূপে তুলে ধরা হলো:
|
ওঁ শ্রী দেব্যৈ নমঃ ॥ ওঁ খড়্গং চক্রগদেষুচাপপরিঘাঞ্শূলং ভূশুণ্ডীং শিরঃ । শঙ্খং সংদধতীং করৈস্ত্রিনয়নাং সর্বাঙ্গভূষাবৃতাম্ ॥ নীলাশ্মদ্যুতিমাস্যপাদদশকাং সেবে মহাকালিকাম্ । যামস্তৌত্স্বপিতে হরৌ কমলজো হন্তং মধুকৈটভম্ ॥ নির্দেশ: চণ্ডীপাঠের প্রারম্ভিক মহাকালী ধ্যান মন্ত্র—চণ্ডীপাঠের পূর্বে হাতজোড় করে একমনে দেবীর শ্রীচরণে আত্মনিবেদন করুন। |
|
যা দেবী সর্বভূতেষু বিষ্ণুমায়েতি শব্দিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ১ ॥ নির্দেশ: বিষ্ণুমায়া রূপিণী—যিনি সমস্ত জীবের অন্তরে পরম মায়াশক্তিরূপে পরিব্যাপ্ত। |
|
যা দেবী সর্বভূতেষু চেতনেত্যভিধীয়তে । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ২ ॥ নির্দেশ: চেতনা রূপিণী—যিনি নিখিল চরাচরে প্রাণশক্তি ও চৈতন্যের সঞ্চার করেন। |
|
যা দেবী সর্বভূতেষু বুদ্ধিরূপেণ সংস্থিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৩ ॥ নির্দেশ: বুদ্ধি রূপিণী—যিনি বিচারশক্তি, প্রজ্ঞা ও শুভ বুদ্ধিরূপে জীবের অন্তরে অধিষ্ঠিত। |
|
যা দেবী সর্বভূতেষু নিদ্রারূপেণ সংস্থিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৪ ॥ নির্দেশ: নিদ্রা রূপিণী—যিনি পরম শান্তি ও ক্লান্তিহীন বিশ্রামের আধার যোগনিদ্রা। |
|
যা দেবী সর্বভূতেষু ক্ষুধারূপেণ সংস্থিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৫ ॥ নির্দেশ: ক্ষুধা রূপিণী—যিনি জীবের জীবনধারণের জন্য জঠরাগ্নি ও ক্ষুধারূপে বিদ্যমান। |
|
যা দেবী সর্বভূতেষু ছায়ারূপেণ সংস্থিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৬ ॥ নির্দেশ: ছায়া রূপিণী—যিনি তাপিত জীবের জন্য স্নিগ্ধ শীতল ছায়া ও প্রতিবিম্বরূপিণী। |
|
যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৭ ॥ নির্দেশ: শক্তি রূপিণী—যিনি মহাবিশ্বের মূল চালিকাশক্তি, বল ও অজেয় তেজ। |
|
যা দেবী সর্বভূতেষু তৃষ্ণারূপেণ সংস্থিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৮ ॥ নির্দেশ: তৃষ্ণা রূপিণী—যিনি উচ্চতর সত্য ও জ্ঞান অন্বেষণের পরম পিপাসারূপে অন্তরে জাগ্রত। |
|
যা দেবী সর্বভূতেষু ক্ষান্তিরূপেণ সংস্থিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৯ ॥ নির্দেশ: ক্ষান্তি রূপিণী—যিনি পরম ক্ষমা, ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার প্রতীক। |
|
যা দেবী সর্বভূতেষু জাতিরূপেণ সংস্থিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ১০ ॥ নির্দেশ: জাতি রূপিণী—যিনি চরাচরের নানা প্রজাতি, সৃষ্টিবৈচিত্র্য ও প্রকৃতিরূপে বিন্যস্ত। |
