অনন্যা সরকার, কলকাতা: ‘প্রেতকথা’ (Pret Katha) খ্যাত ইউটিউবার গৌরব তপাদার (Gourab Tapadar) আবারও তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জড়ালেন বিতর্কে (Controversy)। ঘটনার সূত্রপাত হয় গৌরবের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা তপাদারের একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে। সেই পোস্টে তিনি গৌরবের প্রাক্তন ‘অন্তরা দে’-কে নাম না করে ‘অযোগ্য’ বলে আক্রমণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। এরপর অন্তরা ফেসবুক লাইভে এসে তার আর গৌরবের বিচ্ছেদের আসল কারণ প্রকাশ করেন। সঙ্গে এও জানান যে, আইনি বিয়ের পরও তার সাথে যোগাযোগ রেখেছিলেন গৌরব। সেই সব কথপোকথনও ফাঁস করেছেন অন্তরা। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চা তুঙ্গে।
আসলে কি ঘটেছিল ?
সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় ইউটিউবার-ইনফ্লুয়েন্সার গৌরব তপাদার তার জার্নি শুরু করেছিলেন গান ও মোটিভেশনাল স্পিচের মাধ্যমে। তারপর তার পডকাস্ট চ্যানেল মন জয় করে নেয় দর্শকদের। সেই সময় তিনি সম্পর্কে ছিলেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু অন্তরা দে-র সঙ্গে। তারপর দেখা যায় গৌরব যতই খ্যাতির শিখরে পৌঁছাচ্ছেন ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়ছে অন্তরার সঙ্গে। যদিও এই নিয়ে তখন তারা মুখ খোলেননি কিন্তু পরবর্তীকালে সম্পর্কের ভাঙ্গন নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করতে দেখা গেছে দুজনকেই। এরপর হঠাৎ করেই জানা যায় নৃত্যশিল্পী প্রিয়াঙ্কার সাথে গাঁটছড়া বাঁধছেন গৌরব। এদিকে কলকাতার পাঠ চুকিয়ে পাহাড়ে নতুন করে জীবন শুরু করেন অন্তরা। দুজনেই নিজেদের জীবন গুছিয়ে নেন নিজেদের মতো করে।
বিতর্ক শুরু হয় যখন গত ২৩ শে জুন প্রিয়াঙ্কা তপাদার স্বামীর সঙ্গে ছবি দিয়ে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেন। পোস্টে প্রিয়াঙ্কা গৌরবের প্রশংসা করে লেখেন ‘এরম মানুষ যদি তোমাদের জীবনে লাইফ পার্টনার হতো যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে দিন রাত এক হয়ে খাটছে.. তার পাশে বসে সারাদিন কোনো কাজ না করে ফোন ঘেঁটে, রিলস দেখে, সময় কাটাতে পারতেন…? নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা কি আপনারা কেউ করতেন না…?’। তার এই বক্তব্য থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। অনেকে মনে করেন প্রিয়াঙ্কা গৌরবের প্রাক্তন অন্তরাকে উদ্দেশ্য করেই এই কথাটি লিখেছেন।
অন্তরাও দাবি করেন এই পোস্ট তাকে নিশানা করেই লেখা হয়েছে। অযোগ্য বলে তাকে কটাক্ষ করা হয়েছে। এরপর ফেসবুক লাইভে এসে দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন অন্তরা। তিনি জানান বিচ্ছেদের পর সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য তিনি অনেক চেষ্টা করেছেন কখনো গৌরবের সম্পর্কে কোন খারাপ মন্তব্য জনসমক্ষে করেননি। কিন্তু তাও তাকে বারবার প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে হয়েছে। শুনতে হয়েছে নানা কটুকথা। আইনি বিয়ের পরেও গৌরব যে তার সাথে যোগাযোগ রেখেছিলেন – এই কথাও জানান তিনি। গৌরবের পাঠানো ভয়েজ মেসেজ এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট তুলে ধরেন আরেকটি পোস্টে।
ওই ভয়েস মেসেজে গৌরব কে বলতে শোনা যায়, “আজ বুঝি তোকে না পেয়ে তোর সঙ্গে আমার ভালোবাসাটা অমর হয়ে গিয়েছে। তুই থাকলে হয়তো অনেক ভুল বোঝাবুঝি থাকত। যেহেতু তোকে পাইনি, তাইন অনুভূতি আরও স্ট্রং হয়েছে। স্ত্রীর মতোই সম্মান করি তোকে। বিচ্ছেদেই তোকে আমি আজীবনের জন্য পেয়ে গিয়েছি।” এমনকি একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে গৌরব অন্তরাকে জানান তিনি প্রিয়াঙ্কাকে বলেছেন যে অন্তরা তার ‘প্রথম বউ’।
স্বাভাবিকভাবেই এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তরজা। এরই মাঝে প্রিয়াঙ্কাও লাইভে এসে বলেন যে, তিনি তার পোস্টে কাউকে আক্রমণ করেননি। বরং উল্টো দিক থেকেই তার এবং তার স্বামীর ওপর বারবার আক্রমণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় গৌরব ও প্রিয়াঙ্কাকে নিশানা করেছেন নেট নাগরিকরা। কেউ কেউ প্রিয়াঙ্কাকে প্রশ্ন করেছেন, ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ হয়ে কেমন লাগছে? আবার বিয়ের পরেও প্রাক্তনকে মেসেজ করার জন্যও গৌরবকে কড়া নিন্দা করতে ছাড়েনি নেটপাড়া।










