সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এর আগে দিল্লির যন্তরমন্তরে জোরপূর্বক প্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা (CJP Leader) সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রঙ্কা। গতকাল দিল্লিতে ইন্ডি জোটের আন্দোলনে যোগদান করেনি ককরোচরা। তাঁদের কর্মসূচির ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ নিয়েই উঠতে শুরু করেছিল প্রশ্ন। তবে এরই মধ্যে বড় মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতির। অভিজিৎ, সৌরভ, আশুতোষদের রাজনৈতিক জীবন শেষ বলেই মন্তব্য করেছেন তিনি। এমনকি কয়েক মাসের মধ্যেই নাকি তাঁরা জেলে যাবেন বলে মন্তব্য বিচারপতির।
ককরোচ নেতাদের নিয়ে বড় মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতির
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মার্কান্ডেয় কাটজু অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রঙ্কার রাজনৈতিক জীবন শেষ হয়ে গিয়েছে বলেই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “সিজেপির নেতারা একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে ইতিমধ্যেই তাঁদের রাজনৈতিক জীবন শেষের কথা ঘোষণা করেছেন। যদি তাঁরা এটি লঙ্ঘন করে পুনরায় প্রতিবাদ করেন, তাহলে তাঁদের জেলে পাঠানো হবে। সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রঙ্কাকে মাত্র এক সপ্তাহের জন্য জেলে পাঠানো হয়েছিল। তবে তাঁরা যদি আবার প্রতিবাদ করেন, তাহলে পুলিশ তাঁদের দীর্ঘমেয়াদের জন্য জেলে পাঠাবে। সেই কারণে তাঁরা ভীত।”
প্রসঙ্গত, সৌরভ, আশুতোষদের গ্রেফতার করার পর তাঁরা শর্তসাপেক্ষে পিসবন্ডে সই করে মুক্তি পেয়েছিলেন। সেই কারণেই আপাতত তাঁরা ইন্ডি জোটের আন্দোলন থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই সূত্রে এক ইউটিউব চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে প্রাক্তন বিচারপতি বলেন, সিজেপি নেতাদের ভাবমূর্তি এখন পলাতকদের মতো হয়ে গেছে এবং শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার কারণে জনগণ তাঁদের আর বিশ্বাস করবে না।
কাটজুর কথায়, “যারা শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন তাঁদের রাজনৈতিক জীবন শেষ। জনগণ তাঁদের আর কখনও বিশ্বাস করবে না। কারণ, তাঁরা পলাতকদের ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন। ব্রিটিশ শাসনকালে গ্রেফতার হওয়া বিপ্লবীদের বলা হত যে ক্ষমা চাইলে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হবে। নইলে তাঁরা কালাপানিতে পচে মরবে। তাঁরা যে ক্ষমাপ্রার্থনাপত্র লিখেছিলেন, তাতে তাঁদের রাজনৈতিক জীবন শেষ হয়ে গিয়েছিল। জনগণ কি কখনও এমন লোকদের আর বিশ্বাস করবে?”
আরও পড়ুন: মেয়ের অ্যাকাউন্টেও কোটি কোটি টাকা লেনদেন! এবার ইন্দ্রনীলের কন্যাকে তলব পুলিশের
এমনকি তিনি আরও বলেন, শান্তি চুক্তি মানে কী? এর মানে হল আপনি লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে আপনি কখনও আর প্রতিবাদ করবেন না। যদি প্রতিবাদ করেন, পুলিশ বলবে আপনি শান্তিভঙ্গ করেছেন। আপনি শান্তি চুক্তি ভঙ্গ করলে আপনাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য জেলে যেতে হবে। সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রঙ্কা এক সপ্তাহ ধরে জেলে ছিলেন। তাঁরা কয়েক মাসের মধ্যেই আবার জেলে যাবেন। এখন এই লোকগুলি জেলে যেতে ভয় পায়। সুতরাং, সিজেপির দিন শেষ। তাঁদের মেরুদন্ড ভেঙে গিয়েছে। শান্তি চুক্তিতে সই করেই তাঁরা শেষ।”










