বর্জ্য ভেবে ফেলে দেন? বেগুনের খোসা দিয়েই চমকাবে চুল থেকে ত্বক

Published:

Eggplant

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: আমরা কত জিনিস অপ্রয়োজনীয় ভেবে ফেলে দিই। তেমনই একটি জিনিস হল বেগুনের খোসা (Eggplant Peel)। রান্নার সময় অনেকেই বেগুনের খোসা ছাড়িয়ে ফেলে দেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, বর্জ্য ভেবে ফেলে দেওয়া এই অংশটিকেও একাধিকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব? এই প্রতিবেদনে জেনে নিন বেগুনের খোসা ব্যবহারের চারটি অত্যাধুনিক পদ্ধতি।

বেগুনের খোসার উপকারিতা

বেগুনের খোসার বেগুনি রঙের পিছনে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিন নামের একটি রঞ্জক পদার্থ। বিভিন্ন গবেষণায় এই বেগুনের খোসায় অ্যান্থোসায়ানিন ও অন্যান্য ফেনলজাতীয় যৌগের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। এই উপাদানগুলির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন বেগুনের খোসা?

গাছের জন্য জৈব সার তৈরি

বেগুনের খোসা কাজে লাগানোর অন্যতম সহজ উপায় হল কম্পোস্ট তৈরি করা। খোসা ছোট ছোট টুকরো করে অন্যান্য ফল ও সবজির বর্জ্যের সঙ্গে মিশিয়ে কম্পোস্ট তৈরির একটি পাত্রে রাখুন। তবে শুধু খোসা জমিয়ে রাখলেই ভালো সার তৈরি হয়ে যাবে এমনটা কিন্তু নয়। সার তৈরির জন্য শুকনো পাতা বা কুচোনো কাগজের মতো কার্বনসমৃদ্ধ উপাদান, পর্যাপ্ত বাতাস ও আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। সঠিকভাবে কম্পোস্ট তৈরি করলে তা মাটির গুণমান উন্নত করতে এবং গাছের বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

ত্বকের পরিচর্যায় কার্যকরী

বেগুনের খোসায় অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট উপাদান থাকে, তাই এই খোসা ব্যবহার করে মুখের কালো দাগ বা ট্যানিং দূর করা যায়। তবে কোনও গুরুতর সমস্যা থাকলে, তার সমাধান হিসেবে এই ঘরোয়া পদ্ধতির উপর নির্ভর না করাই ভালো। তার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ায় মঙ্গলজনক।

চুলের যত্নে বেগুনের খোসা

খোসা সেদ্ধ করা জল দিয়ে চুল ধুলে চুলের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বাড়ে ও চুলের শুষ্কতা কমে। এটি একটি সম্পূর্ণ ঘরোয়া পদ্ধতি। বৈজ্ঞানিকভাবে এর কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাই স্ক্যাল্পে কোনও সমস্যা থাকলে এই পদ্ধতির ওপর ভরসা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

তামা ও পিতলের বাসন পরিষ্কার

বেগুনের খোসা সেদ্ধ করা জলে লেবু ও নুন মিশিয়ে তামা বা পিতলের বাসন পরিষ্কার করতে পারেন। বাসনের কালো দাগ তুলে বাসনকে চকচকে করে তুলতে এই খোসার জুড়ি মেলা ভার।

আরও পড়ুন: কাকির গয়না চুরি করে সেই টাকায় কেনা থার গাড়ির পুজোয় তাঁকেই আমন্ত্রণ, গ্রেফতার ভাইপো

পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। এতে নাসুনিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট উপাদান থাকে, যা শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। তাই বেগুন রান্নার সময় খোসা ছাড়িয়ে ফেলে না দিয়ে ভালো করে ধুয়ে খোসা-সহ রান্না করে খাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, নাম “বেগুন” হলেও এই সবজিটি কিন্তু অত্যন্ত উপকারী। শরীরের ভিতর থেকে বাইরে, সবেতেই এই বেগুন ভীষণ কার্যকরী। তাই এবার থেকে বেগুনের খোসা ফেলে না দিয়ে উল্লিখিত উপায়ে ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

google button