গেয়েছেন ৬০০০ গান, প্রয়াত বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী

Published:

Jamuna Rani

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ সঙ্গীত দুনিয়ায় আবারও বড় নক্ষত্রপতন। ইহলোক ত্যাগ করলেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী। মৃত্যু হল গায়িকা যমুনা রানী(Jamuna Rani)-র। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। আপনি জানলে অবাক হবেন, নিজের কেরিয়ারে তিনি ৬০০০টি গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করেছেন। কিন্তু এবার তাঁর এহেন আকস্মিক চলে যাওয়া মানতে পারছেন না কেউ।

প্রয়াত হলেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী

যমুনা রানী দক্ষিণের গায়িকা ছিলেন। দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর সুমধুর কণ্ঠের জন্য খ্যাতি অর্জনকারী প্রখ্যাত নেপথ্য গায়িকা যমুনা রানী বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই বেঙ্গালুরুতে প্রয়াত হন। ৮৮ বছর বয়সী যমুনা রানী তাঁর কয়েক দশক দীর্ঘ কর্মজীবনে তামিল, তেলুগু এবং সিংহলি চলচ্চিত্রে হাজার হাজার গান গেয়েছেন।

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত কর্মজীবনে, এই প্রবীণ প্লেব্যাক গায়িকা হাজার হাজার রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে নিজের খ্যাতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি তামিল, তেলুগু এবং অন্যান্য ভাষাতেও গান গেয়েছেন। কণ্ঠের জন্য বিখ্যাত যমুনা রানী ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকের অন্যতম প্রধান প্লেব্যাক শিল্পী ছিলেন। কয়েক দশক পরেও তাঁর অনেক গান নতুন শ্রোতাদের মনে ঝড় তোলে।

কেমন ছিল কেরিয়ার?

যমুনা রানীর একটি বর্ণময় কর্মজীবন ছিল। তিনি তাঁর সময়ের কিছু বড় তারকার জন্য কণ্ঠ দিয়েছেন। তিনি ত্রাভাঙ্কোর সিস্টার্সের অভিনেত্রী ললিতা ও পদ্মিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন এবং টি.এম. সুন্দররাজন, জে.পি. চন্দ্রবাবু ও পি.বি. শ্রীনিবাসের মতো বিখ্যাত কিছু প্লেব্যাক গায়কদের সঙ্গে কাজ করেছেন। যমুনা রানী তেলুগু, তামিল, কন্নড় এবং মালয়ালম ভাষায় ৬,০০০-এরও বেশি গান গেয়েছেন। তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় গানগুলির মধ্যে রয়েছে “দাইভাপিরাভি” থেকে “কালাই ভায়াসু কাত্তানা মনসু”, “পত্তনদ্রু কেত্তেন”, “পাসামালার” থেকে “পারভাসাম আসে”, “কুঙ্গুমাপুভ কনজুম পুরাভে,” “মামা মামা,” এবং “আথিমনিথান কাথালুকুপিন”। তাঁর প্রাণময় কন্ঠস্বর এবং লোক ছন্দের অনায়াস উপলব্ধি তাঁকে দক্ষিণ ভারতীয় সঙ্গীত শিল্পে স্বীকৃতি এনে দিতে সাহায্য করেছিল।

আরও পড়ুনঃ বোন আক্রান্ত ক্যান্সারে, ডাক্তার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে NEET ক্র্যাক সাগরের

পরবর্তী সময়ে সঙ্গীত পরিচালক ইলাইয়ারাজা কমল হাসানের ছবি ‘নায়কন’-এর ‘নান সিরিথাল দীপাবলি’ গানে এম. এস. রাজেশ্বরীর সাথে গাওয়ার সুযোগ দিয়ে তাঁর কণ্ঠকে তরুণ প্রজন্মের কাছে পুনরায় পরিচিত করান। অনেক সঙ্গীতপ্রেমী এও লক্ষ্য করেছেন যে, পরবর্তীকালের শিল্পী এল. আর. ঈশ্বরীর মতো গায়কদের কণ্ঠেও যমুনা রানীর সেই ইমোশনে ভরপুর গায়কী শৈলীর প্রতিফলন দেখা যায়। যাইহোক, যমুনা রানীর প্রয়াণ সঙ্গীত জগতের জন্য যে এক অপূরণীয় ক্ষতি সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

আরও Jamuna Rani Singer