সহেলি মিত্র, কলকাতা: উৎসবের মরসুমে টিভি, এসি কেনা অনেকের অধরাই রয়ে গেল। কারণ চলতি বছর দীপাবলির কেনাকাটা (Diwali Price Hike) আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। কাঁচামালের ক্রমবর্ধমান মূল্য, ফসলহানি এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে টিভি ও এসির মতো ইলেকট্রনিক গ্যাজেটের দাম ৩% থেকে ৭% পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে মিষ্টির দাম বেড়েছে ১৫% পর্যন্ত। দীপাবলির উপহার ও খাবারের মধ্যে ড্রাইফ্রুট অর্থাৎ পেস্তা ও বাদামসহ সমস্ত শুকনো ফলের দামও ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
উৎসবের সময়ে ১৫% অবধি বাড়ল জিনিসের দাম
গত দীপাবলির তুলনায় এই বছর পেস্তার দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। দোকানদাররা মনে করছেন যে, দাম বাড়ার কারণে বিক্রির সামগ্রিক পরিমাণ বাড়লেও, এই বছর একক প্রতি বিক্রি কমে যাবে। উৎসবের সময়ে টিভি, রেফ্রিজারেটর এবং এসির মতো ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী বেশ জনপ্রিয়। তবে, হায়ার, LG এবং Blue Star -র মতো প্রধান ভোগ্যপণ্য প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো এই উৎসবের মরসুমে তাদের পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। ফলে, এই সময়ে একটি অ্যাপ্লায়েন্স কেনার জন্য সাধারণ গ্রাহকদের আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে। এই মূল্যবৃদ্ধি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সাধারণত ছাড় এবং উৎসবের অফারগুলো গ্রাহকদের নতুন পণ্য কিনতে উৎসাহিত করে।
ইলেকট্রনিক্স রিটেইলার বিজয় সেলস এই উৎসবের মরসুমে মূল্যের দিক থেকে বিক্রিতে ২০ শতাংশ বৃদ্ধির আশা করছে, কিন্তু বিক্রি হওয়া ইউনিটের সংখ্যা একক অঙ্কেই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে বড় তথ্য দিয়েছেন বিজয় সেলস-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর নীলেশ গুপ্তা। তিনি জানান, “আমরা দেখছি গ্রাহকরা ইএমআই-এর ওপর বেশি নির্ভর করছেন। আমাদের প্রায় ৭০ শতাংশ কেনাকাটা ইএমআই-এর মাধ্যমে হচ্ছে। উৎসবের মরসুমটি ভালোই কেটেছে। আমরা মূল্যের দিক থেকে দুই অঙ্কের বৃদ্ধির আশা করছি, কিন্তু বিক্রি হওয়া ইউনিটের সংখ্যা একক অঙ্কেই থাকবে।”
আরও পড়ুন: দীপাবলিতে আকাল! মিলবে না ১০, ২০, ৫০ টাকার নোট? RBI-র সার্কুলার ঘিরে শোরগোল
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বছর শিল্পটি ছোট এবং বড় উভয় ধরনের ঘরোয়া সরঞ্জামের ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। গ্রাহকরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। নতুন কোনো গৃহস্থালী সরঞ্জাম বা ইলেকট্রনিক পণ্য কেনার আগে মানুষ এখন আরও বেশি গবেষণা করছেন এবং নিজেদের অর্থের সর্বোত্তম মূল্য পেতে চান।
আরও জিনিসের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা!
দুধ, খোয়া, চিনি, শুকনো ফল এবং প্যাকেজিং উপকরণের দাম বাড়ার কারণে মুদ্রাস্ফীতি মিষ্টির মিষ্টতার উপরও প্রভাব ফেলেছে। উত্তর প্রদেশের বাজারে চিনির দাম প্রতি কুইন্টাল ৪,৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫,৭০০ টাকা হয়েছে, অন্যদিকে কর্ণাটক মন্ত্রিসভা সম্প্রতি নন্দিনী দুধের দাম প্রতি লিটারে ৮ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। একটি বড় মিষ্টির দোকানের চেইনের একজন মুখপাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মিষ্টি এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের চাহিদা কমবে না, তবে আমরা আশা করি গ্রাহকরা ছোট প্যাকেট কিনবেন। রাখিবন্ধন থেকেই এমনটা হয়ে আসছে। দিওয়ালির ঠিক আগে কোম্পানিটি তাদের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়িয়েছিল।”










