অনন্যা সরকার, মহারাষ্ট্র: আজও ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বহু মেয়ের পক্ষে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। তবে, এই সমস্ত প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে সি. বনমতী (UPSC Success Story of IAS C Vanmathi) ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে একজন আইএএস অফিসার হয়েছেন। বর্তমানে তিনি মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধা জেলার জেলা কালেক্টর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তবে, এই সাফল্য অর্জন বনমতীর জন্য সহজ ছিল না। চলুন জেনে নেওয়া যাক তাঁর সংগ্রামের কাহিনীটি।
সংগ্রামমুখর শৈশব থেকে ইউপিএসসি-তে সফল হওয়ার যাত্রা
তামিলনাড়ুর ইরোড জেলার এক সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণকারী বনমতী সি-এর বাবা ছিলেন একজন ট্যাক্সি চালক। পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না হওয়ায়, পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি গবাদি পশু পালনেও সাহায্য করতেন। ছোটবেলাতেই তিনি মহিষ চরাতেন ও পশুদের খাওয়ানোর দেখাশোনা করতেন। এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও, তাঁর বাবা-মা চেয়েছিলেন যেন তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান ও জীবনে বড় কিছু অর্জন করেন।
রক্ষণশীল গ্রামীণ সমাজে থাকার কারণে, পড়াশোনা শেষ করার পরপরই তাঁর ওপর বিয়ে করার চাপ আসতে শুরু করে। তবে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। পরিবারের সমর্থনে তিনি স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন এবং তারপর মাস্টার অফ কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনস (MCA) ডিগ্রি অর্জন করেন।
আরও পড়ুন: চৌকিদারের ছেলে UPSC-তে বড় সাফল্য, সাথে গড়লেন ১৫ জন পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎও
বনমতী নিজের গ্রামে একজন মহিলা জেলা কালেক্টরকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। একজন মহিলা পুরো জেলা পরিচালনা করছেন, এই পুরো বিষয়টি তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। এমনকি, ‘গঙ্গা যমুনা সরস্বতী’ নামের একটি টেলিভিশন ধারাবাহিকে এক আইএএস অফিসারের চরিত্রও তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
ইউপিএসসি-র প্রস্তুতি চলাকালীন আর্থিক সংকট সামলাতে তিনি ব্যাংকিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু করেন। ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রথম প্রচেষ্টায় তিনি ইন্টারভিউ পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছালেও চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হননি। এর পরেও একাধিকবার বিভিন্ন পর্যায়ে বাধার সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে। তবে অবশেষে কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের জোরে ২০১৫ সালে তিনি ইউপিএসসি (UPSC) সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, সর্বভারতীয় পর্যায়ে ১৫২তম স্থান অর্জন করেন ও একজন আইএএস অফিসার হিসেবে মহারাষ্ট্র ক্যাডারে যোগদান করেন।
আইএএস ইন্টারভিউয়ের ঠিক দু’দিন আগে তাঁর বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। বাবার দেখাশোনার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েও বনমতী নিজের লক্ষ্য থেকে একচুলও সরেননি। তিনি ইন্টারভিউতে আত্মবিশ্বাসের সাথে অংশ নেন এবং শেষ পর্যন্ত নিজের স্বপ্ন পূরণ করেন। তাঁর এই সংগ্রামের যাত্রা প্রমাণ করে যে, যতই প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতা থাকুক না কেন, প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।










