SSC দুর্নীতি মামলায় ‘রেট চার্ট’ পেশ! নেওয়া হত লাখ লাখ টাকা, চার্জশিট ED-র

Published:

SSC Recruitment Scam

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (SSC Recruitment Scam) প্রকাশ্যে এল বড় তথ্য..কোন পদে চাকরি পেতে কত টাকা দিতে হত অযোগ্যদের সেই ‘রেট চার্ট’ তুলে ধরে বিস্ফোরক অভিযোগ আনল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ED (Enforcement Directorate)। তাঁদের দাবি, অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দিতে পদ অনুযায়ী নির্দিষ্ট টাকা নেওয়া হত আর তারপরেই মুদি দোকানের জিনিস বিক্রির মত SSC গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি-র চাকরিও ‘বিক্রি’ হত। আর এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই বিপাকে পড়লেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee), অর্পিতা মুখোপাধ্যায়, কুন্তল ঘোষ এবং প্রসন্ন রায়।

SSC মামলায় চার্জশিট জমা ED-র

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল, সোমবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট আদালতে SSC গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রথম চার্জশিট জমা দিয়েছে। এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অর্পিতা মুখোপাধ্যায়, কুন্তল ঘোষ, প্রসন্ন রায়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। আর সেখানেই দেখা গিয়েছে চাকরি দুর্নীতির বিস্ময়কর রেটচার্ট। ED-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে SSC গ্রুপ C ও গ্রুপ D পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রেট চার্ট রয়েছে। গ্রুপ সি পদের জন্য ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা দিতে হয়েছে। এবং গ্রুপ ডি পদের জন্য ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকায় চাকরি বিক্রি করা হয়েছে।

করানো হত ব়্যাঙ্ক জাম্প

চার্জশিটে ED আরও জানিয়েছে, OMR শিট জাল করা হয়েছে। শুধু টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়াই নয়, টাকা দেওয়ার বিনিময়ে প্রার্থীদের র‌্যাঙ্কে বদল করা অর্থাৎ ব়্যাঙ্ক জাম্প করানো হত। অর্থাৎ প্যানেলের বাইরে নিয়োগ, প্যানেলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও নিয়োগ এবং পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে অনিয়মের মতো একাধিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি ইডির। তদন্তকারীদের দাবি, এই নিয়োগ দুর্নীতির পরিমাণ ইতিমধ্যেই প্রায় ৬৩০.৪ কোটি টাকা বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে তদন্ত এখনও শেষ হয়নি, আরও লেনদেনের তথ্য সামনে আসতে চলেছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনাকে ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: বার্ধক্য থেকে বিধবা ভাতা বেড়ে ২০০০, করতে হবে নতুন আবেদন, ঘোষণা সরকারের

প্রসঙ্গত, বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। প্রায় সাড়ে ৩ বছর জেলে থাকার পর গত বছরের নভেম্বরে জামিনে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ও জামিনে রয়েছেন। পরে তদন্ত এগোতে থাকায় সম্প্রতি ED-র এই নতুন চার্জশিট প্রকাশ্যে আসায় ফের বিপাকে পড়তে চলেছেন পার্থ এবং অর্পিতা।