সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ২০১১-তে শেষবার জনগণনায় দেশে ভিক্ষাবৃত্তির নিরিখে প্রথমেই ছিল পশ্চিমবঙ্গ। তবে দীর্ঘ ১৫ বছর পর এবারের জনগণনায় ভিক্ষাবৃত্তির পরিসংখ্যান রাখা হবে না বলেই খবর। অর্থাৎ, এবার থেকে আর জানা যাবে না যে দেশের কোন রাজ্যে ভিক্ষুকের (Beggar) সংখ্যা সবথেকে বেশি। কারণ, এনুমারেশনের ক্ষেত্রে অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত নয় এরকম কার্যকলাপের তালিকা থাকে ‘ভিক্ষুক এবং ভবঘুরে ইত্যাদি’ এই সেকশনটিকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
জনগণনায় বাদ ভিক্ষুকের পরিসংখ্যান
২০১১ সালে যখন জনগণনা হয়েছিল, তখন পশ্চিমবঙ্গে ভিক্ষুকের সংখ্যা ছিল ৮১ হাজার ২৪৪ জন। এরপরেই ছিল উত্তরপ্রদেশ, যেখানে ৬৫ হাজার ৮৩৫ জনকে ভিক্ষুক হিসাবে নথিভুক্ত করা হয়। এরপর ছিল যথাক্রমে অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার এবং মধ্যপ্রদেশ। এই রাজ্যগুলিতে ভিক্ষুকের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৩০ হাজার ২১৮ জন, ২৯ হাজার ৭২৩ জন এবং ২৮ হাজার ৬৯৫ জন। তবে ২০১১ বা তার পূর্ববর্তী জনগণনাগুলিতে ভিক্ষুক বা ভবঘুরেদের যে সংখ্যা পাওয়া গিয়েছে, তা নির্ভরযোগ্য তথ্য বলে বিবেচনা করা হয়নি কেন্দ্রের তরফ থেকে। কারণ, অনেকেই সমাজে কলঙ্কিত হওয়ার ভয়ে নিজেদের ভিক্ষুক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেননি।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি রিপোর্ট বলছে, ১৯৯১ এবং ২০০১ সালের জনগণনাতেও ভিক্ষাবৃত্তির কোনও সঠিক তথ্য সামনে আসেনি। ১৯৯১ সালে মোট ৫ লক্ষের কাছাকাছি, ২০০১ সালে ৬ লক্ষের কিছু বেশি মানুষ এবং ২০১১ সালে ৪ লক্ষের কিছু বেশি মানুষকে ভিক্ষুক বা ভবঘুরে হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। এই পরিসংখ্যান থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার জনগণনার ক্ষেত্রে ভিক্ষুক বা ভবঘুরে সেকশন বাদ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: যোগ্যদের স্বস্তি, ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের
আসলে ২০১১ কিংবা তার পূর্ববর্তী জনগণনাগুলিতে নন ইকোনমিক অ্যাক্টিভিটির তালিকায় আর্থিক বিভিন্ন অবস্থা যেমন পড়ুয়া, চাকরিজীবী, পেনশনভোগী, গৃহস্থলীর কাজের সঙ্গে যুক্ত, বেকার, ব্যবসায়ী ইত্যাদি শ্রেণীর মানুষজনদের পাশাপাশি ভিক্ষুক বা ভবঘুরেদেরকে আলাদাভাবে নথিভুক্ত করা হতো। কিন্তু এবার থেকে তাঁদের অন্য একটি বিভাগের মধ্যে দেখানো হবে বলেই জানা গিয়েছে। তাই ২০২৬ এর জনগণনায় বোঝা যাবে না যে, কোন রাজ্যে কজন ভিক্ষুক আছেন, তাঁর পরিচয় কী বা পড়াশোনা কতদূর।