|
যা দেবী সর্বভূতেষু লজ্জারূপেণ সংস্থিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ১১ ॥ নির্দেশ: লজ্জা রূপিণী—যিনি সদাচার, বিনয়, শালীনতা ও নীতিবোধের পরম রক্ষয়িত্রী। |
|
যা দেবী সর্বভূতেষু শান্তিরূপেণ সংস্থিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ১২ ॥ নির্দেশ: শান্তি রূপিণী—যিনি মনের কলহ-সংঘাত দূর করে অপার্থিব পরমানন্দ দেন। |
|
যা দেবী সর্বভূতেষু শ্রদ্ধারূপেণ সংস্থিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ১৩ ॥ নির্দেশ: শ্রদ্ধা রূপিণী—যিনি ভক্ত হৃদয়ে সত্য, ঈশ্বর ও গুরুভক্তির পরম আধার। |
|
যা দেবী সর্বভূতেষু কান্তিরূপেণ সংস্থিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ১৪ ॥ নির্দেশ: কান্তি রূপিণী—যিনি অনন্ত সৌন্দর্য, লাবণ্য ও জ্যোতিরূপে উদ্ভাসিত। |
|
যা দেবী সর্বভূতেষু লক্ষ্মীরূপেণ সংস্থিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ১৫ ॥ নির্দেশ: লক্ষ্মী রূপিণী—যিনি সংসারে ধনধান্য, সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি ও শ্রী প্রদান করেন। |
|
যা দেবী সর্বভূতেষু বৃত্তিরূপেণ সংস্থিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ১৬ ॥ নির্দেশ: বৃত্তি রূপিণী—যিনি জীবের কর্ম, জীবিকা ও জীবনযাত্রার নিয়ামক। |
|
যা দেবী সর্বভূতেষু স্মৃতিরূপেণ সংস্থিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ১৭ ॥ নির্দেশ: স্মৃতি রূপিণী—যিনি স্মরণশক্তি, অতীত অভিজ্ঞতা ও আত্মস্মৃতিরূপে বিরাজমান। |
|
যা দেবী সর্বভূতেষু দয়ারূপেণ সংস্থিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ১৮ ॥ নির্দেশ: দয়া রূপিণী—যিনি অহিংসা, সমবেদনা ও পরম করুণার উৎস। |
|
যা দেবী সর্বভূতেষু তুষ্টিরূপেণ সংস্থিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ১৯ ॥ নির্দেশ: তুষ্টি রূপিণী—যিনি সন্তোষ, পরিতৃপ্তি ও মনের প্রসন্নতা দান করেন। |
|
যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ২০ ॥ নির্দেশ: মাতৃ রূপিণী—যিনি নিখিল বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের পরম স্নেহময়ী জগজ্জননী। |
|
যা দেবী সর্বভূতেষু ভ্রান্তিরূপেণ সংস্থিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ২১ ॥ নির্দেশ: ভ্রান্তি রূপিণী—যিনি মায়ারূপে লীলাখেলা বিস্তার করেন এবং তিনিই সত্যের আলো দেখান। |
|
