২২ থেকে প্রতি কেজি ২-৩ টাকা! পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে মাথায় বাজ দেশের কলা চাষিদের

Published:

Indian Banana Farmer

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এমনিতেই পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ (Middle East War) পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি সংকটের মুখে পড়েছে। তেলের দাম বাড়া থেকে থেকে শুরু করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সবদিক থেকেই নিপীড়িত সাধারণ মানুষ। তবে এবার সংকটের মুখে পড়ল দেশের কলা চাষিরা (Indian Banana Farmer)। একসময় লাভজনক এই চাষ এখন কৃষকদের গলায় দড়ি দেওয়ার মতো অবস্থায় ফেলেছে। রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) জলগাঁও এবং সোলাপুরের মতো প্রধান কলা উৎপাদনকারী জেলাগুলিতে কলার দাম প্রতি কেজি ২২ টাকা থেকে মাত্র ২-৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

কলার দামে বিরাট পতন

প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাসে কলার পাইকারি বাজারে যে ধস নেমেছে তা রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতো। হ্যাঁ, ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতি কেজি কলার দাম ছিল ১৮ থেকে ২২ টাকা। আর মার্চ মাসে এসে সেই দাম দাঁড়ায় প্রতি কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা। এমনকি এপ্রিল মাসে তা একেবারে কৃষকদের রাস্তায় বসিয়ে দিয়ে প্রতি কেজির দাম দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ থেকে ৩ টাকা।

যেহতু মহারাষ্ট্রে উৎপাদিত কলার একটি বৃহৎ অংশ ইরান, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলিতে রফতানি হতো, সেই কারণে হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা আর যুদ্ধের জেরে কয়েক হাজার কন্টেইনার এখনও পর্যন্ত কোল্ড স্টোরেজে আটকে রয়েছে। আর বিদেশে যাওয়ার পথ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হওয়ার কারণে এই বিপুল পরিমাণ কলা পুনরায় দেশের বাজারে চলে আসছে। যার ফলে বাজারে জোগান বেড়ে যাওয়ায় দাম আরও তলানিতে ঠেকছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোলাপুরের এক কৃষক জানিয়েছেন, ১০ একর জমিতে কলা চাষ করতে তিনি ২০ লক্ষ টাকা মতো খরচ করেছিলেন। বর্তমানে যা বাজারদর তাতে বড়জোর ৩ লক্ষ টাকা হয়তো ঘরে আসবে। মাত্র এক বছরেই তাঁর ১৭ লক্ষ টাকা লোকসান। এমনকি আরেক কৃষক তো নিজের কলাবাগান উপড়ে ফেলে আখ চাষের কথা ভাবছেন। তাঁর মতে, বাজারে সাধারণ মানুষ এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে কলা কিনছে। অথচ চাষিরা পাচ্ছেন মাত্র ২ থেকে ৩ টাকা। আর এই বিশাল ব্যবধান কৃষকদের এখন আত্মহননের পথে ঠেলে দিচ্ছে। সবথেকে বড় ব্যাপার, এক কৃষক ইতিমধ্যেই ঋণের চাপে পড়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ভারত, পাকিস্তান নাকি চিন… ইরান যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কার?

এ বিষয়ে পুণের হর্টিকালচার ডিরেক্টরের জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য বিমা থাকলেও যুদ্ধ আর ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রফতানি বন্ধ হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনও রকম নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে না। কিন্তু পরিস্থিতি বিচার করে রাজ্যের নেতৃত্ব বিশেষ প্যাকেজের কথা ভাবতে পারে। আবার অন্যদিকে মহারাষ্ট্র রাজ্য কৃষি বিপণন বোর্ড জানাচ্ছে, কেন্দ্রীয় সরকার আটকে পড়া কন্টেইনারগুলির ভাড়া মুকুব করে দিয়েছে। আর রফতানিকারকদের সাহায্যের জন্য মার্চ মাসে ‘রিলিফ’ নামের একটি বিশেষ যোজনা চালু করা হয়েছে। কিন্তু এই সুবিধার সুফল কৃষকরা আদৌ পাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় থেকে যায়।