একটানা পাঁচবার ফেল! হাল না ছেড়ে ষষ্ঠ প্রচেষ্টায় UPSC ক্র্যাক করে IAS হলেন আকৃতি

Published:

UPSC Success Story of IAS Aakriti Sethi

অনন্যা সরকার, হরিয়ানা: ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (UPSC) পরিচালিত সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষাকে দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন, কিন্তু সফল হন মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন। ফলে, অনেক প্রার্থী প্রাথমিক বাধার পর হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেন, আবার অনেকে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে অধ্যবসায় চালিয়ে যান। এ রকমই একটি অনুপ্রেরণামূলক কাহিনী হলো আইএএস অফিসার আকৃতি শেঠির (UPSC Success Story of IAS Aakriti Sethi), যিনি পরপর পাঁচবার প্রিলিমস পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও হাল ছাড়েননি। ষষ্ঠ প্রচেষ্টায় সাফল্য অর্জন করে আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন। আসুন তাঁর এই সংগ্রামে ভরা যাত্রাটির সম্পর্কে বিশদে জেনে নেওয়া যাক। 

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে ইউপিএসসি-এর প্রস্তুতি

হরিয়ানার আম্বালার বাসিন্দা আকৃতি শেঠি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। স্নাতকের পড়াশোনা শেষ করার পর, তিনি সিভিল সার্ভিসে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন ও ইউপিএসসি-র জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন। তবে, তার জন্য শুরুটা মোটেই সহজ ছিল না। ইউপিএসসি-র প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আকৃতি একটানা পাঁচবার প্রিলিমস পরীক্ষায় ফেল করেন। প্রতিটি ব্যর্থতাই তার সামনে প্রস্তুতি ছেড়ে দেওয়ার জন্য হাজারো কারণ খাড়া করেছিল, কিন্তু হাল ছেড়ে না দিয়ে তিনি নিজের ভুলগুলো বিশ্লেষণ করেন, কৌশল পরিবর্তন করেন ও দৃঢ় সংকল্পের সাথে প্রস্তুতি চালিয়ে যান।

ধারাবাহিক কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্যের ফল তিনি ষষ্ঠ প্রচেষ্টায় পেয়েছেন। তিনি ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ২৪৯ র‍্যাঙ্ক (AIR) অর্জন করে ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (IAS)-এর জন্য নির্বাচিত হন। তাঁর এই সাফল্য এটাই প্রমাণ করে যে, ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং সঠিক কৌশলের মাধ্যমে সবচেয়ে কঠিন লক্ষ্যও অর্জন করা সম্ভব।

আরও পড়ুন: চড়াতেন গরু-মহিষ, চতুর্থ প্রচেষ্টায় UPSC ক্র্যাক করে IAS হলেন ট্যাক্সি চালকের কন্যা

আকৃতি শেঠি জানান যে, কঠিন সময়ে তাঁর পরিবার, বিশেষত তাঁর বাবা তাঁর পাশে ঢালের মতো দাঁড়িয়ে মনোবল অটুট রাখতে অনেক সাহায্য করেছিলেন। বারবার ব্যর্থতার কারণে যখন তাঁর আত্মবিশ্বাস একদম তলানিতে পৌঁছে গিয়েছিল, তখন তাঁর পরিবার তাঁকে উৎসাহিত করে ও প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা যোগায়। এক আত্মীয়ের পরামর্শে আকৃতি তাঁর কৌশল আরও উন্নত করতে পেরেছিলেন বলেও জানান।

আকৃতি শেঠির এই সাফল্য প্রমাণ করে যে ইউপিএসসির মতো কঠিন পরীক্ষায় ব্যর্থতাই শেষ কথা নয়। বরং এটি নতুন করে শুরু করার জন্য উৎসাহ দান করে। পরীক্ষার্থীরা যদি নিজেদের দুর্বল দিক ও ভুলগুলো চিহ্নিত করতে পারেন, প্রস্তুতির কৌশল আরও উন্নত করতে পারেন এবং ধৈর্য ধরে রাখতে পারেন, তাহলে সাফল্য ঠিকই আসবে। তাঁর এই পথচলা লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর জন্য এখন অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

google button