ইন্দ্রিয়াণামধিষ্ঠাত্রী ভূতানাঞ্চাখিলেষু যা । ভূতেষু সততং তস্যৈ ব্যাপ্তিদেব্যৈ নমো নমঃ ॥ ২২ ॥ নির্দেশ: ইন্দ্রিয়াধিষ্ঠাত্রী—যিনি সমস্ত পঞ্চভূতের ও ইন্দ্রিয়ের অধিষ্ঠাত্রী সর্বব্যাপ্তা দেবী। |
|
চিতিরূপেণ যা কৃৎস্নমেতদ্ ব্যাপ্য স্থিতা জগৎ । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ২৩ ॥ নির্দেশ: চিতিরূপা—যিনি সমগ্র বিশ্বচরাচরকে পরব্রহ্ম চৈতন্যরূপে পরিব্যাপ্ত করে আছেন, তাঁকে শতকোটি প্রণাম। |
॥ ইতি শ্রী শ্রী চণ্ডীপাঠ (দেবী স্তূতি) সম্পূর্ণম্ ॥ 🙏
শ্রী শ্রী চণ্ডীপাঠে মা দুর্গার যে ২৩টি পরম সত্ত্বার বন্দনা করা হয়েছে, তা মানবজীবন ও প্রকৃতির এক একটি মৌলিক ভিত্তি:
| শ্লোক নং | দেবীর দিব্য স্বরূপ (Divine Form) | আধ্যাত্মিক ও মানসিক তাৎপর্য (Spiritual Meaning) |
|---|---|---|
| ১ | বিষ্ণুমায়া (Vishnumaya) | ভগবান শ্রীবিষ্ণুর আদি সৃষ্টি ও মহাজাগতিক মোহিনী শক্তি। |
| ২ | চেতনা (Chetana) | সকল সজীব প্রাণীর ভেতরের প্রাণস্পন্দন ও জীবন্ত বোধশক্তি। |
| ৩ | বুদ্ধি (Buddhi) | ন্যায্য বিচার, মেধা, দূরদর্শিতা ও বিবেকী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা। |
| ৪ | নিদ্রা (Nidra) | শরীর ও মনের ক্লান্তি দূরকারী কল্যাণময়ী যোগনিদ্রা। |
| ৫ | ক্ষুধা (Kshudha) | শারীরিক ক্ষুধা ও পরম সত্যকে জানার অন্তর্নিহিত ব্যাকুলতা। |
| ৬ | ছায়া (Chhaya) | তাপদগ্ধ জগতে স্নিগ্ধ শীতল আশ্রয় ও অহিংস প্রতিবিম্ব। |
| ৭ | শক্তি (Shakti) | সমস্ত সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়ের অন্তর্নিহিত অমোঘ তেজ ও বল। |
| ৮ | তৃষ্ণা (Trishna) | জীবনের চলার অনুপ্রেরণা ও দিব্য আনন্দের পিপাসা। |
| ৯ | ক্ষান্তি (Kshanti) | ক্ষমাশীলতা, ধৈর্য ও অন্যের অপরাধ ক্ষমা করার ঔদার্য। |
| ১০ | জাতি (Jati) | প্রকৃতির বিচিত্র প্রজাতি, বর্ণ ও সমগ্র সৃষ্টির ঐক্যসূত্র। |
| ১১ | লজ্জা (Lajja) | অসৎ কর্ম থেকে বিরত থাকার নীতিবোধ, বিনয় ও শালীনতা। |
| ১২ | শান্তি (Shanti) | মনের প্রশান্তি, দ্বন্দ্বমুক্তি ও পারমার্থিক স্থৈর্য। |
| ১৩ | শ্রদ্ধা (Shraddha) | ধর্ম, ঈশ্বর ও সত্যের প্রতি অকৃত্রিম ভক্তি ও একাগ্র বিশ্বাস। |
| ১৪ | কান্তি (Kanti) | অনুপম শ্রী, রূপলাবণ্য, আভা ও মনের আনন্দময় দীপ্তি। |
| ১৫ | লক্ষ্মী (Lakshmi) | ধনধান্য, সৌভাগ্য, আধ্যাত্মিক সম্পদ ও শুভবৃদ্ধি। |
| ১৬ | বৃত্তি (Vritti) | ন্যায্য কর্ম, জীবনোপায় ও জীবিকার সুব্যবস্থা। |
