১৭০০ বছরের পুরনো এই মন্দিরে মানত করলেই চাকরি হয় যুবক-যুবতীদের! রইল ঠিকানা

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং ব্যাপক প্রতিযোগিতার কারণে চিনের বহু মেধাবী ছেলে-মেয়ে নিজেদের জন্য একটা সুরক্ষিত চাকরি (Job) জোটাতে ব্যর্থ হন। কেউ কেউ আবার চাকরি পেয়ে গেলেও নিয়মিত বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় সংসারের যাবতীয় খরচ মেটাতে একেবারে হিমশিম খান। আর এইসব সমস্যার সমাধানের জন্য চিনের একটা বড় অংশের যুবক-যুবতী ভক্তির রাস্তা বেছে নিয়েছেন। চাকরি না পাওয়া থেকে শুরু করে চাকরিতে বেতন বৃদ্ধি না হওয়ার মতো সমস্যাগুলি থেকে নিস্তার পেতে সাংহাইয়ের এক ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে (Old Temple) গিয়ে মানত করে আসেন তাঁরা (Temple Prayer For Jobs)। তারপরেই নাকি মেলে সুফল!

এই মন্দিরে মানত করলেই মেলে চাকরি!

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, চিনের সাংহাইয়ের লংহুয়া মন্দিরটি (Longhua Temple Shanghai) 1700 বছরেরও বেশি পুরনো। বিশেষ করে চিনের যুবসমাজের কাছে এই মন্দিরের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। শুধুমাত্র ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য নয় বরং ভাল চাকরি, চাকরিতে মোটা বেতন, পরীক্ষায় সাফল্য, সফল কর্মজীবনের মতো একাধিক আশা নিয়ে লংহুয়া মন্দিরটিতে গিয়ে মানত করেন ড্রাগনের দেশের বহু ছেলে মেয়ে।

মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয়দের বক্তব্য, প্রায় প্রতিদিন বহু যুবক-যুবতী নিজেদের নানান সমস্যা নিয়ে এই মন্দিরে আসেন। প্রত্যেকে সারিবদ্ধভাবে হাতে ধূপকাঠি নিয়ে আপন মনে ধ্যানমগ্ন হয়ে থাকেন। কেউ কেউ আবার লাল সুতো নিয়ে গাছে বাঁধেন, কেউ আবার মাথা নিচু করে প্রণাম করে বেরিয়ে যান। কর্মজীবনের সমস্যার সমাধান থেকে শুরু করে পারিবারিক অশান্তি থেকে নিস্তার, ব্যবসায় উন্নতি, ভাল চাকরির মতো একাধিক আশা নিয়ে এই মন্দিরে মানত করেন চিনের তরুণ প্রজন্ম। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই মন্দিরে মানত করার পর অনেকেই নাকি সুফল পেয়েছেন।

সম্প্রতি চিনের বাসিন্দা কেসি কাং ওই মন্দিরে গিয়ে নিজের নতুন চাকরিতে স্থায়িত্বের জন্য প্রার্থনা করে এসেছেন। এর আগে তিনি যে সংস্থায় কাজ করতেন সেখানে দিন দিন কাজের পরিমাণ বাড়লেও বেতন বাড়েনি। ঠিক সে কারণেই নতুন চাকরি খুঁজে নিয়েছেন কেসি। তাঁর কথায়, “দেশে চাকরির সুযোগ দিন দিন কমছে। এদিকে বাড়ছে প্রতিযোগিতা। এখন চাকরি খোঁজা মানে আবর্জনার স্তুপ থেকে সবচেয়ে খারাপ এবং নোংরা জিনিসটা তুলে নেওয়া!”

আরও পড়ুন: ভারতের বন্ধু দেশের মাটির নিচে মিলল গুপ্তধন, আয় হবে কয়েকশো কোটি ডলার

2018 সালের এক সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, স্বল্প খরচে মানসিক শান্তি এবং মেয়েদের কর্মজীবনের উন্নতির জন্য মন্দিরে যাচ্ছেন চিনের তরুণরা। এ প্রসঙ্গে, পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ফেংগাং ইয়াং জানিয়েছেন, চিনের নাগরিকদের কাছে মন্দিরে যাওয়া সংস্কৃতির একটা অংশ। তাঁরা নানান সমস্যা নিয়ে এবং মানসিক শান্তির খোঁজে বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করেন।

আরও China Job Temple