নতুন করে MPO আইনের ২ ও ৯ নম্বর ধারা জারি, এবার আরও বিপাকে ইন্দ্রনীল সেন

Published:

indranil sen (1)

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রবেশের পাস বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ টাকা তোলা হয়েছিল। সেই টাকা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি, মন্ত্রিত্বের সময়ে সরকারি দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বৌবাজার থানায় এফআইআর দায়ের হওয়ার পর তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ ও ইডি। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী (Indranil Sen)। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে MPO আইনের ২ ও ৯ নম্বর ধারা যুক্ত করার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

ইন্দ্রনীল সেনের উপর নতুন ধারা জারি!

ইন্দ্রনীল সেন রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী তথা পরিচিত সংগীতশিল্পী ও রাজনীতিক। তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত, যে সংস্থার মাধ্যমে পুজোর পাস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ইন্দ্রনীলকে গ্রেফতারির পর একাধিকবার তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ইডির তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের তদন্তও চলছে। আদালতে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর তাঁকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, মধুছন্দাকেও লালবাজারে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। যদিও তিনি কলকাতা হাই কোর্ট থেকে আগাম জামিনের রক্ষাকবচ পেয়েছেন। পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেনও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। এমনকি তাঁদের মেয়েকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, শুধু পুজোর পাস বিক্রির অভিযোগ নয়, বেআইনিভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পত্তি অর্জন এবং সেই টাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে। সেই কারণেই নতুন করে MPO আইনের ২ ও ৯ নম্বর ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পুলিশের বক্তব্য, ”বেআইনিভাবে অর্থ, সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগকে সংশোধিত আইনের ২ নং ধারার আওতায় আনার সুযোগ আছে, ৯ নং ধারায় এই ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তির বিধানও রয়েছে।” এই দুই ধারার মাধ্যমে বেআইনি সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ এবং তার শাস্তির বিষয়টি সামনে আনতে চাইছে তদন্তকারী সংস্থা।

এর আগে ইন্দ্রনীলের আগাম জামিনের আবেদন কলকাতা হাই কোর্টে খারিজ হয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। গত ২৭ অক্টোবর বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের এজলাসে মামলাটি শুনানির জন্য উঠলেও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি সরে দাঁড়ান। পরে গ্রেফতারির পর সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদন প্রত্যাহার করেন ইন্দ্রনীল। শীর্ষ আদালতের তরফে তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করার কথাও বলা হয়। অন্যদিকে, ২৯ অক্টোবর ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হলে তাঁকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মাস আর্টের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ার পর একই দিনে সেই টাকা ইন্দ্রনীলের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: “প্রতিবাদস্থল দখল করা যাবে না” দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

সব মিলিয়ে একের পর এক অভিযোগ ও তদন্তের জেরে প্রাক্তন মন্ত্রীর উপর চাপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। পুজোর পাস বিক্রির অভিযোগ, আর্থিক লেনদেনের তদন্ত, সরকারি দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি এবার নতুন করে MPO আইনের দুই ধারা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তাঁর আইনি জটিলতা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে আইনের ৯ নম্বর ধারায় এই ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান থাকায় মামলার গুরুত্ব আরও বাড়ছে। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের দাবি ও তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে আদালত এই ধারাগুলি যোগ করার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার।

google button