| ১৭ | স্মৃতি (Smriti) | স্মরণশক্তি, আত্মবোধ ও শুভ সংস্কারের ধারণক্ষমতা। |
| ১৮ | দয়া (Daya) | নিঃস্বার্থ সমবেদনা, জীবের প্রতি ভালোবাসা ও অহিংসা। |
| ১৯ | তুষ্টি (Tushti) | অল্পে পরিতৃপ্তি, সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতাবোধ। |
| ২০ | মাতৃরূপ (Matrirupa) | নিঃশর্ত স্নেহ, পরম আশ্রয় ও বিশ্বজননী মাতৃস্নেহ। |
| ২১ | ভ্রান্তি (Bhranti) | মায়ার আড়াল—যা পেরিয়ে সাধক পরম সত্যে পৌঁছায়। |
| ২২ | ইন্দ্রিয়াধিষ্ঠাত্রী (Indriyadhishtatri) | সমস্ত ইন্দ্রিয় ও পঞ্চভূতের নিয়ন্ত্রক সর্বব্যাপ্তা শক্তি। |
| ২৩ | চিতিরূপা (Chitirupa) | অনন্ত বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে পরিব্যাপ্ত পরম শুদ্ধ চৈতন্য। |
প্রতিটি শ্লোকের সুললিত ও ভক্তিময় বঙ্গানুবাদ নিচে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হলো:
| শ্লোক | মূল শ্লোক ও প্রাঞ্জল বাংলা ভাবার্থ |
|---|---|
| শ্লোক ১ |
যা দেবী সর্বভূতেষু বিষ্ণুমায়েতি শব্দিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ১ ॥ বাংলা অর্থ: যে দেবী সমস্ত প্রাণীর মধ্যে ভগবান শ্রীবিষ্ণুর আদি অলৌকিক মায়াশক্তিরূপে খ্যাত, সেই পরমেশ্বরী দেবীকে আমার পুনঃ পুনঃ শতকোটি প্রণাম। |
| শ্লোক ২-৪ |
চেতনা, বুদ্ধি ও নিদ্রারূপে সংস্থিতা... বাংলা অর্থ: যে দেবী সমস্ত জীবের মধ্যে প্রাণশক্তি বা চেতনারূপে প্রকাশিত; যিনি জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও শুভ বুদ্ধিরূপে অধিষ্ঠিত এবং যিনি জগতের সমস্ত শ্রান্তি দূরকারী কল্যাণময়ী নিদ্রারূপে বিরাজ করছেন—সেই দেবীকে নমস্কার, নমস্কার, পুনঃ পুনঃ নমস্কার। |
| শ্লোক ৫-৮ |
ক্ষুধা, ছায়া, শক্তি ও তৃষ্ণারূপে সংস্থিতা... বাংলা অর্থ: যে দেবী সর্বভূতে ক্ষুধারূপে জীবনধারণের চালিকাশক্তি; যিনি তপ্ত সংসারে শীতল ছায়াস্বরূপ আশ্রয়; যিনি নিখিল ব্রহ্মাণ্ডের মূল শক্তিরূপে বিদ্যমান এবং যিনি উচ্চতর কর্ম ও তৃষ্ণারূপে ক্রিয়াশীল—সেই দেবীকে সশ্রদ্ধ প্রণাম। |
| শ্লোক ৯-১২ |
ক্ষান্তি, জাতি, লজ্জা ও শান্তিরূপে সংস্থিতা... বাংলা অর্থ: যিনি ক্ষমা ও ধৈর্যের মূর্ত প্রতীক; যিনি নিখিল প্রকৃতির নানা জাতিরূপে প্রকাশিতা; যিনি জীবের অন্তরে পাপ থেকে নিবৃত্তকারী লজ্জা ও শালীনতারূপিণী এবং যিনি মনের সমস্ত অশান্তি বিনাশিনী পরম শান্তিরূপে অধিষ্ঠিতা—তাঁকে পুনঃ পুনঃ প্রণাম। |
| শ্লোক ১৩-১৬ |
