UPI লেনদেন কি এবার গুনতে হবে চার্জ? পাস হল ব্যাঙ্কার্স বুকস এভিডেন্স বিল

Published:

Bankers Books Evidence Bill passed

অনন্যা সরকার, নয়াদিল্লি: এবার সংসদে অনুমোদিত হল ব্যাঙ্কার্স বুকস এভিডেন্স বিল (Bankers Books Evidence Bill)৷ গত সপ্তাহেই লোকসভায় পাস হয় বিলটি, অর্থমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও জবাবের পর রাজ্যসভায় ধ্বনি ভোটে (Voice Vote) ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই বিল প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন যে, বিনামূল্যেই ইউপিআই (UPI) লেনদেন করা যাবে৷ এই বিলে ইউপিআই-এর ওপর কোনও কর বা ট্রানজ্যাকসন চার্জ আরোপের প্রস্তাব করা হয়নি বলেই জানান তিনি। কী কী প্রস্তাব পেশ করেছে কেন্দ্র এই বিলে, আসুন জেনে নেওয়া যাক। 

পাস হল ব্যাংকিং নথি সংক্রান্ত নয়া বিল

মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) সংসদের বাদল অধিবেশনের ১৬তম দিনে ‘ব্যাঙ্কার্স বুকস অফ এভিডেন্স বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গত ৩ অগস্ট লোকসভায় এই বিলটির বিষয়ে আলোচনা শুরু করে। পরের দিন, ৪ আগস্ট লোকসভায় বিলটি পাস হয়ে যায়। এরপর এটি রাজ্যসভায় আলোচনার জন্য পেশ করা হয়। আর আজ, সোমবার রাজ্যসভাতেও বিলটি পাস হয়েছে। ফলে ‘ব্যাঙ্কার্স বুকস অফ এভিডেন্স বিল’ এখন আইনে (Act) পরিণত হতে চলেছে।

আরও পড়ুন: প্রথমে ১০ হাজার, পরে ২ লাখ! এই মহিলাদের টাকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার, কীভাবে আবেদন?

কী রয়েছে ব্যাঙ্কার্স বুকস এভিডেন্স বিলে?

এই বিলে ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট’ এবং ‘ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট’-এর মধ্যকার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রস্তাব করার পাশাপাশি ইউপিআই ও রুপে (RuPay) কার্ডের লেনদেনের ক্ষেত্রে ‘জিরো-এমডিআর’ (Zero-MDR) কাঠামো সংশোধনের জন্য সরকারকে আইনি ভিত্তি প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে, ইউপিআই এবং রুপে ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে করা পেমেন্টগুলির জন্য ব্যাংক ও পেমেন্ট সিস্টেম প্রদানকারী সংস্থাগুলি ইউজারদের থেকে কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চার্জ নিতে পারে না। এই বিলে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, কোন কোন ইলেকট্রনিক পেমেন্ট পদ্ধতি বা ট্রানজ্যাকশন চার্জ ফ্রি থাকবে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকার পাবে।

সোমবার রাজ্যসভায় এই বিলটি নিয়ে আলোচনা করার সময় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানান, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল, বিরোধী দলগুলির উচিত এতে তাঁদের আগ্রহ দেখানো এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করা। এই বিলটি সংস্কারমুখী বলেও মন্তব্য করেন নির্মলা সীতারামন। তিনি এও বলেন যে, এইধরনের বিল ভারতকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। উন্নতির জন্য পরামর্শ দেওয়া ছাড়া, কারও এই পদক্ষেপগুলি সর্ম্পকে আপত্তি থাকার কথা নয়। এই বিল নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কে অংশগ্রহণ না করে বিরোধী দলগুলির ওয়াক-আউট করা সিদ্ধান্তকেও সমালোচনা করেছেন অর্থমন্ত্রী। 

জানিয়ে রাখি, ১৩৫ বছরের পুরনো এই আইনটির মূল উদ্দেশ্য ছিল আইনি কার্যক্রমে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যাংকের নথিপত্রের অ্যাটেস্টেড কপি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া। এর ফলে প্রতিবার আদালতে মূল লেজার ও নথিপত্র হাজির করার ঝামেলা থেকে ব্যাংকগুলি রেহাই পেত। তবে এবার ‘ব্যাঙ্কার্স বুকস এভিডেন্স বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে সংসদে ইংরেজ আমলের ‘ব্যাঙ্কার্স বুকস এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৯১’ বাতিল করা হল। আগের আইনে আইনি মামলার সময় আদালতে ব্যাংকিং নথিপত্র কীভাবে সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে, সে সংক্রান্ত বিধান দেওয়া ছিল। এই নতুন আইনটিতে ব্যাংকিং নথিপত্র ও কার্যক্রম সংক্রান্ত আইনি কাঠামোকে আরও আধুনিক ও ডিজিটাল যুগের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: স্বাধীনতার পর এই প্রথম, ১৫ আগস্ট বন্দে মাতরম গানটিকে বিশেষ সম্মান দেবে কেন্দ্র

সবচেয়ে উল্লেখ্যযোগ্যভাবে, এই বিলের মাধ্যমে ‘ব্যাঙ্কার্স বুকস’-এর সংজ্ঞাকে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। আগের আইনে ‘ব্যাঙ্কার্স বুকস’-কে কেবল লিখিত আকারে সংরক্ষিত অথবা ম্যাগনেটিক টেপ, মাইক্রোফিল্ম কিংবা অন্যান্য যান্ত্রিক ডেটা-স্টোরেজ মাধ্যমে সংরক্ষিত নথিপত্র বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়। তবে ২০২৬ সালের বিলে ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল ফরম্যাটে সংরক্ষিত নথিপত্রের পাশাপাশি অন-সাইট, অফ-সাইট, ভার্চুয়াল বা ক্লাউড লোকেশনে অন্য কোনো উপায়ে সংরক্ষিত নথিপত্রকেও গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও, কেন্দ্রীয় সরকার এই বিলের মাধ্যমে আরও বেশি বিদেশি পুঁজি আকর্ষণ করতে চায় এবং দেশের মধ্যে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনকে উৎসাহিত করা ও ‘প্রক্রিয়াগত নিশ্চয়তা’ দেওয়ার মাধ্যমে বিদেশি ক্লাউড কোম্পানিগুলোর জন্য ভারতীয় ডেটা সেন্টার ব্যবহার আরও সহজ করে তুলতে চায়। বিলটিতে ফান্ড ম্যানেজারদের ভারতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সহজ করার জন্যও বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।