রোজ ঘি খেলে কি বেড়ে যাবে ওজন? জানুন ঘিয়ের গুণাগুণ ও অপকারিতা

Published:

Benefits of Ghee

অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভারতবর্ষে ঘিয়ের (Ghee) ব্যবহার হয়ে আসছে সেই বৈদিক যুগ থেকে। শুধু খাবারে নয়, চিকিৎসা থেকে যাগ-যজ্ঞ – বিভিন্ন ভাবে ঘিকে কাজে লাগানো হয়। ঘিতে ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট, ৩ থেকে ৪ শতাংশ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও একাধিক ভিটামিন রয়েছে। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভালো ফ্যাটের পাশাপাশি, এতে এমন স্যাচুরেটেড ফ্যাটও থাকে যা কোলেস্টেরলের মাত্রা, বিশেষত খারাপ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে পরিমিত পরিমাণে ঘি খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। তবে প্রায়শই ঘি সম্পর্কে অনেক পরস্পরবিরোধী দাবি শোনা যায়। কোনটা সঠিক, আর কোনটা ভুল আসুন জেনে নেওয়া যাক। 

ঘি খেলে কি ওজন বাড়তে পারে?

ঘি খেলেই যে ওজন বাড়বে, এমনটা নয়। তবে ঘি বেশি পরিমাণে খেলে কোলেস্টেরল বাড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তবে মোট দৈনিক ক্যালরির হিসাবের মধ্যে রেখে পরিমিত পরিমাণে ঘি খেলে সাধারণত ওজন বাড়ে না। তাই প্রতিদিনের খাবারে অল্প পরিমাণে ঘি রাখাই যায়। 

আরও পড়ুন: বর্ষায় ভেজা ভেজা জুতো নিয়ে নাজেহাল দশা? দ্রুত শুকানোর পাঁচ উপায় জেনে নিন

ঘি খেলে কি রক্তনালী বন্ধ হয়ে যায়?

এই ধারণটি পুরোপুরি সঠিক নয়। অল্প পরিমাণ ঘি খেলে রক্তনালী সরাসরি বন্ধ হয়ে যায় না। তবে ঘিতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকায়, নিয়মিত বেশি খেলে লো ডেন্সিটি লাইপোপ্রোটিন (LDL) বা “খারাপ কোলেস্টেরল” বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ এলডিএল, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো সমস্যার সাথে মিলে ধমনিতে প্লাক জমিয়ে ব্লকেজের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

একজন মানুষ দিনে কতটা পরিমাণে ঘি খেতে পারেন?

আইসিএমআর ২০২৪ (ICMR 2024)-এর নির্দেশিকা অনুসারে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সারাদিনে মোট ২৭ থেকে ৩০ গ্রাম চর্বি বা তেল খেতে পারেন। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন সুপারিশ করেছে যে, শরীরের মোট দৈনিক ক্যালোরির ৬ শতাংশেরও কম স্যাচুরেটেড ফ্যাট থেকে আসা উচিত। অর্থাৎ, যদি কারও দৈনিক ২,০০০ ক্যালোরির প্রয়োজন হয়, তাহলে ১২০ ক্যালোরির বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট থেকে আসা উচিত নয়। তাই ১ থেকে ২ চা চামচ বা ৫- থেকে ১০ গ্রাম ঘি প্রতিদিন খাওয়া যায়। 

ঘি কি পেটের আলসার ঠিক করে দেয়?

ঘিতে থাকা মনোস্যাচুরেটেড এবং পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট শরীরের জন্য অপরিহার্য। এছাড়া, ঘিতে বিউটাইরিক অ্যাসিড ,লিনোলিক অ্যাসিড এবং আরও বেশ কিছু উপকারী অ্যাসিড রয়েছে। এগুলো হজমে সাহায্য করতে পারে। ঘি পেটের আলসার নিরাময় করে – এই দাবির সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

আরও পড়ুন: রাহু-কেতুর রাশি পরিবর্তনে ভয়ঙ্কর প্রভাব এই চার রাশির জীবনে, বাঁচতে কী করবেন জানুন

ঘি কি তেলের থেকে ভালো?

এর উত্তর হল, না। পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন। স্যাচুরেটেড ফ্যাটের কারণে রান্নায় নিয়মিতভাবে তেলের বদলে ঘি ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে তেল ও  ঘি – দুয়ের ব্যবহারই নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। 

আরও Ghee Weight