শেয়ার বাজারের পতনেও ভয় নেই, অল্প খরচে লাভের মুখ দেখতে হলে সেরা বিকল্প Arbitrage Funds!

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজার (Stock Market) যেভাবে অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তাতে এখানে বিনিয়োগ করে কিছুতেই শান্তিতে ঘুমোতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। এক কথায় বলা যায়, বিনিয়োগকারীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে বাজারের উত্থান পতন। তবে আপনি যদি শেয়ার বাজারের ঝুঁকি এড়িয়ে বিনিয়োগ করে মোটা টাকা আয় করতে চান সেক্ষেত্রে আপনার জন্য সেরা বিকল্প হতেই পারে আর্বিট্রেজ ফান্ড (Arbitrage Funds)। এটি আসলে একটি হাইব্রিড মিউচুয়াল ফান্ড। যা বাজারের গতিপ্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। বরং যেকোনও সেভিংস অ্যাকাউন্টের থেকে অনেক বেশি রিটার্ন দেয়। তাই তো এতকাল এই ফান্ডে বিনিয়োগ করেই নিশ্চিন্তে দিন কাটাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

কীভাবে কাজ করে এই হাইব্রিড মিউচুয়াল ফান্ড?

প্রথমেই বলে রাখি, এই হাইব্রিড মিউচুয়াল ফান্ড মূলত শেয়ারবাজারের উত্থান পতনের মধ্যে পার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগকারীদের হাতে লভ্যাংশ তুলে দেয়। এবার আসে যাক এই আর্বিট্রেজ ফান্ড কীভাবে কাজ করে সে বিষয়ে। ধরা যাক একটি কোম্পানির শেয়ারের দাম ক্যাশ মার্কেটে 200 টাকা। মিউচুয়াল ফান্ডে সেই শেয়ার বিক্রি হচ্ছে 510 টাকায়। এক্ষেত্রে ফান্ড ম্যানেজার দ্রুত 500 টাকায় শেয়ারটি কিনে নিয়ে মিউচুয়াল ফান্ডে 510 টাকায় সেটি বিক্রি করে দেন। এর মধ্যে দিয়ে 10 টাকা লাভ হয়ে যায় বিনিয়োগকারীর।

শেয়ার বাজার বাড়ুক অথবা কমুক লাভের ঘরে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। নিয়ম অনুযায়ী, মিউচুয়াল ফান্ডের এই হাইব্রিড ফান্ডগুলি তাদের মূলধনের কমপক্ষে 65 শতাংশ ইকুইটিতে রেখে থাকে। বাকি অর্থ ডেট এবং মানি মার্কেটে বিনিয়োগ করে থাকে।

কর ছাড়ের সুবিধা

মিউচুয়াল ফান্ডের এই হাইব্রিড আর্বিট্রেজ ফান্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এখানে খানিকটা ইকুইটি ফান্ডের মতোই করের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়।। আসলে যদি কেউ 12 মাসের আগে নিজের সঞ্চিত অর্থ তুলে নেন সে ক্ষেত্রে লাভের উপর বিনিয়োগকারীকে 20 শতাংশ কর দিতে হয়। তবে যদি কেউ 12 মাস অর্থাৎ এক বছর পরে নিজের অর্থ তোলেন সে ক্ষেত্রে শুধুমাত্র 12.5 শতাংশ দীর্ঘমেয়াদী কর ধার্য হয়। এক কথায় বলা যায়, যাঁরা শেয়ার বাজারের ঝুঁকি এড়িয়ে এবং কর বাঁচিয়ে মোটা রিটার্নের আশা করছেন তাদের জন্য এই ফান্ড সেরা বিকল্প। বলে রাখি, এখানে অল্প খরচে নিশ্চিন্তে লাভের মুখ দেখা সম্ভব!

অবশ্যই পড়ুন: IPL-এ বৈভব সূর্যবংশীর থেকেও বেশি বিধ্বংসী এই ব্যাটসম্যান

প্রসঙ্গত, একটা বিষয় মনে রাখতে হবে আর্বিট্রেজ ফান্ড সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়। অর্থাৎ বাজার মূল্যের ব্যবধান কমে গেলে বিনিয়োগকারীর প্রাপ্য রিটার্ন অনেকটাই কমে যাবে। এছাড়াও বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। তাই বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি এই স্কিমের ডকুমেন্টেশন এবং ম্যানেজমেন্ট ফি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেবেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগের কথা ভাবলে তবেই এই স্কিমে বিনিয়োগ করা ভাল।

( বিদ্র: শেয়ার বাজার বা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ আর্থিক ঝুঁকি সাপেক্ষ। শুধুমাত্র এই প্রতিবেদনটি পড়ে কোনও স্টকে বিনিয়োগ করবেন না। এই খবরটি মূলত পাঠকদের কাছে শেয়ার বাজার সম্পর্কিত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য তৈরি। নিয়োগ সংক্রান্ত যেকোনও সিদ্ধান্তের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।)