৫৭টি টানেল, ২২৬টি সেতু, ১০৮টি বাঁক! পশ্চিমঘাটে বন্দে ভারত ছুটিয়ে রেকর্ড গড়ল রেল

Published:

Vande Bharat Express

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বন্দে ভারত এক্সপ্রেস (Vande Bharat Express)…ভারতীয় রেলের একদম ‘স্টার’ ট্রেন। এমন কোনও জায়গা নেই যেখানে এখন এই ট্রেন চলে না। নীল সাদা থেকে শুরু করে কালো-কমলা রঙের বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ভার‍তের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে চলেছে এবং দেশের গর্ব বিশ্ব মঞ্চে আরও বাড়িয়ে তুলছে। তবে বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বিদ্যুতের গতিতে ভাইরাল হচ্ছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে কমলা-কমলা রঙের ‘বন্দে ভারত’ ট্রেনটি কুয়াশাচ্ছন্ন পশ্চিমঘাট পর্বতমালার মধ্যে দিয়ে ছুটে চলেছে নিজের গন্তব্যে। এই ড্রোন শট সকলকে অবাক করে রেখে দিয়েছে।

পশ্চিমঘাটে ছুটল ‘কমলা সাপ’ বন্দে ভারত

ভিডিওটি লং শট থেকে দেখলে মনে হবে যেন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে একটি ‘কমলা সাপ’ বেয়ে যাচ্ছে। উফফ সে অসাধারণ দৃশ্য রেল প্রেমীরা ভুলতেই পারছেন না। কর্ণাটকের সাকলেশপুর-সুব্রহ্মণ্য রোড ঘাট সেকশনে, যা শিরাডি ঘাট সেকশন নামেও পরিচিত, সম্প্রতি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের একটি পরীক্ষামূলক যাত্রার সময় এই নজরকাড়া দৃশ্যগুলো ড্রোনবন্দি করা হয়। আকাশ থেকে তোলা এই দৃশ্যটি বন্দে ভারত ট্রেনের এক রুদ্ধশ্বাস রূপ তুলে ধরে। খোলা রেললাইনে তীব্র গতিতে ছুটে চলা বা কোনো ব্যস্ত স্টেশনে প্রবেশ করার পরিচিত ছবির পরিবর্তে, ভিডিওটিতে দেখা যায় ট্রেনটি ভারতের অন্যতম দুর্গম রেল ভূখণ্ড অতিক্রম করছে। মনে করা হচ্ছে, এই রুটের নতুন ট্রেনটি ভারতীয় রেলের ইতিহাসকে বদলে রেখে দিতে পারে।

রেকর্ড গড়ল রেল

যদিও কর্ণাটকের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার এই পথটি সাকলেশপুর-সুব্রহ্মণ্য রোড সেকশন বা শিরাডি ঘাট সেকশন নামে পরিচিত। এই সেকশনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৫ কিলোমিটার। যদিও এই পথে বন্দে ভারত ট্রেন চালানো রেল কর্তৃপক্ষের জন্য সহজ ছিল না। অনেক বড় বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল রেলের সামনে। এই পথে ৫৭টি টানেল, ২২৬টি সেতু, ১০৮টি তীক্ষ্ণ বাঁক এবং প্রতি ৫০ মিটার দূরত্বে ১ মিটার উচ্চতার পরিবর্তন রয়েছে। এছাড়াও, এই সেকশনের অনেক অংশ ভূমিধস-প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। সেখানে এই ট্রেনের ট্রায়াল রান মুখের কথা নয়। যদিও এই ট্রায়াল রান সফল হয়েছেই বলে খবর।

এই রুটের বিদ্যুতায়নের কাজ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়। প্রায় ৫৫ কিলোমিটার এলাকায় ওভারহেড বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বসানোর পাশাপাশি পাঁচটি সুইচিং স্টেশন তৈরি করা হয়। প্রকল্পে খরচ হয়েছে প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন টাকা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, টানেল এবং বর্ষার কারণে কাজটি বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। সড়কপথে পৌঁছানো যায় না এমন এলাকায় ট্রেনের মাধ্যমে নির্মাণসামগ্রী ও সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে হয়েছিল। বিশেষ করে টানেলের ভিতরে বিদ্যুতায়নের কাজ ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

বিদ্যুতায়ন শেষ হওয়ার পর এই রুটে মালবাহী ও যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের অনুমতি মিললেও বন্দে ভারত চালানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তার প্রয়োজন দেখা দেয়। কারণ বন্দে ভারত একটি স্বচালিত ট্রেনসেট, যার জন্য আলাদা লোকোমোটিভের প্রয়োজন হয় না। ট্রেনের বগির নিচে থাকা মোটরই সরাসরি চলার শক্তি উৎপন্ন করে।