অনন্যা সরকার, বিহার: উচ্চ মনোবলের সাথে যদি থাকে পরিবারের সমর্থন, তাহলে স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করা অনেক সহজ হয়ে ওঠে। বিহারের বেগুসরাইয়ের চেরিয়া বারিয়াপুর ব্লকের শাহপুরের বাসিন্দা সীমা কুমারী এটি প্রমাণ করে দিয়েছেন। একসময় ঘরকন্নায় আবদ্ধ থাকা সীমা এখন তার দুগ্ধ ব্যবসার (Dairy Farm) মাধ্যমে একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন (Success Story of Entrepreneur Seema Kumari) । তার এই স্বনির্ভর হওয়ার আকাঙ্ক্ষা শুধু তার পরিবারের আর্থিক সক্ষমতাই বাড়ায়নি, বরং স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্যেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। আসুন তাহলে সীমা কুমারীর এই সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক।
গৃহবধূ থেকে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার যাত্রা
ছোটবেলা থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন সীমা। তবে, বিয়ের পর সাংসারিক জাঁতাকলে সেই স্বপ্ন অনেকটা মলিন হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। যখন তাঁর ইচ্ছের কথা পরিবারের সামনে প্রকাশ করেন, তখন তাঁর স্বামী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাঁকে পুরোপুরি সমর্থন করেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি ডেয়ারি ফার্ম শুরু করেন সীমা। প্রায় দশ কাঠা জমিতে ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সূচনা হয় তাঁর ‘মিল্কি ম্যাগাস ডেইরি’-র যাত্রা।
প্রাথমিকভাবে, ১২টি উন্নত জাতের গরু এবং ১২টি বাছুর দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর ব্যবসার পথ চলা। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য, প্রতিটি পশুর জন্য গ্রানাইটের পানীয় পাত্র এবং সরাসরি কলের জলের ব্যবস্থা করা হয়। প্রাথমিক সাফল্যের পর, তিনি চলতি বছর জানুয়ারিতে একটি দুধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র চালু করেন। এখানে ঘণ্টায় ৩০০ লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি মিল্ক প্রসেসিং ও প্যাশ্চুরাইজেশন মেশিন রয়েছে। বর্তমানে সীমার ফার্ম থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০ লিটার দুধ বোতলজাত করে বেগুসরাইতে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: একটানা পাঁচবার ফেল! হাল না ছেড়ে ষষ্ঠ প্রচেষ্টায় UPSC ক্র্যাক করে IAS হলেন আকৃতি
এছাড়াও, সীমা কুমারী তাঁর ফার্মে পনির, দই, খোয়া, মিষ্টি দই, ঘি ও কুল্লার লস্যি উৎপাদন করেন, যা স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি সারা বেগুসরাই জেলা জুড়ে সরবরাহ করা হয়। এই ডেইরির মাসিক টার্নওভার এখন প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। বর্তমানে, ফার্মটিতে সাতজন কর্মচারী কাজ করেন, যাঁরা মাসিক প্রায় ১২,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা বেতন পান। সীমার এই ব্যবসায়িক সাফল্য প্রমাণ করে যে, কঠোর পরিশ্রম, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিবারের সহযোগিতা থাকলে একজন গৃহবধূও উদ্যোগপতি হয়ে শত শত নারীর অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে পারেন।










