সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: শ্রীরাম জন্মভূমি অযোধ্যার রাম মন্দিরের (Ram Mandir) ট্রাস্টে জমা পড়া ৩৫০০ কোটি টাকার সিংহভাগ চুরি হয়েছে বলেই উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দিল বিশেষ তদন্তকারী দল সিট (SIT)। তার সঙ্গে রয়েছে সোনা, রুপোর গয়নাও। এমনকি এই রিপোর্টের ভিত্তিতে মোট আটজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই অভিযোগ দায়ের করেছেন শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রের সদস্য শ্রী কৃষ্ণমোহন। এমনকি তার মধ্যে বেশ কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তির বিরুদ্ধেও পুলিশ মামলা করেছে বলে খবর।
রাম মন্দিরে চুরি নিয়ে এফআইআর
আসলে ২০২০ সালে রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট তৈরি হয়। আর সেই সময় থেকেই এতদিন পর্যন্ত রাম মন্দিরে নগদ ৩৫০০ কোটি টাকার বেশি প্রণামী জমা পড়েছে। এমনকি সঙ্গে রয়েছে প্রচুর গয়নাও। তবে দাবি করা হচ্ছে এর সিংহভাগই চুরি হয়েছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে রিপোর্ট পেশ করেছে সিট। এমনকি গয়নার পাশাপাশি মন্দির থেকে গায়েব হয়েছে দানে পাওয়া রুপোর তৈরি ভূসুন্ডির কাকও। সেই সূত্রে এবার রাম মন্দির ট্রাস্ট ভেঙে নতুনভাবে তৈরি করার সুপারিশও দিয়েছি তদন্তকারী দল। তবে এই আত্মসাৎ-র অভিযোগে অনুকল্প মিশ্র, টিনু যাদবসহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এমনকি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, নগদ প্রণামী সংগ্রহ এবং তার হিসাব-নিকাশ রক্ষার মধ্যে একটা বৃহৎ গরমিল লক্ষ্য করা যায়। তারপরও বিষয়গুলোতে কেন উত্তরপ্রদেশ পুলিশ নজরদারি করল না সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। এমনকি তদন্তকারীর রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকে বিজেপির উপর চড়াও হয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সেখানকার সভাপতি অলোক কুমারের দাবি, বেনিয়মের যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। অবিলম্বে রাম মন্দিরের চুরিতে এফআইআর দায়ের করতে হবে। দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি তুলেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।
আরও পড়ুন: পুজোর আগেই শুরু হবে উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা, প্রকাশ্যে এল রুটিন
এদিকে আগামী বছরই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এই রাম মন্দিরের প্রণামী চুরির তদন্তের রিপোর্ট দেখে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঠিক কোন সিদ্ধান্তের পথে এগোন সেদিকেই নজর থাকবে গোটা রাজ্যবাসীর। এমনকি এক্স হ্যান্ডেলে রাজ্যটির সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব অভিযোগ করছেন, এফআইআর ছাড়া তদন্তকারীদের রিপোর্ট অনেকটা তীর ছাড়া ধনুকের মতো। তবে তদন্তের সূত্রে যা প্রকাশ পাচ্ছে তার থেকে অনেকটাই বেশি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে অনেকেই মনে করছেন, যেহেতু অভিযোগের তীর উঠছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দিকে, তাই তারা নিজেরাও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি চাইছে। এখন দেখার এ বিষয়ে বিজেপির অবস্থান কী হয়।