শ্রদ্ধা, কান্তি, লক্ষ্মী ও বৃত্তিরূপে সংস্থিতা... বাংলা অর্থ: যে দেবী ভক্ত হৃদয়ে অটল শ্রদ্ধাস্বরূপিণী; যিনি অনবদ্য কান্তি ও লাবণ্যের উৎস; যিনি গৃহে সুখ-সমৃদ্ধি ও লক্ষ্মীরূপে বিরাজিতা এবং যিনি মানুষের জীবনধারণের কর্ম ও বৃত্তিরূপে সংস্থিতা—সেই পরমকল্যাণময়ী দেবীকে প্রণাম। |
| শ্লোক ১৭-২১ |
স্মৃতি, দয়া, তুষ্টি, মাতৃরূপ ও ভ্রান্তিরূপে সংস্থিতা... বাংলা অর্থ: যিনি স্মরণশক্তি ও আত্মবোধরূপিণী; যিনি দীন-দরিদ্রের প্রতি পরম দয়ারূপা; যিনি অল্পে তুষ্টি ও সন্তোষের আধার; যিনি সমস্ত জীবের স্নেহময়ী পরম জননী (মাতৃরূপ) এবং যিনি জাগতিক মায়া ও ভ্রান্তিরূপে লীলারতা—সেই জগজ্জননীকে পুনঃ পুনঃ প্রণাম। |
| শ্লোক ২২-২৩ |
ইন্দ্রিয়াণামধিষ্ঠাত্রী... চিতিরূপেণ যা কৃৎস্নমেতদ্ ব্যাপ্য স্থিতা জগৎ... বাংলা অর্থ: যিনি সমগ্র জীবজগতের ইন্দ্রিয়সমূহের একমাত্র অধীশ্বরী এবং সর্বভূতে সদাসর্বদা ব্যাপ্ত দেবী; যিনি নিখিল বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে পরম চৈতন্য বা চিতিশক্তিরূপে পরিব্যাপ্ত করে অবস্থান করছেন—সেই পরব্রহ্মস্বরূপিণী আদি পরাশক্তি মা দুর্গাকে আমার অন্তরের শতকোটি সশ্রদ্ধ প্রণতি। |
সনাতন হিন্দু ধর্মে চণ্ডীপাঠ হলো শ্রীশ্রীদুর্গাসপ্তশতী (বা দেবী মাহাত্ম্যম্)-এর পবিত্রতম অংশ। প্রাচীন কালে মহর্ষি মার্কণ্ডেয় রচিত এই গ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে রাজা সুরথ ও সমাধি নামক বৈশ্যের আখ্যান। রাজ্যহারা রাজা এবং পরিবারচ্যুত বৈশ্য যখন পরম মানসিক কষ্টে বনবাসে ঘুরছিলেন, তখন মহর্ষি মেধা তাঁদের আদি পরাশক্তি দুর্গার মহিমা ও চণ্ডী উপাসনার উপদেশ দেন। চণ্ডীপাঠের প্রভাবেই রাজা সুরথ তাঁর হারানো রাজ্য ফিরে পান এবং বৈশ্য সমাধি পরম আত্মজ্ঞান লাভ করে মুক্ত হন।
বাঙালির জীবনে মহালয়া ও শারদীয়া দুর্গাপূজার সূচনা হয় এই চণ্ডীপাঠের মাধ্যমেই। প্রখ্যাত সাধক ও পণ্ডিতদের মতে, সপ্তশতীর প্রতিটি শ্লোক একটি স্বয়ংসিদ্ধ মহামন্ত্র। বিশেষ করে পঞ্চম অধ্যায়ের এই 'অপরাজিতা স্তুতি' নিয়মিত ভক্তিভরে পাঠ করলে গৃহের সমস্ত অশুভ শক্তি ও অমঙ্গল দূরীভূত হয় এবং গৃহে স্বয়ং জগন্মাতা দুর্গার আশীর্বাদ প্রতিষ্ঠিত হয়।
চণ্ডীপাঠ পরম ফলদায়ক হলেও এর কিছু শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে চলা উচিত:
নিয়মিত ভক্তিভরে শ্রী শ্রী চণ্ডীপাঠ করলে সাধক জীবনে যে সকল বরদান লাভ করেন:
নিত্য পাঠ ও দুর্গাপূজার সময় সহজে অধ্যয়নের জন্য নিচের বাটনে ক্লিক করে সম্পূর্ণ চণ্ডীপাঠ ও ২৩টি রূপের অর্থ সরাসরি সেভ বা প্রিন্ট করে নিন: